Tata Nexon স্পাইড! নতুন প্রজন্মের এসইউভিতে আসছে বড় পরিবর্তন?
গুরুগাঁও: টাটার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া এসইউভিগুলির মধ্যে অন্যতম নেক্সন। আকর্ষণীয় ডিজাইন, একাধিক ফিচার, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পাওয়ারট্রেনের বিকল্পের কারণে গাড়িটি এই সেগমেন্টে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। এবার নেক্সনের বড়সড় প্রজন্ম পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে টাটা, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে মহারাষ্ট্রের হাইওয়েতে পরীক্ষামূলকভাবে চলতে দেখা একটি নতুন নেক্সনের ছবি থেকে। বর্তমান প্রজন্মের নেক্সন বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে রয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের মডেল নিয়ে প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। স্পাই শটে দেখা গাড়িটির কিছু ডিজাইন পরিবর্তন সেই সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করছে।
স্পাই শটে নেক্সনের নতুন ডিজাইনের ইঙ্গিত
প্রথম নজরে নতুন নেক্সনের সিলুয়েট বর্তমান মডেলের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। গাড়িতে স্লোপিং রুফলাইন, একই ধরনের ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল এবং ওআরভিএম দেখা যাচ্ছে। তবে কাছ থেকে দেখলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নজরে আসে। বর্তমান নেক্সনের এ-পিলারের আকৃতি তুলনামূলকভাবে গোলাকার। স্পাই শটে দেখা নতুন মডেলে এ-পিলার কিছুটা বেশি ধারালো আকৃতির বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া পিছনের দরজার আকৃতিতেও বর্তমান মডেলের তুলনায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি শুধু ফেসলিফট নয়, বরং নতুন প্রজন্মের নেক্সন আসার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিতে পারে।
পিছনের অংশেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা
গাড়ির পিছনের অংশে টেলগেটের আকৃতিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন মডেলে তুলনামূলকভাবে বেশি ধারালো রিয়ার স্পয়লার থাকতে পারে এছাড়া স্পাই শটে হিডেন রিয়ার ওয়াইপার এবং নতুন এলইডি টেলল্যাম্পের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। রিয়ার বাম্পারের নকশাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে স্পাই শটে গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ঢাকা থাকায় চূড়ান্ত ডিজাইন সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
কেবিনে আসতে পারে বড় আপডেট
স্পাই ছবিতে গাড়ির ইন্টেরিয়র পরিষ্কারভাবে দেখা যায়নি। তবে নতুন প্রজন্মের নেক্সনে কেবিনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন ক্যাবিন থিমের পাশাপাশি নতুন ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন এবং আপডেটেড ইউজার ইন্টারফেস পাওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে সামনের দিকে পাওয়ারড এবং ভেন্টিলেটেড সিট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বর্তমান নেক্সনে রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন, যেখানে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার্স ডিসপ্লে, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার, বড় প্যানোরামিক সানরুফ এবং ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সুবিধা। গাড়িতে লেদারেট সিট আপহোলস্ট্রিও রয়েছে। নতুন প্রজন্মের মডেলে এই ফিচারগুলির পাশাপাশি আরও কিছু সুবিধা যুক্ত হতে পারে।

নিরাপত্তায়ও থাকবে জোর
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নেক্সন এই সেগমেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি। বর্তমান মডেল ৫-স্টার ভারত এনক্যাপ রেটিং পেয়েছে। নতুন প্রজন্মের মডেলেও একই ধরনের নিরাপত্তা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমান নেক্সনে রয়েছে লেভেল-২ অ্যাডাস বা অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম। এর সঙ্গে রয়েছে ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর, রেন-সেন্সিং ওয়াইপার, অটোমেটিক হেডল্যাম্প এবং টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম বা টিপিএমএস। এছাড়াও রয়েছে ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল বা ইএসসি, ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক বা ইপিবি, ৬টি এয়ারব্যাগ এবং আইএসওফিক্স চাইল্ড সিট মাউন্ট। নতুন প্রজন্মের নেক্সনে নিরাপত্তার এই প্যাকেজ আরও উন্নত হতে পারে।
