MG Hector Tomahawk এসেন্স ভ্যারিয়েন্টে কী কী আছে? ১১০০ কিমি রেঞ্জের সঙ্গে মিলবে এত ফিচার? - 24 Ghanta Bangla News
Home

MG Hector Tomahawk এসেন্স ভ্যারিয়েন্টে কী কী আছে? ১১০০ কিমি রেঞ্জের সঙ্গে মিলবে এত ফিচার?

Spread the love

গুরুগাঁও: ভারতের ৭-সিটার এসইউভি বাজারে নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড বিকল্প নিয়ে এসেছে এমজি। সংস্থার নতুন এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে, এক্সক্লুসিভ এবং এসেন্স।…

গুরুগাঁও: ভারতের ৭-সিটার এসইউভি বাজারে নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড বিকল্প নিয়ে এসেছে এমজি। সংস্থার নতুন এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে, এক্সক্লুসিভ এবং এসেন্স। এর মধ্যে এসেন্স হল টপ-এন্ড ভ্যারিয়েন্ট। বড় আকারের এসইউভির সঙ্গে প্লাগ-ইন হাইব্রিড প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় গাড়িটি শহরের দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে শুরু করে দীর্ঘ দূরত্বের সফর, দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহারের নমনীয়তা দেওয়ার লক্ষ্য রাখে। তবে প্রশ্ন হল, টপ-এন্ড এসেন্স ভ্যারিয়েন্টের দাম এবং ফিচারের তালিকা কি এর পারফরম্যান্স ও রেঞ্জের সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ? দেখে নেওয়া যাক।

দাম কত?

এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভির দাম শুরু হচ্ছে ২৫.৭০ লাখ টাকা, এক্স-শোরুম থেকে। এসেন্স ভ্যারিয়েন্টের দাম ব্যাটারি-অ্যাস-এ-সার্ভিস বা বিএএএস-এর সঙ্গে আলাদা।

ভ্যারিয়েন্ট দাম
এসেন্স, বিএএএস ছাড়া ২৭.৮০ লাখ টাকা
এসেন্স, বিএএএস-সহ ২৩.৮৯ লাখ টাকা + প্রতি কিমি ৩.২ টাকা

সব দাম প্যান-ইন্ডিয়া এক্স-শোরুম।

বড় এবং আলাদা ডিজাইনের এসইউভি

এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি আকারে বড় এবং বক্সি ডিজাইনের। রাস্তায় এর উপস্থিতি যথেষ্ট নজরকাড়া। সামনের অংশে তুলনামূলকভাবে শক্তপোক্ত বা বাচ লুক রয়েছে। গাড়িটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য ডিজাইন উপাদান হল ব্যাকলিট এমজি লোগো। এর সঙ্গে রয়েছে হেডল্যাম্পের অনুভূমিক টুইন-এলইডি ডিআরএল সেটআপ। বাম্পারের দুই পাশে থাকা এয়ার কার্টেন গাড়ির এরোডায়নামিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। মাঝখানে রয়েছে ইঞ্জিনের জন্য বড় এয়ার ড্যাম। নিচে বড় ফক্স সিলভার স্কিড প্লেট সামনের ডিজাইন সম্পূর্ণ করেছে।

পাশে ১৮ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল

সাইড প্রোফাইলে গাড়িটির ৭-সিটার চরিত্র স্পষ্ট। তুলনামূলক নিচু উইন্ডো লাইন কেবিনে বেশি আলো ঢোকার সুযোগ তৈরি করে।  এখানে রয়েছে ১৮ ইঞ্চির ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল। উপরে রুফ রেল গাড়িটির এসইউভি লুক আরও স্পষ্ট করে। পিছনের অংশেও সামনের ডিজাইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে। এলইডি টেল ল্যাম্পে অনুভূমিকভাবে সাজানো ডিজাইন রয়েছে। তবে সামনের মতো পিছনে এমজি লোগোটি আলোকিত নয়। বুটলিডের নিচে পুরো প্রস্থ জুড়ে থাকা ক্যারেক্টার লাইন এবং তার নিচে নম্বর প্লেট হাউজিং রয়েছে। বাম্পারের নিচে ফক্স সিলভার স্কিড প্লেট দিয়ে পিছনের ডিজাইন শেষ করা হয়েছে।

কেবিনে বড় স্ক্রিন ও হালকা রঙের থিম

কেবিনে ঢুকলে আধুনিক ফ্ল্যাট ড্যাশবোর্ড নজরে পড়ে। ড্যাশবোর্ডের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। চালকের জন্য আলাদা ফ্লোটিং ডিজিটাল ডিসপ্লে রয়েছে। দুই-স্পোক স্টিয়ারিং হুইলে তুলনামূলক কম বোতাম রাখা হয়েছে। ফলে পুরো কেবিনেই সরল এবং আধুনিক ডিজাইনের ছাপ রয়েছে। বেইজ এবং কালো রঙের কেবিন থিম ভিতরের পরিবেশকে উজ্জ্বল করে। নিচু উইন্ডো লাইন, বড় প্যানোরামিক সানরুফ এবং স্লাইডিং সেকেন্ড রোয়ের কারণে কেবিনে জায়গার অনুভূতিও ভালো। তৃতীয় সারির আসন অবশ্য দীর্ঘ সময়ের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক নয়। তবে গড়পড়তা আকারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী সেখানে স্বল্প দূরত্বের যাত্রা করতে পারবেন।

