চিনের ‘এরিয়া ৫১’ সম্প্রসারণ, বিশাল হ্যাঙ্গার ঘিরে H 20 Bomber বিমান নিয়ে জল্পনা
বেজিং: চিন তার অন্যতম গোপনীয় বিমান পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। প্রত্যন্ত শিনজিয়াং অঞ্চলের লপ নুর ফ্লাইট-টেস্ট বেসে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার, নতুন ট্যাক্সিওয়ে…
বেজিং: চিন তার অন্যতম গোপনীয় বিমান পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। প্রত্যন্ত শিনজিয়াং অঞ্চলের লপ নুর ফ্লাইট-টেস্ট বেসে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার, নতুন ট্যাক্সিওয়ে এবং একাধিক সহায়ক পরিকাঠামো। এই নির্মাণকাজ ভবিষ্যতে অত্যাধুনিক সামরিক বিমান (H 20 Bomber) পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
দ্য ওয়ার জোনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্ল্যানেট ল্যাবসের সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে লপ নুর ঘাঁটিতে ব্যাপক নির্মাণকাজের ছবি ধরা পড়েছে। বিশেষ নজর কেড়েছে অস্বাভাবিক বড় আকারের একাধিক হ্যাঙ্গার এবং নতুন বিমান চলাচলের পরিকাঠামো।
চিনের অন্যতম গোপন বিমান পরীক্ষাকেন্দ্র লপ নুর
শিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত লপ নুর অঞ্চলে অবস্থিত এই ঘাঁটি চিনের গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত গোপনীয় মহাকাশ ও সামরিক বিমান পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির অন্যতম। লপ নুরের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চিনের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে এলাকাটির বিচ্ছিন্ন অবস্থান বেজিংকে জনবহুল এলাকা এবং প্রচলিত সামরিক ঘাঁটি থেকে দূরে সংবেদনশীল সামরিক ও মহাকাশ প্রযুক্তি পরীক্ষা করার সুযোগ দেয়।
গত কয়েক বছরে কেন্দ্রটির চেহারা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গিয়েছে। একসময় দীর্ঘ রানওয়ে এবং সীমিত সহায়ক পরিকাঠামো থাকা তুলনামূলকভাবে সাধারণ বিমানঘাঁটিটি এখন বড় পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। নতুন হ্যাঙ্গার, বিমান পার্কিং এলাকা, ট্যাক্সিওয়ে এবং বিভিন্ন সহায়ক পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে নির্মাণের গতি আরও বেড়েছে এবং ঘাঁটির উত্তর ও দক্ষিণ, দুই অংশেই কাজ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশাল হ্যাঙ্গারেই সবচেয়ে বেশি নজর
সাম্প্রতিক নির্মাণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ঘাঁটির দক্ষিণ অংশে তৈরি হওয়া চারটি বড় হ্যাঙ্গার। দ্য ওয়ার জোনের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মধ্যে তিনটি হ্যাঙ্গারের আকার প্রায় ৮০ মিটার বাই ৪০ মিটার। একটি বিমান পরীক্ষাকেন্দ্রের জন্য এই আকারের কাঠামো যথেষ্ট বড়।
হ্যাঙ্গার এলাকার পাশেই একটি নতুন ট্যাক্সিওয়ে তৈরি হচ্ছে। এটি রানওয়ের সঙ্গে দক্ষিণের হ্যাঙ্গার এলাকাকে যুক্ত করবে। এর ফলে বড় আকারের বিমানকে ঘাঁটির বিভিন্ন অংশে আরও সহজে সরানো সম্ভব হতে পারে।
উত্তর অংশেও নির্মাণকাজ চলছে। উপগ্রহচিত্রে সেখানে নতুন ট্যাক্সিওয়ে, সম্প্রসারিত অ্যাপ্রন এবং প্রায় ৪০০ ফুট ব্যাসের একটি গোলাকার প্ল্যাটফর্ম দেখা গিয়েছে।
দ্য ওয়ার জোনের ধারণা, এই গোলাকার এলাকাটি ইঞ্জিন রান-টেস্টিং অথবা বিমান ঘোরানো ও প্রস্তুতির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। আশপাশে আরও হ্যাঙ্গার এবং সহায়ক পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে।
নতুন হ্যাঙ্গারগুলির আকারই বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। এগুলিতে লপ নুরে আগে দেখা অনেক সামরিক বিমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় প্ল্যাটফর্ম রাখা সম্ভব হতে পারে।
তাহলে কি লুকিয়ে রয়েছে চিনের এইচ-২০?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে চিনের বহু প্রতীক্ষিত এইচ-২০ স্টেলথ বোমারু বিমানকে ঘিরে। নতুন হ্যাঙ্গারগুলির আকার ও বিন্যাস এইচ-২০-এর সম্ভাব্য আকারের বিমানের জন্য উপযুক্ত হতে পারে বলে দ্য ওয়ার জোনের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
লপ নুরের প্রত্যন্ত অবস্থানও অত্যন্ত গোপনীয় একটি কৌশলগত বিমান পরীক্ষার জন্য যুক্তিযুক্ত জায়গা হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধু উপগ্রহচিত্রের ভিত্তিতে এইচ-২০ সেখানে পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবু লপ নুর ধীরে ধীরে চিনের সবচেয়ে উন্নত সামরিক বিমান কর্মসূচিগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকেন্দ্র হয়ে উঠছে।
২০২৫ সালের উপগ্রহচিত্রে এই ঘাঁটিতে চিনের জে-৩৬ এবং জে-এক্সডিএস পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান দেখা গিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। এই বিমানগুলির সম্ভাব্য উপস্থিতি ইঙ্গিত করে যে চিন তার অত্যন্ত সংবেদনশীল পরবর্তী প্রজন্মের প্ল্যাটফর্মগুলি মূল উন্নয়ন ও উৎপাদন কেন্দ্র থেকে দূরে এই বিচ্ছিন্ন ঘাঁটিতে পরীক্ষা করছে।
চিনের ‘এরিয়া ৫১’ হয়ে উঠছে লপ নুর?
গোপনীয়তা, প্রত্যন্ত অবস্থান এবং ক্রমাগত পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে লপ নুরকে চিনের সামরিক বিমান কর্মসূচির অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন বিশাল হ্যাঙ্গারগুলির উপস্থিতি আরও একটি সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। যদি এগুলি সত্যিই বড় আকারের কৌশলগত বিমানের জন্য তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে চিনের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিমান কর্মসূচি এখানে পরীক্ষা করা হতে পারে।
এই মুহূর্তে এইচ-২০ লপ নুরে রয়েছে বা সেখানে পরীক্ষা চলছে, এমন কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই। কিন্তু এমন আকারের হ্যাঙ্গার তৈরি হওয়ায় চিনের প্রত্যন্ত শিনজিয়াং ঘাঁটির আড়ালে ঠিক কী পরীক্ষা চলছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কৌতূহল আরও বাড়বে।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন