Subhash Chandra: ধাক্কা খেলেন সুভাষ চন্দ্র, বড় নির্দেশ NCLT-র নতুন ৫ সদস্যের বেঞ্চের | New 5 Member Bench Of NCLT Stays Subhash Chandra’s Rs 6.25 Crore Repayment Plan, Bars Asset Transfer
নয়াদিল্লি: ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণে জামিনদার তিনি। তাঁকে ৬.২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল। এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এবার ওই ঋণ শোধ নিয়ে বড় ধাক্কা খেলেন এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র। মঙ্গলবার ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (NCLT) নতুন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সুভাষ চন্দ্রের ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবে অনুমোদন স্থগিত করল। আগের বেঞ্চের অনুমোদনের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আরও নির্দেশ দিয়েছে, তিনি একজন জামিনদার হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কারও কাছে তাঁর সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারবেন না।
আগের বেঞ্চের সদস্যের মধ্যে মতবিরোধের কারণে বিষয়টি এখন এনসিএলটি-র পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। NCLT-র প্রেসিডেন্ট বিচারপতি অনুপিন্দর সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চে রয়েছেন জুডিশিয়াল মেম্বার বাচু ভেঙ্কট বালারা দাস ও মহেন্দ্র খান্ডেলওয়াল এবং টেকনিক্যাল মেম্বার অতুল চতুর্বেদী ও রবীন্দ্র চতুর্বেদী। ঋণদাতাদের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার আবেদনের ভিত্তিতে বেঞ্চ সুভাষ চন্দ্রকে তাঁর সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রি করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বেঞ্চের নির্দেশ, “আমরা আরও নির্দেশ দিচ্ছি যে গ্যারান্টার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনও সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন না।” একইসঙ্গে মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে বেঞ্চ।
কেন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে গেল মামলা?
২০১৬ সালের দেউলিয়া সংক্রান্ত আইন (IBC)-র অধীনে সুভাষ চন্দ্রের ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবে অনুমোদন এবং তার পরিধি নিয়ে আগের বেঞ্চের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। দুই সদস্যের মূল বেঞ্চে কোনও সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিষয়টি পাঁচ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো হয়।
কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ২০১৩-এর ৪১৯(৫) ধারায় কোনও মামলায় শুনানি করা সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য হলে বৃহত্তর বেঞ্চে বিষয়টি পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। মূল বেঞ্চে জুডিশিয়াল মেম্বার অশোক কুমার ভরদ্বাজ এবং টেকনিক্যাল মেম্বার রীনা সিনহা পুরি ছিলেন। এমনকি তৃতীয় সদস্যের কাছে বিষয়টি পাঠানোর পরও তাঁরা জানিয়েছিলেন, “কোনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত পাওয়া যাচ্ছে না।”
সুভাষ চন্দ্রের প্রস্তাবে ঋণদাতাদের জন্য ৬.২৫ কোটি টাকা এবং প্রক্রিয়াগত খরচ বাবদ আরও ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অথচ ঋণদাতারা পান ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ ‘হেয়ারকাট’-র প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ৮০.৮১৪ শতাংশ ভোটিং শেয়ার দখলে থাকা ঋণদাতারা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
আগের বেঞ্চে কী হয়েছিল?
মূল NCLT বেঞ্চে এই প্রস্তাব নিয়ে বিভক্ত রায় হয়েছিল। জুডিশিয়াল মেম্বার প্রস্তাবটি অনুমোদনের পক্ষে ছিলেন এবং তাঁর মত ছিল, যাঁরা প্রস্তাবটি গ্রহণ ও অনুমোদন করেছেন, তা মূলত তাঁদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। অন্যদিকে টেকনিক্যাল মেম্বার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
এরপর বিষয়টি তৃতীয় সদস্যের কাছে পাঠানো হয়। গত ২৫ অগস্টের একটি আদেশে জুডিশিয়াল মেম্বার নীলেশ শর্মা প্রস্তাবটি অনুমোদনের পক্ষে মত দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঋণদাতা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিছু ঋণদাতার বিরোধিতা বা সুভাষ চন্দ্রের আর্থিক বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকলেই প্রস্তাবটি অনুমোদনের অযোগ্য হয়ে যায় না।
কিন্তু মামলাটি ফের মূল দুই সদস্যের বেঞ্চে ফিরে এলে তারা লক্ষ্য করে, তৃতীয় সদস্য মূল দুই সদস্যের মতপার্থক্য মেটানোর পরিবর্তে একটি স্বতন্ত্র আদেশ দিয়েছেন। ফলে মামলাটি নতুন করে গঠিত পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের নতুন বেঞ্চ এদিন সুভাষ চন্দ্রের ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবে অনুমোদন স্থগিত করল। তাঁর সম্পত্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হস্তান্তরের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং মামলার সব পক্ষকে নোটিস পাঠাল।