ফিচারের তালিকা যথেষ্ট বড়

এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি এসেন্সে ফিচারের অভাব রাখেনি সংস্থা। গাড়িতে রয়েছে ১৫.৬ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট ডিসপ্লে, যার সঙ্গে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে রয়েছে। অডিওর জন্য রয়েছে ১০-স্পিকারের ইনফিনিটি সাউন্ড সিস্টেম। চালকের জন্য দেওয়া হয়েছে ৮.৮ ইঞ্চির ডিজিটাল ইনফরমেশন ডিসপ্লে। এছাড়াও রয়েছে:

  • অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল
  • কানেক্টেড কার প্রযুক্তি
  • বিল্ট-ইন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট
  • ভেহিকল-টু-লোড বা ভিটুএল
  • ভেহিকল-টু-হোম বা ভিটুএইচ রিভার্স চার্জিং
  • ইউএসবি-সি ফাস্ট চার্জিং পোর্ট
  • ওয়্যারলেস ফাস্ট চার্জার
  • অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল
  • ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট
  • পাওয়ারড ড্রাইভার সিট

নিরাপত্তাতেও একাধিক ফিচার

নিরাপত্তার জন্য এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি এসেন্সে রয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ। এর সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে এবিএস উইথ ইবিডি, হিল-হোল্ড কন্ট্রোল বা এইচএইচসি, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম বা টিপিএমএস, রেইন-সেন্সিং ওয়াইপার, অটো হেডল্যাম্প, আইএসওফিক্স চাইল্ড সিট মাউন্ট এবং ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি প্রোগ্রাম। এছাড়াও রয়েছে লেভেল-২ এডিএএস, সামনে ও পিছনে পার্কিং সেন্সর এবং ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা।

২০.৫ কিলোওয়াটআওয়ার ব্যাটারি ও ১১৫ কিমি বৈদ্যুতিক রেঞ্জ

এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভিতে একটি মাত্র পাওয়ারট্রেন বিকল্প রয়েছে। এতে রয়েছে ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন, যা অ্যাটকিনসন সাইকেলে কাজ করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০.৫ কিলোওয়াটআওয়ারের ব্যাটারি প্যাক এবং একটি ইলেকট্রিক মোটর।

স্পেসিফিকেশন তথ্য
ইঞ্জিন ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল
ব্যাটারি ২০.৫ কিলোওয়াটআওয়ার
ইলেকট্রিক মোটর ১টি
ইঞ্জিন পাওয়ার ১০২ পিএস
মোটর পাওয়ার ২০১ পিএস
ইঞ্জিন টর্ক ১২৫ এনএম
মোটর টর্ক ২৩৭ এনএম
ট্রান্সমিশন ডিএইচটি
বৈদ্যুতিক রেঞ্জ ১১৫ কিমি
সম্মিলিত দাবি করা রেঞ্জ ১১০০ কিমি

এখানে ডিএইচটি বলতে ডেডিকেটেড হাইব্রিড ট্রান্সমিশন বোঝানো হয়েছে। রেঞ্জের তথ্য এমআইডিসি পার্ট ১ + পার্ট ২ অনুযায়ী।

কার জন্য এই গাড়ি?

এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি মূলত এমন ক্রেতাদের লক্ষ্য করে তৈরি, যাঁরা বড় ৭-সিটার এসইউভি চান কিন্তু একই সঙ্গে শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতে বৈদ্যুতিক মোড ব্যবহারের সুবিধাও চান। ১১৫ কিমি পর্যন্ত দাবি করা বৈদ্যুতিক রেঞ্জ দৈনন্দিন অফিস যাতায়াতের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘ সফরে পেট্রোল-হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন ব্যবহারের সুযোগ থাকায় চার্জিং নিয়ে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার প্রয়োজন কম হতে পারে।

প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?

এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভির নির্দিষ্ট দামের মধ্যে সরাসরি অন্য কোনও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি নেই। তাই এর কাছাকাছি বিকল্প হিসেবে মূলত বৈদ্যুতিক এসইউভিগুলিকে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে এমজি হেক্টর টমাহক ইভি এবং মাহিন্দ্রা এক্সইভি ৯এস। এমজি হেক্টর টমাহক পিএইচইভি এসেন্সের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর ফিচারের তালিকা এবং পাওয়ারট্রেনের নমনীয়তা। ২৭.৮০ লাখ টাকা এক্স-শোরুম দামে গাড়িটি ৭-সিটার কেবিন, বড় ডিসপ্লে, প্রিমিয়াম অডিও, ভেন্টিলেটেড সিট, লেভেল-২ এডিএএস, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ভিটুএল ও ভিটুএইচ-এর মতো ফিচার দিচ্ছে। এর সঙ্গে ২০.৫ কিলোওয়াটআওয়ারের ব্যাটারি এবং ১১৫ কিমি পর্যন্ত বৈদ্যুতিক রেঞ্জ রয়েছে। সম্মিলিতভাবে দাবি করা রেঞ্জ ১১০০ কিমি।

যাঁদের ব্যবহারে শহরের দৈনিক যাতায়াতের পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বের সফরও রয়েছে, তাঁদের জন্য হেক্টর টমাহক পিএইচইভি একটি আলাদা ধরনের বিকল্প হতে পারে। তবে এই গাড়ির প্রকৃত আকর্ষণ নির্ভর করবে ক্রেতার ব্যবহারের ধরন এবং বিএএএস মডেলের প্রতি তাঁর আগ্রহের ওপর।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *