বাজারে এসেই পকোড়া-বাদাম, শেষে এক ভাঁড় চা চাই-ই, চার বছর ধরে ভান্ডারহাটিতে দুই হনুমানের নিত্য আড্ডা
মানুষের পূর্বপুরুষ নাকি বানর ছিল। ওই শিম্পাঞ্জি, গরিলা গোত্র আর কী! হঠাৎ এই কথা কেন? আসলে সন্ধ্যায় একটু চা না হলে অনেকেরই চলে না। সঙ্গে পকোড়া থাকলে তো জমে ক্ষীর। হুগলির দুই হনুমানেরও সেই একই অভ্যাস। চা, পকোড়ার লোভেই রোজ ভান্ডারহাটি বাজারে হাজির হয় তারা। আয়েস করে খেয়েদেয়ে আবার জঙ্গলে ফিরে যায়।
ভাণ্ডারহাটি বাজারে একটি ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে। এগরোল, মোগলাই, পকোড়া বিক্রি হয়। অফিস ফেরত অনেকেই মোগলাই বা এগরোল কিনে বাড়ি ফেরেন। পাশেই চায়ের দোকান। সেখানেও আড্ডা জমে ওঠে। বেশিরভাগই রোজকারের খদ্দের। সন্ধ্যা হলেই ভিড় বাড়তে থাকে। সেই সময়ে হাজির হয় দু’টি হনুমান।
গত চার বছর ধরে একই রুটিন। ফাস্ট ফুডের দোকানের সামনে বাইক রেখে একটু আড্ডা দেন স্থানীয় বাসিন্দা সৌমিত্র পুরকাইত। হনুমান দু’টি এসে তাঁর বাইকে জাঁকিয়ে বসে। যেন সিংহাসন। তাদের আগমনে গোটা বাজারে হুলস্থূল পড়ে যায়। না, ভয়ে নয়, ভালোবাসায়। কেউ হাঁক পাড়েন, ‘ওরে এসে গিয়েছে।’ আবার কেউ বলে ওঠেন, ‘পকোড়া লে আও, জলদি।’
সোমবার সন্ধ্যায় একটি হনুমানই এসেছিল। জুটি বোধহয় অন্য কাজে ব্যস্ত। নিয়ম মতো, তার সামনে এক প্লেট পকোড়া সাজিয়ে দিলেন ফাস্ট ফুড দোকানের কর্মী অভিজিৎ দোলুই। জমিদার মশাইয়ের আঙুর খাওয়ার কায়দায় একটা একটা করে পকোড়া মুখে ঢোকাল সে। তার পরে বাদাম চাই। তা-ও এল। পথচলতি কেউ কেউ কলা দিলেন। হাসিমুখে সেটিও সাবাড় করল।
কিন্তু তার পরেও যাওয়ার নাম নেই। ব্যাপারটা কী। পাশ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা অলক চক্রবর্তী বললেন, ‘দাঁড়ান, এখনও চা খাওয়া হয়নি তো।’ বলতে না বলতেই মাটির ভাঁড়ে চা হাজির। নিমেষে শেষ। তার পরেই হনুমান বাবাজি উধাও। অলক হাসছেন, ‘দেখলেন তো।’ তাঁর কথায়, ‘সবই ভালো। শুধু একটাই বদভ্যাস, সামনে দিয়ে কেউ গেলে, পিছনে থেকে লাথি মেরে দেয়।’
বাঁদর একটু আধটু বাঁদড়ামি করবে না, তা বললে হবে? এমন কথা শুনে হাসতে হাসতে এগিয়ে এলেন সৌমিত্র। হাতে এক প্যাকেট বাদাম, ‘আমাকে একদম দেখতে পারে না। কিন্তু আমার বাইকেইবসা চাই। বাদাম দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে নামাই। একদিন অলকদার হাত টেনে ধরেছিল।’ পাশে বসে হাসছেন অলক। কে যেন বলে উঠলেন, ‘ওটা বোধহয় বন্ধুত্ব করবে বলে।’ বাঁদরের বাঁদরামি যে তারা বেশ উপভোগ করেন, সেটা স্পষ্ট।