মানসরোবরের তীরে প্রার্থনায় বাংলার পার্বতী বাউল, দেখুন ছবি

নেপালের হড়পা বান কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের প্রাণ। নিখোঁজের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মানসরোবরে উদ্দেশে রওনা হওয়া অনেক তীর্থযাত্রী রয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে মানসরোবরে পৌঁছলেন বাংলার বাউল সঙ্গীতের অন্যতম পরিচিত মুখ পার্বতী বাউল।

এ বার তিনি কৈলাস যাত্রা করেছেন। সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন নানা ছবি। তিনি ২৭ অগস্ট, শুক্রবার মানসরোবরে পৌঁছন।

ফেসবুকে তাঁর এই যাত্রার ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এক পবিত্র মুহূর্তে মানসরোবরে।’ মানসরোবরের তীরে প্রার্থনা করতেও দেখা যায় পার্বতী বাউলকে। সামনে কৈলাস পর্বত। চারপাশের নীরবতা, ভক্তি আর আধ্যাত্মিক আবহে সেই মুহূর্ত যেন গভীর সাধনা ও আত্মসমর্পণের প্রতিচ্ছবি।

পার্বতী বাউলের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সনাতন সিদ্ধাশ্রমের ওয়েবসাইটে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রাকে ‘Yatra Sadhana’ বলে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তাঁর যাত্রা, কী ভাবে তিনি সাধনা করবেন, সেই প্রস্তুতির খুঁটিনাটি উল্লেখ করেছেন। এই যাত্রাকে কেবল সাধারণ ভ্রমণ হিসেবে নয়, আধ্যাত্মিক সাধনা ও অন্তর্দর্শনের অংশ হিসেবেও দেখছেন তিনি।

পার্বতী বাউলের সাধনার সঙ্গে যোগ, ধ্যান, ভক্তি এবং আত্মঅন্বেষণ ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাঁর নিজের ওয়েবসাইটেও বাউল সাধনাকে আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অনুসন্ধানের পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

কৈলাস যাত্রাকে ঘিরে আরেকটি লেখায় ‘Journey to Meru’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। পার্বতী বাউলের ভাবনায় কৈলাস শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, বরং আত্মনুসন্ধান ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির প্রতীক হিসেবেও উঠে আসছে।

প্রসঙ্গত, পার্বতী বাউল একজন বাউল শিল্পী হলেও তিনি একজন গল্প কথক ও চিত্রশিল্পীও। স্বনামধন্য সনাতন দাস ঠাকুর বাউল এবং শশাঙ্ক গোঁসাই-এর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন পার্বতী।

সনাতন দাস বাউলের নির্দেশ ও ভাবনা মেনেই পার্বতী সনাতন সিদ্ধাশ্রমও প্রতিষ্ঠা করেন। এই আশ্রমের লক্ষ্য বাউল দর্শন, সাধনা ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা যায়, তিনি ৪০টিরও বেশি দেশে বাউল গান, দর্শন ও সাধনা নিয়ে অনুষ্ঠান, কর্মশালা ও শিক্ষামূলক ওয়ার্কশপ করেছেন।

বাউল সঙ্গীতের প্রতি তাঁর অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে ২০১৯ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কারে সম্মানিত করেছেন।