ইঞ্জিনে বড় পরিবর্তন নাও হতে পারে
নতুন ২০২৭ টাটা নেক্সন-এ বর্তমান মডেলের পাওয়ারট্রেন বিকল্পগুলিই চালু থাকতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বর্তমান পাওয়ারট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে ১.২-লিটার টার্বো-পেট্রোল, ১.২-লিটার টার্বো-পেট্রোল ও সিএনজি এবং ১.৫-লিটার ডিজেল।
১.২-লিটার টার্বো-পেট্রোল
এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ১২০ পিএস শক্তি এবং ১৭০ এনএম টর্ক পাওয়া যায়। এর সঙ্গে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল, ৬-স্পিড ম্যানুয়াল, ৬-স্পিড এএমটি এবং ৭-স্পিড ডিসিএ গিয়ারবক্সের বিকল্প রয়েছে।
১.২-লিটার টার্বো-পেট্রোল + সিএনজি
সিএনজি সংস্করণে ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১০০ পিএস শক্তি এবং ১৭০ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। এই পাওয়ারট্রেনের সঙ্গে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স রয়েছে।
১.৫-লিটার ডিজেল
ডিজেল ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ১১৫ পিএস শক্তি এবং ২৬০ এনএম টর্ক পাওয়া যায়। এর সঙ্গে ৬-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৬-স্পিড এএমটি গিয়ারবক্সের বিকল্প রয়েছে। এখানে এমটি বলতে ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন, এএমটি বলতে অটোমেটেড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এবং ডিসিএ বলতে ডুয়াল ক্লাচ অটোমেটিক বোঝানো হয়েছে।
দাম কত হতে পারে?
বর্তমান প্রজন্মের টাটা নেক্সনের দাম ৭.৪০ লাখ টাকা থেকে শুরু হয় এবং টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম ১৪.৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত যায়। দুটিই এক্স-শোরুম দাম। টাটা সম্প্রতি তার যাত্রীবাহী গাড়িগুলির দাম বাড়িয়েছে। তাই নতুন নেক্সনের দামও বর্তমান মডেলের তুলনায় বাড়তে পারে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী নতুন নেক্সনের দাম ৩০,০০০ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
নেক্সনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
ভারতের কমপ্যাক্ট এসইউভি বাজারে নেক্সনের প্রতিযোগিতা বেশ শক্তিশালী। এর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে:
- মারুতি ব্রেজা
- হুন্ডাই ভেন্যু
- মাহিন্দ্রা এক্সইউভি ৩এক্সও
- নিসান ম্যাগনাইট
- মারুতি ফ্রঙ্কস
- টয়োটা তাইসর
- রেনল্ট কাইগার
- কিয়া সাইরস
- কিয়া সনেট
নতুন নেক্সন কতটা বদলাবে?
স্পাই শটে দেখা পরিবর্তনগুলি থেকে মনে হচ্ছে, টাটা শুধু বর্তমান নেক্সনে সামান্য ডিজাইন পরিবর্তন না করে গাড়িটির নতুন প্রজন্ম নিয়ে কাজ করতে পারে। এ-পিলারের পরিবর্তিত আকৃতি, নতুন রিয়ার ডোর, আলাদা টেলগেট, নতুন এলইডি টেলল্যাম্প এবং হিডেন রিয়ার ওয়াইপারের মতো পরিবর্তন সেই সম্ভাবনাকে জোরালো করছে। কেবিনেও বড় আপডেট, নতুন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং আরও আধুনিক ফিচার যুক্ত হতে পারে।
তবে এখনও গাড়িটির চূড়ান্ত ডিজাইন, ফিচার এবং পাওয়ারট্রেন সম্পর্কে টাটা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে স্পাই শট এবং বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে এগুলিকে সম্ভাব্য পরিবর্তন হিসেবেই দেখতে হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৭ টাটা নেক্সন যদি সত্যিই নতুন প্রজন্মের মডেল হিসেবে বাজারে আসে, তাহলে ডিজাইন, কেবিন এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড় আপগ্রেড দেখা যেতে পারে। তবে এর বর্তমান শক্তিশালী পাওয়ারট্রেন লাইনআপ বজায় থাকলে নতুন নেক্সন একই সঙ্গে পরিচিত পারফরম্যান্স এবং নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন