ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের দৌড়ে ভারত, নজর জিক্যাপ ও এফসিএএসে - 24 Ghanta Bangla News
Home

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের দৌড়ে ভারত, নজর জিক্যাপ ও এফসিএএসে

Spread the love

কলকাতা: ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান (Sixth Generation Fighter) তৈরির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারতের আগ্রহ আরও স্পষ্ট হয়েছে। ব্রিটেন, জাপান ও ইতালির যৌথ জিক্যাপ কর্মসূচিতে ভারত ‘ডায়ালগ পার্টনার’…

কলকাতা: ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান (Sixth Generation Fighter) তৈরির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারতের আগ্রহ আরও স্পষ্ট হয়েছে। ব্রিটেন, জাপান ও ইতালির যৌথ জিক্যাপ কর্মসূচিতে ভারত ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত হওয়াকে ভবিষ্যতের বিমানযুদ্ধ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘টেম্পেস্ট’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির পর্যায়ে এগিয়ে গিয়েছে এবং এর জন্য ৬.১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নিশ্চিত হয়েছে। যুদ্ধবিমানটির অন্তর্ভুক্তি ২০৩৪ সালের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার অর্থ ভারত এই যুদ্ধবিমানের ক্রেতা বা সরাসরি নির্মাতা হয়ে গিয়েছে, এমন নয়। এই মর্যাদার মাধ্যমে ভারত কর্মসূচির অগ্রগতি, প্রযুক্তি এবং সম্ভাব্য সক্ষমতা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে এটি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির ধারণা ও প্রযুক্তিগত কাঠামো সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা। ভবিষ্যতে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য কোন ধরনের প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জিক্যাপ ও এফসিএএস, দুই কর্মসূচির দিকেই ভারতের নজর

ভারত একই সঙ্গে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। প্রথমটি হল ব্রিটেন, জাপান ও ইতালির জিক্যাপ, অর্থাৎ গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম। দ্বিতীয়টি হল এফসিএএস, অর্থাৎ ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম। জার্মানি এই কর্মসূচি থেকে সরে যাওয়ার পর ফ্রান্স এখন এটির প্রধান নেতৃত্বে রয়েছে। স্পেনও এই কর্মসূচির অংশীদার। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুটি প্রকল্পের সম্ভাবনাই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ নিজস্বভাবে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করতে বিপুল অর্থ, উন্নত প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন হবে।

ফ্রান্সের এফসিএএস-এও আগ্রহ ভারতের

জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজে যুদ্ধবিমান পরিচালনা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার পর এফসিএএস কর্মসূচিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ভারতের কাছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনের নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমানের অপারেশনাল প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামঞ্জস্য থাকতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সংসদীয় প্রতিরক্ষা কমিটিকে জানিয়েছে যে ফরাসি সরকারের নেতৃত্বাধীন এফসিএএস ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার জন্য ভারত সমন্বিতভাবে উদ্যোগ শুরু করেছে। ফসিএএস-এর প্রথম উড়ান ২০২৮-২৯ সালের দিকে হতে পারে। একই সময়ের কাছাকাছি ভারতের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের এএমসিএ, অর্থাৎ অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফটের প্রথম উড়ানের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই দুই প্রকল্পের সমান্তরাল অগ্রগতি দেখাচ্ছে যে ভারত শুধু বর্তমান প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সক্ষমতা বাড়াতে নয়, ভবিষ্যতের বিমানযুদ্ধের প্রযুক্তিতেও দ্রুত এগিয়ে যেতে চাইছে।

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কতটা আলাদা?

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বর্তমান পঞ্চম প্রজন্মের প্ল্যাটফর্মের তুলনায় আরও বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে পারে। এই ধরনের বিমানে সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • সব দিক থেকে উন্নত স্টেলথ নকশা
  • ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর বিমান নকশা ও উৎপাদন
  • ভেরিয়েবল-সাইকেল ইঞ্জিন
  • গ্যালিয়াম নাইট্রাইড ট্রানজিস্টরভিত্তিক উন্নত রাডার
  • নির্দেশিত শক্তির অস্ত্র
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা
  • সাইবার যুদ্ধের সক্ষমতা
  • চালকবিহীন ‘লয়্যাল উইংম্যান’ ড্রোনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান

অর্থাৎ, ভবিষ্যতের যুদ্ধবিমান শুধু একটি দ্রুতগামী বা স্টেলথ বিমান হবে না। এটি একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধব্যবস্থার কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।

আমেরিকা ও চিনও পিছিয়ে নেই

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যেই তীব্র হয়ে উঠেছে। আমেরিকা এফ-৪৭ প্রকল্পের মাধ্যমে নেক্সট জেনারেশন এয়ার ডমিন্যান্স কর্মসূচিতে এগোচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীও এফ/এ-এক্সএক্স কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতের যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ করছে। অন্যদিকে চিন জে-৩৬ এবং জে-৫০ নামে পরিচিত প্রোটোটাইপ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে জিক্যাপ এবং এফসিএএস, দুই কর্মসূচিতেই ভারতের আগ্রহ কেবল প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার বিষয় নয়। ভবিষ্যতের বিমানযুদ্ধের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত নিজেকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, সেটিও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের যুগ এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। কিন্তু আমেরিকা, চিন ও ইউরোপের বড় শক্তিগুলি যখন পরবর্তী প্রজন্মের আকাশযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করছে, তখন জিক্যাপ ও এফসিএএস-এর সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ভবিষ্যৎ ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিকল্প তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *