সুগারের মাত্রা কিছুতেই বশে আনতে পারছেন না, লেট নাইট ডিনারের অভ্যাস আছে কি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

সুগারের মাত্রা কিছুতেই বশে আনতে পারছেন না, লেট নাইট ডিনারের অভ্যাস আছে কি?

Spread the love

একই খাবার সন্ধ্যায় খেলে রক্তে শর্করার (Blood Sugar) মাত্রা যতটা বাড়ে, রাতে ঘুমোনোর ঠিক আগে খেলে তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ে। কিন্তু কেন এমন হয়? কী বলছেন চিকিৎসকরা?

রাতে রক্তে শর্করা বাড়ার প্রধান কারণ

  • সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm): মানবদেহের গ্লুকোজ় প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা শরীরের নিজস্ব ঘড়ির উপর নির্ভর করে। সকাল ও বিকেলে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল (Insulin Sensitive) থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে এই সংবেদনশীলতা কমতে শুরু করে।

  • শারীরিক সক্রিয়তা হ্রাস: রাতে খাওয়ার পর শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। ফলে পেশিগুলো গ্লুকোজ় কম ব্যবহার করে, যা রক্তের শর্করাকে দীর্ঘক্ষণ বাড়িয়ে রাখে।

পুষ্টিবিদরা আবার বলছেন, খাবারের উপাদান অর্থাৎ আপনি যা যা খাচ্ছেন এবং সময় অর্থাৎ কখন খাচ্ছেন— এই দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন, ফাইবার ও হেলদি ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার সুগার স্পাইক দ্রুত বাড়তে দেয় না। অন্যদিকে, কার্বোহাইড্রেট ও চিনিযুক্ত খাবার সেই কাজটিই চোখের নিমেষে করে ফেলে।

নিয়মিত দেরিতে খেলে কি ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ে?

হ্যাঁ, নিয়মিত রাতে দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে যে পরিবারে স্থূলতা বা ডায়াবিটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং প্রি-ডায়াবিটিস-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত?

  • যাঁরা ডায়াবেটিক এবং প্রি-ডায়াবেটিক।

  • ওবেসিটি (স্থূলতা), মেটাবলিক সিন্ড্রোম বা PCOS-এর রোগী।

  • নাইট শিফটে কর্মরত কর্মী।

সমস্যা এড়াতে কী করণীয়?

  • নির্দিষ্ট সময়: ঘুমোনোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাওয়া শেষ করুন।

  • হালকা হাঁটা: ডিনারের পর ১০-২০ মিনিটের হালকা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এই অভ্যাস রক্তের বাড়তি গ্লুকোজ় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

  • সুষম খাদ্য: রাতে কম শর্করা, পর্যাপ্ত ফাইবার ও প্রোটিন যুক্ত খাবার খান।

যে ভুলগুলো একেবারেই করা যাবে না

  • সারা দিন না খেয়ে রাতে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া।

  • অতিরিক্ত রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (যেমন ময়দা) ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া।

  • ভরপেট খেয়েই ঘুমিয়ে পড়া।

১. রাতে দেরিতে খেলে কেন রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে?

উত্তর: রাতের বেলা শরীরের নিজস্ব ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের কারণে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা (Insulin Sensitivity) স্বাভাবিক ভাবেই কমে যায়। এ ছাড়া রাতে শারীরিক সক্রিয়তা কম থাকায় পেশিগুলো গ্লুকোজ় ব্যবহার করতে পারে না, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বাড়ে।

২. রাতের খাবার এবং ঘুমের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান থাকা উচিত?

উত্তর: রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টার ব্যবধান থাকা উচিত। এটি শরীরকে খাবার হজম করার এবং ঘুমোনোর আগেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার পর্যাপ্ত সময় দেয়।

৩. রাতে দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস কি ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ায়?

উত্তর: হ্যাঁ, নিয়মিত রাতে দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস মেটাবলিজ়মে ব্যাঘাত ঘটায়, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ওজন বৃদ্ধি করে। এটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে প্রি-ডায়াবেটিক এবং টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪. রাতের খাবারের পর হালকা হাঁটা কি ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে?

উত্তর: হ্যাঁ, রাতের খাবারের পর ১০ থেকে ২০ মিনিট হালকা হাঁটলে পেশিগুলো শক্তি উৎপাদনের জন্য রক্তে থাকা বাড়তি গ্লুকোজ ব্যবহার করে, যা খাওয়ার পর ব্লাড সুগার স্পাইক বা শর্করার বৃদ্ধি রোধ করতে অত্যন্ত কার্যকর।

৫. কাজের চাপের কারণে রাতে দেরি হলে কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত?

উত্তর: রাতে দেরি হয়ে গেলে ভারী বা মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (যেমন ময়দা, সাদা ভাত) এড়িয়ে চলুন। পরিমিত পরিমাণে হালকা সুষম খাবার খান, যাতে প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ উপাদান বেশি থাকে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *