দরদরিয়ে ঘামছেন, অন্যদিকে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, সমস্যাটা কোথায় বলুন তো?
চড়া রোদ, ভ্যাপসা গরমে দরদরিয়ে ঘামছেন। আবার একইসঙ্গে হাত ও পায়ের পাতা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। খালি চোখে দেখলে একে ‘রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা’ বলে মনে হতে পারে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, আমাদের হাত এবং পা অনেকটা রেডিয়েটরের মতো কাজ করে। যা হরমোন, স্নায়ু এবং মেটাবলিজ়মের মাধ্যমে ভিতরের শরীরের অভ্যন্তরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
কী কী কারণে এই ধরনের সমস্যা হতে পারে?
১. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
অতিরিক্ত চিন্তা বা মানসিক চাপ থেকে মস্তিষ্কে অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) হরমোন ক্ষরনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বকের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। শরীর তার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে উষ্ণ রাখতে হাত ও পা থেকে রক্ত টেনে নেয়। ফলে চারপাশের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও হাত-পা ঠান্ডা অনুভূত হয়।
২. থাইরয়েডের সমস্যা
থাইরয়েড গ্রন্থি মানবদেহে মূলত থার্মোস্ট্যাট হিসেবে কাজ করে। হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হলে শরীর পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না, ফলে মেটাবলিজ়ম ধীর হয়ে যায় এবং অভ্যন্তরীণ তাপ কমে যায়। এর প্রভাবে হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার পাশাপাশি ক্লান্তি, আলস্য ঘিরে ধরে। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়তে পারে।
৩. স্নায়ুর ভুল সঙ্কেত
অনেক সময় হাত-পা ধরে গরম অনুভূত হলেও ভিতরে ভিতরে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে থাকে। রক্তে শর্করা বা ডায়াবিটিস, ভিটামিন B12-এর অভাব কিংবা প্রদাহের কারণে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে মস্তিষ্কে ভুল সঙ্কেত পৌঁছয়। এর ফলে হাত-পায়ে অবশ ভাব, ঝিনঝিন করা বা অসাড়তা দেখা দেয়।
৪. খিঁচুনি বা স্প্যাজ়ম
হঠাৎ করে তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে (যেমন এসি রুমে ঢোকা বা ঠান্ডা পানীয় ধরা) অনেকের রক্তনালি হঠাৎ সঙ্কুচিত হয়ে যায়। এতে আঙুলের রং সাময়িক ভাবে ফ্যাকাশে বা নীল হয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিক রক্ত চলাচল শুরু হলে আঙুলে অস্বস্তি অনুভূত হয়।
৫. আয়রনের অভাব বা অ্যানিমিয়া
রক্তে আয়রনের মাত্রা কম থাকলে দেহের সব কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছয় না। এর ফলে কোষগুলো প্রয়োজনীয় শক্তি ও উত্তাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ঠান্ডার অনুভূতি তৈরি করে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
হাত-পা নিয়মিত ঠান্ডা থাকার পাশাপাশি যদি ত্বকের রং পরিবর্তন, অসাড় ভাব বা ঝিনঝিন করা শুরু হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। শুধু মোজা পরে থাকলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। নির্দিষ্ট সময় অন্তর হরমোন, ভিটামিনের মাত্রা ও স্নায়ুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।