মেঘালয়ের ‘অহিংস সিল্ক’ শাড়িতে কঙ্গনা রানৌত, কী বিশেষত্ব এই বস্ত্রের?
ফ্যাশন সচেতনতা এবং ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকের প্রতি অনুরাগ প্রকাশে বলিউডের ‘কুইন’ কঙ্গনা রানৌত (Kangana Ranaut) সবসময়ই এগিয়ে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের নতুন একটি ছবি শেয়ার করে ফের নেটপাড়ায় প্রশংসা কুড়োলেন এই অভিনেত্রী ও সাংসদ। ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে গাঢ় বেগুনি (Plum) রঙের এক অপূর্ব হ্যান্ডক্রাফটেড শাড়িতে। অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন, এটি তাঁর সংগ্রহে থাকা ‘প্রথম অহিংস মেঘালয় শাড়ি’ (Meghalaya Sari)।
সম্পূর্ণ হাতে বোনা এই শাড়িটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় আড়াই মাস। শাড়ির মনকাড়া বেগুনি বা প্লাম রং তৈরি করতে কোনও কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। ডালিমের খোসা (Pomegranate) এবং লোহার গুঁড়া (Iron dust) প্রক্রিয়াজাত করে এই অর্গানিক রং প্রস্তুত করা হয়েছে। সাধারণ রেশম শাড়ি তৈরির সময় সিল্ক ওয়ার্ম বা রেশম পোকাকে কোকুনের (Cocoon) ভিতরেই সেদ্ধ করে মেরে ফেলা হয়। কিন্তু ইরি সিল্ক (Eri Silk)-এর ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আলাদা।
এই প্রজাপতিগুলো (Philosamia ricini) ডিম ফুটে কোকুন কেটে স্বাচ্ছন্দ্যে বাইরে উড়ে যাওয়ার পরই কেবল পড়ে থাকা খালি কোকুন সংগ্রহ করা হয়। পোকা বা গুটির কোনও ক্ষতি না করে তৈরি হয় বলে একে ‘অহিংস সিল্ক’ (Ahimsa Silk) বা ‘পিস সিল্ক’ বলা হয়। সংগৃহীত খালি কোকুনগুলোকে কাঁচা হলুদ দিয়ে ২০-৩০ মিনিট ফোটানো এবং রোদে শুকনো হয়। এর পরে সুতো কাটার যন্ত্র ‘তখুরি’ (Takhuri)-র সাহায্যে হাত দিয়ে পরম যত্নে সুতা তৈরি করা হয়।
উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ এবং অসমে এই ‘ইরিকালচার’ (Ericulture) বা ইরি সিল্ক চাষ সেখানকার উপজাতীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অসমে ইরি সিল্ককে ভালোবেসে ‘গরিবের সিল্ক’ (Poor Man’s Silk) বলা হয়। অসমের বিখ্যাত ‘মেখলা চাদর’, ‘গামোছা’ এবং ‘দখনা’ তৈরি করতে এই অহিংস সুতো ব্যবহৃত হয়। পরিবেশবান্ধব ও পশুদের প্রতি হিংসামুক্ত হওয়ায় বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে ‘ভিগান ফ্যাশন’ (Vegan Fashion) আন্দোলনে ইরি সিল্কের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
FAQ
১. ইরি সিল্ককে কেন ‘অহিংস সিল্ক’ বলা হয়?
উত্তর: সাধারণ সিল্ক তৈরির মতো এই প্রক্রিয়ায় রেশম পোকাকে মেরে ফেলা হয় না। কোকুন থেকে প্রজাপতি উড়ে যাওয়ার পরেই খালি অংশ সংগ্রহ করে সুতো বোনা হয়, তাই এটি অহিংস বা ক্রুয়েলটি-ফ্রি সিল্ক।
২. কঙ্গনা রানৌতের শাড়িটি তৈরি করতে কতদিন সময় লেগেছে?
উত্তর: ১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক রঙে রঞ্জিত এবং হাতে বোনা এই বিশেষ মেঘালয় শাড়িটি তৈরি করতে কারিগরদের প্রায় আড়াই মাস সময় লেগেছে।
৩. ভারতের কোন কোন রাজ্যে ইরি সিল্ক উৎপন্ন হয়?
উত্তর: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিশেষ করে মেঘালয়, আসাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল প্রদেশে ইরি সিল্ক তৈরি হয়।