Yezdi Adventure-এর ফিচার ও সেফটি, ট্যুরিংয়ের জন্য কতটা প্রস্তুত এই বাইক
অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেলের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার-এ (Yezdi Adventure) ব্যবহারিক সুবিধা, পারফরম্যান্স এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে সংস্থা। দীর্ঘ রাইড থেকে…
অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেলের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার-এ (Yezdi Adventure) ব্যবহারিক সুবিধা, পারফরম্যান্স এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে সংস্থা। দীর্ঘ রাইড থেকে শুরু করে অফ-রোড ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে বাইকটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচার রয়েছে।
ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারের দাম ২.০৫ লাখ টাকা থেকে ২.১২ লাখ টাকা পর্যন্ত। এই দাম দিল্লিতে এক্স-শোরুম। রঙের ক্ষেত্রেও ক্রেতাদের সামনে রয়েছে চারটি বিকল্প। এগুলি হল নেবুলা ব্লু হোয়াইট, গ্লেসিয়ার হোয়াইট, টর্নেডো ব্ল্যাক এবং ইয়েলো ফ্যালকন। চাকার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিকল্প। ক্রেতারা স্পোক হুইলের সঙ্গে টিউবলেস টায়ার অথবা স্পোক হুইলের সঙ্গে টিউবড টায়ার বেছে নিতে পারেন।
সেগমেন্টেড ডিসপ্লে ও নেভিগেশন
ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে পুরো রঙিন স্ক্রিনের পরিবর্তে সেগমেন্টেড ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ডিসপ্লেটি সামঞ্জস্য করা যায়। অর্থাৎ রাইডারের বসার অবস্থান অনুযায়ী স্ক্রিনের কোণ পরিবর্তন করে সহজে দেখা সম্ভব। বাইকটিতে রয়েছে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি এবং টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন। দীর্ঘ যাত্রায় ফোন ব্যবহার করে নেভিগেশন করতে হলে এই ফিচার কাজে আসতে পারে। এর পাশাপাশি রয়েছে ইউএসবি চার্জিং পোর্ট। ফলে রাইডের সময় স্মার্টফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার চিন্তা কিছুটা কমে।
দীর্ঘ রাইডে উইন্ডস্ক্রিনের সুবিধা
ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারের কিছু ফিচারের গুরুত্ব বাইক চালানোর সময় আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হল উইন্ডস্ক্রিন। হাইওয়েতে বেশি গতিতে চলার সময় উইন্ডস্ক্রিন সরাসরি বাতাসের ধাক্কা কমাতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘ সময় বাইক চালানোর সময় রাইডারের ওপর বাতাসের চাপ কম পড়ে। ট্যুরিংয়ের ক্ষেত্রে বাইকের লাগেজ মাউন্টিং পয়েন্টও গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে অতিরিক্ত লাগেজ বহনের সময় আলাদা করে বাঞ্জি কর্ড দিয়ে ব্যবস্থা করার প্রয়োজন কমে। এই ধরনের ফিচার দেখতে খুব আকর্ষণীয় না হলেও দীর্ঘ যাত্রার সময় এগুলিই বাস্তবে বেশি কাজে আসে।
তিনটি রাইডিং মোড
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে রয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস। এটি পুরো রেঞ্জেই দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে তিনটি সুইচেবল রাইডিং মোড:
- রোড
- অফ-রোড
- রেন
রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী রাইডার এই মোডগুলির মধ্যে পরিবর্তন করতে পারবেন। বিশেষ করে অফ-রোড ব্যবহারের ক্ষেত্রে পিছনের এবিএস সম্পূর্ণ বন্ধ করার সুবিধা রয়েছে। আলগা মাটি বা কাঁচা রাস্তায় পিছনের চাকায় সব সময় এবিএস সক্রিয় থাকলে কখনও কখনও বাইক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তা বাধা তৈরি করতে পারে। তাই অফ-রোড পরিস্থিতিতে পিছনের এবিএস বন্ধ করার বিকল্পটি অ্যাডভেঞ্চার বাইকের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
ট্র্যাকশন কন্ট্রোলও রয়েছে
কম গ্রিপের রাস্তায় বাইককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। ভেজা রাস্তা, আলগা মাটি কিংবা অন্য কোনও কম গ্রিপের পরিস্থিতিতে চাকার ট্র্যাকশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই প্রযুক্তি সাহায্য করতে পারে। তবে বাইকটিতে অত্যন্ত জটিল ইলেকট্রনিক্স প্যাকেজ ব্যবহার করা হয়নি। বরং দৈনন্দিন রাইডিং এবং অ্যাডভেঞ্চার ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ইলেকট্রনিক সেফটি ফিচারের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামনে ও পিছনে ডিস্ক ব্রেক
ব্রেকিংয়ের জন্য ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারে সামনে এবং পিছনে দু’দিকেই ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। সামনের ডিস্কের আকার ২৩০ মিলিমিটার, আর পিছনের ডিস্কের আকার ২৪০ মিলিমিটার। ব্রেকের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তীক্ষ্ণ নয়। তবে দৈনন্দিন ব্যবহারে এটি নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সাধারণ রাস্তার পাশাপাশি ট্রেলেও ব্রেকিং ব্যবস্থা কার্যকর থাকার কথা।
ট্যুরিং ও অফ-রোড ব্যবহারে ব্যবহারিক প্যাকেজ
ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চারের বৈশিষ্ট্যগুলির দিকে তাকালে দেখা যায়, সংস্থা খুব বেশি জটিল প্রযুক্তি যোগ করার পরিবর্তে ব্যবহারিক ফিচারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সামঞ্জস্যযোগ্য ডিসপ্লে, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, ইউএসবি চার্জিং পোর্ট এবং উইন্ডস্ক্রিন দীর্ঘ রাইডের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে। অন্যদিকে লাগেজ মাউন্টিং পয়েন্ট ট্যুরিংয়ের ব্যবহারিক দিকটি আরও সহজ করে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস, সুইচেবল রাইডিং মোড এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোল রয়েছে। আবার অফ-রোড ব্যবহারের জন্য পিছনের এবিএস বন্ধ করার সুবিধাও রাখা হয়েছে।
ইয়েজদি অ্যাডভেঞ্চার এমন একটি প্যাকেজ দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যেখানে অতিরিক্ত জটিল ইলেকট্রনিক্সের বদলে দীর্ঘ রাইড, ট্যুরিং এবং বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ফিচারগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২.০৫ লাখ টাকা থেকে ২.১২ লাখ টাকা এক্স-শোরুম দামের এই বাইক তাই শুধু শহরের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নয়, দীর্ঘ দূরত্বের রাইড এবং অফ-রোড অ্যাডভেঞ্চারের কথা মাথায় রেখেও তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন