২০০ থেকে ৫০০ কিমি! দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে কীভাবে বদলে যাচ্ছে ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধ - 24 Ghanta Bangla News
Home

২০০ থেকে ৫০০ কিমি! দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে কীভাবে বদলে যাচ্ছে ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধ

Spread the love

কলকাতা: এক দশক আগে ২০০ কিলোমিটার দূরের কোনও আকাশযানকে আঘাত (Air To Air Missile) করার ধারণাকে বিরল সাফল্য হিসেবে দেখা হতো। সেটি অনেকটাই নির্ভুলতার চেয়ে…

কলকাতা: এক দশক আগে ২০০ কিলোমিটার দূরের কোনও আকাশযানকে আঘাত (Air To Air Missile) করার ধারণাকে বিরল সাফল্য হিসেবে দেখা হতো। সেটি অনেকটাই নির্ভুলতার চেয়ে সুযোগের বিষয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এখন ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশি দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার কথা সামনে আসছে।

এই পরিবর্তন আকাশযুদ্ধের ধরনও বদলে দিচ্ছে। কাছাকাছি দূরত্বে দুই যুদ্ধবিমানের ডগফাইটের পরিবর্তে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে দূরপাল্লার আঘাত এবং শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্মকে নিষ্ক্রিয় করা। এর মধ্যে রয়েছে আকাশপথে আগাম সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ বিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান।

চিনের পিএল-১৭ মূলত উচ্চমূল্যের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার জন্য তৈরি বলে ধারণা করা হয়। এর পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার আর-৩৭এম প্রায় ৬ ম্যাক গতিতে ছুটতে পারে এবং মিগ-৩১ ও সু-৩৫ যুদ্ধবিমানে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর পাল্লা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

ইউরোপের মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র আবার আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করে। থ্রটলযোগ্য র‌্যামজেট ইঞ্জিনের সাহায্যে এটি দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে পারে এবং ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে আকাশযুদ্ধে বড় সুবিধা দিতে পারে।

ভারতও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই। অস্ত্র কর্মসূচির আওতায় তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম দিকের সংস্করণগুলির পাল্লা ছিল প্রায় ১১০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার। এখন এর দীর্ঘ-পাল্লার সংস্করণ নিয়ে কাজ চলছে এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ভবিষ্যতের এএমসিএ-র মতো যুদ্ধবিমানে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সংযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকার নতুন বড় পদক্ষেপ

আকাশযুদ্ধের নিয়ম আরও বড়ভাবে বদলে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি। নৌ বিমান চলাচল সংক্রান্ত একটি সম্মেলনে ঘোষিত এআইএম-৪২৪ লং রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, যাকে ম্যালিস নামেও উল্লেখ করা হচ্ছে, এমন একটি অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে যা মার্কিন বাহিনীকে দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধে এগিয়ে রাখতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে রেথিয়ন। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩.৫ ফুট এবং ওজন প্রায় ৬৮০ কিলোগ্রাম। এতে দুই ধাপের সলিড-প্রপেল্যান্ট রকেট মোটর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর ঘোষিত পাল্লা ২৫০ নটিক্যাল মাইলের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৪৬৩ কিলোমিটার। এটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এফ/এ-১৮ই/এফ সুপার হর্নেট, এফ-৩৫সি এবং ভবিষ্যতের ষষ্ঠ প্রজন্মের এফ/এ-এক্সএক্স যুদ্ধবিমান।

ম্যালিসের সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর এআইএম-১৭৪বি-র সম্পর্ক কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এআইএম-১৭৪বি মূলত নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এসএম-৬ ইন্টারসেপ্টরকে বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্রে রূপান্তর করে তৈরি করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরও উচ্চাভিলাষী। ভবিষ্যতে প্রায় ১,০০০ মাইল পর্যন্ত পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা। এর মূল উদ্দেশ্য হল শত্রুপক্ষের অ্যান্টি-অ্যাক্সেস এবং এরিয়া-ডিনায়াল ব্যবস্থা মোকাবিলা করা এবং অনেক দূর থেকেই সম্পূর্ণ কিল-চেইন নিয়ন্ত্রণ করা।

শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ালেই হবে না

২০০ কিলোমিটারের তথাকথিত “লাকি শট” থেকে আজকের ৫০০ কিলোমিটারের দৃষ্টিসীমা, আকাশযুদ্ধ এখন মূলত পাল্লা, নির্ভুলতা এবং শত্রুকে দূরে রাখার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ৪০০ বা ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করলেই সেই দূরত্বে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভরযোগ্যভাবে আঘাত করা সম্ভব হয় না। এত দূরের লক্ষ্য শনাক্ত করা, তার অবস্থান নির্ধারণ করা এবং ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝপথে সঠিক তথ্য সরবরাহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেজন্য ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে উন্নত সেন্সর, শক্তিশালী ডেটা-লিংক, নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশযুদ্ধ শুধু যুদ্ধবিমানের বনাম যুদ্ধবিমানের লড়াই হবে না। যুদ্ধবিমান, রাডার, স্যাটেলাইট, আকাশপথে আগাম সতর্কীকরণ বিমান, ডেটা-লিংক এবং ক্ষেপণাস্ত্র মিলিয়ে তৈরি হবে একটি বিশাল নেটওয়ার্ক।

ফলে আগামী দশকে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ভবিষ্যতের নির্ণায়ক আকাশযুদ্ধ হয়তো দুই শত্রু যুদ্ধবিমান একে অপরকে চোখে দেখার অনেক আগেই শুরু হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *