পারফরম্যান্সের চাপ, Alexithymia ও Cancel Culture
Daniel Oberhaus লিখছেন, “At the most basic level, swipe psychiatry is both an ideology and a methodology. In terms of methods, it relies heavily on digital devices and AI systems to gather and interpret mood, behavioral, and cognitive data. As an ideology, it is primarily characterized by the belief that the way we interact with machines can reveal insights about our mental state. In this respect, it is a descendent of behaviourism, a century-old theoretical paradigm in psychology that treats the mind as a black box that can only be studied through external behaviors.”
এ প্রসঙ্গেই গত পর্বের সূত্র ধরে ব্লগ সিরিজ়ের এ বারের পর্বেও কথোপকথন চলল মনোচিকিৎসক জয়রঞ্জন রামের সঙ্গে।
এই সময় অনলাইন: Alexithymia (inability to recognize emotions within yourself, or feelings within yourself) — সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যে টানাপড়েন, যে রোমাঞ্চ, যে হার্ট-ব্রেক, ডিভাইস কি কোনও ভাবে ভবিষ্যতের একটা গোটা প্রজন্মকে ধীরে ধীরে সেগুলো অনুভব করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রূপে Alexithymic করে তুলছে?
জয়রঞ্জন: প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার — অ্যালেক্সিথাইমিয়া (alexithymia) মানে ইমোশন না থাকা নয়। অ্যালেক্সিথাইমিয়া হলো নিজের অনুভূতি বা আবেগকে ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হওয়া। অ্যালেক্সিথাইমিয়া’ শব্দটির উৎস গ্রিক ভাষা থেকে। ‘এ’ বা ‘a’ বোঝায় অভাব বা অনুপস্থিতি, ‘লেক্সিস’ (lexis) মানে শব্দ, আর ‘থাইমস’ বা ‘থাইমোস’ (thymos) বলতে বোঝায় অনুভূতি বা আবেগ। নিজের অনুভূতিকে শব্দে প্রকাশ করতে না পারার সমস্যাকেই অ্যালেক্সিথাইমিয়া বলা হয়।
অ্যালেক্সিথাইমিয়া থাকলে একজন মানুষ দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, রাগ বা ভালোবাসা অনুভব করেন না — বিষয়টি এমন নয়। অনুভূতিগুলো তাঁর মধ্যে থাকে, কিন্তু সেগুলোকে ঠিক ভাবে চেনা, বোঝা বা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ছোটবেলা থেকে এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা, যেখানে আবেগ নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল না, তার প্রভাব পড়তে পারে। পরিবারে রাগ, দুঃখ, ভালোবাসা বা অভিমান কী ভাবে প্রকাশ করতে হয়, তা যদি শিশুর সামনে স্বাভাবিক ভাবে দেখা না যায়, তা হলে বড় হয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। ইমোশন নেই বা উষ্ণতার অভাব রয়েছে, এমন পরিবেশও এই সমস্যাকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার তীব্র মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের সময়েও একজন মানুষ নিজের অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এখানেই ডিজিটাল যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমরা যদি প্রতিদিনের আবেগ প্রকাশের জন্য ক্রমাগত ইমোজি, মিম বা ছোট ছোট ডিজিটাল প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করি, তা হলে সরাসরি অনুভূতি প্রকাশের অভ্যাস কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। খুশি বোঝাতে একটি হাসির ইমোজি, দুঃখ বোঝাতে কান্নার ইমোজি কিংবা কোনও জটিল অনুভূতির বদলে একটি মিম — এ ভাবে সহজ প্রতীকের মাধ্যমে বারবার আবেগ প্রকাশ করতে করতে বাস্তব জীবনে সেই অনুভূতিগুলোকে শব্দে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন কমে যায়।
এর প্রভাব শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সামনাসামনি যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখের অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, শরীরের ভাষা এবং অন্য মানুষের প্রতিক্রিয়া বুঝে নিজের আচরণ বদলানোর মতো অনেক বিষয় কাজ করে। ডিজিটাল যোগাযোগে এগুলোর বড় অংশই অনুপস্থিত থাকে। ফলে আবেগ প্রকাশের পাশাপাশি আবেগ বোঝা এবং তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাসও প্রভাবিত হতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার — ইমোশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং ইমোশনাল এক্সপ্রেশন এক বিষয় নয়। এমন একটি প্রজন্ম তৈরি হতে পারে, যারা নিজেদের অনুভূতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন এবং আবেগ নিয়ে কথা বলতেও পারে, কিন্তু বাস্তবে একজন মানুষের সঙ্গে সেই অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া, অন্যের আবেগ বোঝা এবং সেই অনুযায়ী নিজের আচরণ বদলানোর ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে কম অভ্যস্ত।
তাই প্রশ্নটা প্রযুক্তি থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে নয়। প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে কোনও প্রজন্ম তৈরি করা সম্ভবও নয়, প্রয়োজনও নেই। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করা, যেখানে প্রযুক্তি ও স্ক্রিন আমাদের জীবনের অংশ হবে, কিন্তু মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, আবেগের আদানপ্রদান এবং বাস্তব মানবিক অভিজ্ঞতার জায়গা প্রযুক্তি দখল করে নেবে না।
ডাঃ জয়রঞ্জন রামের কথা আবারও ফিরিয়ে নিয়ে যায় Daniel Oberhaus-এর ‘Swipe Psychiatry’-তে, যেখানে তিনি কম্পিউটার সায়েন্স–এর উৎস আসলে ‘theories of information exchange’-এ নিহিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। “This idea is based on the observation that humans are constantly sending messages to one another through a variety of communication channels such as speech, writing, and body language. This implies that meaningful advances in computing—especially anything approaching true artificial intelligence—require a computer to be able to interpret the multitude of human communication modes. One of the most obvious and information-rich channels for communication between people is language, which is why the pioneers of artificial intelligence initially focused on perfecting the ability for computers to understand and respond to natural language inputs.”