Subhash Chandra-Haircut: হেয়ারকাটেই ৯৯ শতাংশ ঋণ মকুব, সুভাষ চন্দ্রের মতো হেয়ারকাট পেতে পারেন আপনি? | 99 percent loan waived for Subhash Chandra, what is this haircut, how can you get this
নয়া দিল্লি: বিগত কয়েকদিন ধরে চর্চায় ‘হেয়ারকাট’ (Haircut)। এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের (Subhash Chandra) বিপুল ঋণ মকুব করে দিয়েছে ইনসলভেন্সি ট্রাইব্যুনাল বা NCLT-র দেওয়া একটি রায়। ২২,০০০৬.৫৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে মাত্র ৬.৫ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে সুভাষ চন্দ্রকে। সেই খবর সামনে আসার পর থেকেই শিরোনামে ‘হেয়ারকাট’। আদতে ঋণে এই বিপুল ছাড় দেওয়াকেই বলা হয় ‘হেয়ারকাট’। কী এই ‘হেয়ারকাট’? কারা পেতে পারেন এই সুবিধা?
কাকে বলে হেয়ারকাট?
কোনও ব্যাঙ্ক বা ঋণদাতা সংস্থা যখন আদায় না হওয়া ঋণ ছেড়ে দিতে রাজি হয়, তখন তাকেই অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় হেয়ারকাট। সাধারণত গ্রাহকের যখন আর ঋণ শোধ করার সামর্থ্য থাকে না, তখনই ব্যাঙ্ক এভাবে একটি সিদ্ধান্তে আসে। অন্তত ১০০ শতাংশ টাকা যাতে চলে না যায়, তার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে ব্যাঙ্ক। চুল ছেঁটে ফেলার মতোই ঋণের অঙ্ক কমিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে হেয়ারকাট নামকরণ করা হয়েছে।
হেয়ারকাটের অঙ্কটা ঠিক কেমন
ধরে নেওয়া যাক, আপনি আপনার পরিচিত কোনও ব্যক্তিকে ১০০ টাকা ধার দিয়েছিলেন। পরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি জানান, ১০০ টাকা দিতে পারবেন না, তাঁর কাছে মাত্র ৫ টাকা পড়ে আছে, ওটাই শুধুমাত্র দিতে পারবেন। এখন আপনি কী করবেন? বছরের পর বছর ওই ১০০ টাকার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন, তাতে ফলাফল শূন্যও হতে পারে। নাহলে ৫ টাকাটা নিয়েই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে পারেন। আপনি যদি ওই ৫ টাকা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন আর ৯৫ টাকা মকুব করে দেন, সেই বিষয়টাকেই অর্থনীতির ভাষায় হেয়ারকাট বলে।
সুভাষ চন্দ্রের ক্ষেত্রে কতটা হেয়ারকাট হল
সুভাষ চন্দ্রের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলো ৯৯.৯৭ শতাংশ হেয়ারকাট মেনে নিয়েছে। অর্থাৎ ১০০ টাকায় মাত্র ৩ পয়সা ফেরত পাচ্ছে ব্যাঙ্কগুলি। ট্রাইবুনালে জবাব দিয়ে ব্যাঙ্কগুলো স্বীকার করে নিয়েছে যে এর থেকে বেশি টাকা উদ্ধার করা কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না। সুভাষ চন্দ্রের টিমের পক্ষ থেকে অবশ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও ঋণ নেননি। সংস্থার নেওয়া ঋণের গ্যারান্টার ছিলেন মাত্র।
আপনিও কি পেতে পারেন হেয়ারকাটের সুুবিধা?
‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি কোড’ কোনও সাধারণ নিয়ম নয়। সাধারণত কোনও বড় কর্পোরেট সংস্থা এবং তাদের গ্যারান্টারদের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমঝোতায় পৌঁছয় ব্যাঙ্কগুলি। কোনও সাধারণ ব্যক্তি যদি মনে করেন যে তিনি নিজেকে দেউলিয়া বলে দাবি করলেই ব্যাঙ্ক তাঁর ঋণ মকুব করে দেবে, তাহলে ভুল ভাববেন। ব্যাঙ্ক ও আদালত ওই ব্যক্তি সব সম্পত্তির হিসেব নেবেই। আর সমঝোতা করে যদি ঋণ মকুবও হয়, তাহলেও সিবিল (CIBIL) স্কোর একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে আর কখনও ঋণ নিতে পারবেন না তিনি। তাই কোন সাধারণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে সুভাষ চন্দ্রের মতো ৯৯ শতাংশ ঋণ মকুব পাওয়া কার্যত অসম্ভব।