এবার থেকে ট্রেনের নিয়ম ভাঙলে সরাসরি জরিমানা ২০০০
নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। (Indian Railways)এখন থেকে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধের জন্য আর আগের মতো ফৌজদারি মামলা বা বারবার আদালতে হাজিরা…
নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। (Indian Railways)এখন থেকে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধের জন্য আর আগের মতো ফৌজদারি মামলা বা বারবার আদালতে হাজিরা দিতে হবে না। সরাসরি জরিমানা দিয়েই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা যাবে। জন বিশ্বাস (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আওতায় রেল আইনের কয়েকটি ধারায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর ফলে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। (Indian Railways)কাগজপত্র কম, আদালতের হয়রানি কম এবং তাৎক্ষণিক জরিমানা এই তিনটি বিষয়ই নতুন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য।উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক অননুমোদিত বিক্রি বা হকারি। আগে রেল আইনের ১৪৪ ধারায় এই অপরাধের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হতে হতো এবং মামলার দীর্ঘসূত্রিতা চলত। এখন সরাসরি ২০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ নিম্নচাপের জেরে ফের দুর্যোগের মেঘ! বাংলা ও ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
এক দেশ এক সময়ের দিকে এগোচ্ছে ভারত! এবার সব জায়গায় মানতে হবে IST
জরিমানা না দিলে তবেই আদালতের দ্বারস্থ হতে হতে পারে, যেখানে আরও বেশি জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তির সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্পট ফাইনেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায়। একইভাবে জরুরি চেইন টানা, রেলওয়ে এলাকায় অনুপ্রবেশ বা ট্রেসপাসিং এবং অননুমোদিত পার্কিংয়ের মতো অপরাধগুলোতেও এখন সরাসরি জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো ছোটখাটো অপরাধকে ফৌজদারি (Indian Railways)প্রকৃতি থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক বা দেওয়ানি জরিমানার আওতায় আনা। আগে অনেক সময় ছোট ভুলের জন্যও মানুষকে আদালতের চক্কর কাটতে হতো, সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হতো। নতুন ব্যবস্থায় রেল কর্তৃপক্ষ বা রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলেই জরিমানা আদায় করতে পারবেন এবং রসিদ দিয়ে দেবেন।
এতে যাত্রীদের হয়রানি কমবে এবং রেল প্রশাসনের কাজও দ্রুত হবে। দিল্লিসহ বিভিন্ন জোনে ইতিমধ্যে এই নতুন জরিমানা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।তবে জরিমানার পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়ানো। টিকিটবিহীন ভ্রমণ, মহিলা কোচে প্রবেশ, রেলের সুবিধা অপব্যবহার, ধূমপান বা পরিচ্ছন্নতা বিধি লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলোতেও জরিমানা বাড়ানো হয়েছে।
কিন্তু মূল পরিবর্তন হলো প্রক্রিয়ার সরলীকরণ। (Indian Railways)আগে যেখানে মামলা হতো, এখন সেখানে সরাসরি অর্থদণ্ড। এতে আদালতের ওপর চাপও কমবে এবং রেলের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্মীরা আরও মনোযোগ দিতে পারবেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যাত্রীবান্ধব। কারণ ছোটখাটো ভুলের জন্য কেউ আর দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় না পড়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
একইসঙ্গে জরিমানার পরিমাণ যথেষ্ট হওয়ায় নিয়ম ভাঙার প্রবণতাও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেল মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ভ্রমণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নতুন নিয়মে অননুমোদিত বিক্রি, চেইন টানা, ট্রেসপাসিং বা পার্কিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে সরাসরি জরিমানা আরোপের ফলে যাত্রীরাও আরও সচেতন হবেন।