পারফরম্যান্স, আবেগ ও ব্যবহারযোগ্যতার কি নিখুঁত ভারসাম্য? - 24 Ghanta Bangla News
Home

পারফরম্যান্স, আবেগ ও ব্যবহারযোগ্যতার কি নিখুঁত ভারসাম্য?

Spread the love

কলকাতা: কিছু মোটরসাইকেল মানুষ কেনেন কারণ সেগুলি বাস্তবিক অর্থে যুক্তিসঙ্গত। আবার কিছু মোটরসাইকেল এমন রয়েছে, যেগুলির দিকে তাকালেই বারবার চালাতে ইচ্ছে করে।  ডুকাটি প্যানিগালে ভি২ এস (Ducati Panigale V2S) দ্বিতীয় শ্রেণির বাইকগুলির মধ্যেই পড়ে। এই বাইককে শুধু ব্যবহারিক বললে এর আসল চরিত্রটাই ধরা পড়বে না। এর মূল উদ্দেশ্য হল একটি ডুকাটি সুপারবাইকের নাটকীয়তা, স্টাইল এবং চরিত্রকে ধরে রাখা, তবে ভি৪-এর মতো ভয়ংকর পারফরম্যান্সের পর্যায়ে না যাওয়া।  ২০২৫ সালের প্যানিগালে ভি২-তে ডুকাটি বেশ বড়সড় পরিবর্তন করেছে। আগের মডেলটিকে শুধু আপডেট না করে সংস্থাটি কার্যত নতুন করে বাইকটি তৈরি করেছে। আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি রয়েছে এর ইঞ্জিনে।

একেবারে নতুন ইঞ্জিন

পুরনো সুপারকোয়াড্রো ভি২ ইঞ্জিন আর নেই। তার জায়গায় এসেছে নতুন ৮৯০ সিসি ভি-টুইন ইঞ্জিন, যেখানে রয়েছে ভ্যারিয়েবল ভালভ টাইমিং প্রযুক্তি। ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১২০ পিএস শক্তি এবং ৯৩.৩ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। কাগজে-কলমে ১২০ পিএস শক্তি দেখলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, আগের প্যানিগালে ভি২-এর তুলনায় কি শক্তি অনেকটাই কমে গেল?

উত্তর হল, হ্যাঁ। আগের প্রজন্মের ভি২ প্রায় ১৫৫ পিএস শক্তি উৎপন্ন করত। কিন্তু নতুন বাইকটির লক্ষ্য এখন আর শুধু বড় সংখ্যার পিছনে ছোটা নয়। নতুন ইঞ্জিনটি তৈরি করা হয়েছে আরও ব্যবহারযোগ্য পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য। শক্তি সরবরাহ অনেক মসৃণ এবং টর্ক এমনভাবে পাওয়া যায়, যাতে রাস্তায় বাইকের পারফরম্যান্স কাজে লাগানো তুলনামূলক সহজ হয়।

ducati-panigale-v2-s-review-performance-features

ভারতের মতো দেশে এর গুরুত্ব আরও বেশি। শহরের যানজট, রাস্তার অসমান পিচ, ট্রাফিক এবং নির্দিষ্ট গতিসীমার মধ্যে প্রতিদিন ১৫০ পিএসের বেশি শক্তি পুরোপুরি কাজে লাগানো সহজ নয়। সেই জায়গায় এমন ইঞ্জিন বেশি কার্যকর, যার পারফরম্যান্স উপভোগ করা যায় কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে বাইককে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় না।

মাত্র ১৭৯ কেজি ওজন

প্যানিগালে ভি২ এস-এর অন্যতম বড় আকর্ষণ হল এর ১৭৯ কেজি ওয়েট, অর্থাৎ ভেজা ওজন। ওজন কমানোর ফলে বাইকের চরিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। বাইকটি সরানো, দিক পরিবর্তন করা কিংবা কর্নারে ঢোকার সময় আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে হয়। এখানেই নতুন ভি২-এর দর্শনটি পরিষ্কার হয়। মজা পাওয়ার জন্য সবসময় ১৫০ পিএস বা তার বেশি শক্তির প্রয়োজন নেই। বাইক যদি হালকা, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল এবং ব্যবহার করা সহজ হয়, তাহলে তার পারফরম্যান্স আরও বেশি সময় উপভোগ করা সম্ভব।

মসৃণ ইঞ্জিন চরিত্র

নতুন ৮৯০ সিসি ভি-টুইন ইঞ্জিনের চরিত্র পুরনো সুপারকোয়াড্রোর মতো উন্মত্ত নয়। তবে এর শক্তি সরবরাহ অনেক বেশি মসৃণ এবং নিয়ন্ত্রিত। ফলে বাইকটি নতুন রাইডারের জন্য নয়, কিন্তু অভিজ্ঞ রাইডারের কাছে আগের তুলনায় বেশি ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠেছে। এখানে ওজন কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ১৭৯ কেজি ভেজা ওজনের কারণে প্যানিগালে ভি২ এস-কে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ম্যানেজেবল মনে হয়।

উন্নত ইলেকট্রনিক্স

প্যানিগালে ভি২ এস-এ রয়েছে উন্নত ইলেকট্রনিক্স প্যাকেজ। বাইকে চারটি রাইডিং মোড দেওয়া হয়েছে। ফলে রাস্তা এবং রাইডিং পরিস্থিতি অনুযায়ী বাইকের চরিত্র পরিবর্তন করা যায়। এর সঙ্গে রয়েছে দ্বিমুখী কুইকশিফটার এবং ৬-স্পিড গিয়ারবক্স। দ্রুত গিয়ার পরিবর্তনের সুবিধা বাইকের স্পোর্টি চরিত্রের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে মানিয়ে যায়। বিশেষ করে দ্রুত কর্নারিং কিংবা ট্র্যাকে বাইক চালানোর সময় কুইকশিফটার রাইডিং অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

ডুকাটির আসল আবেগটা এখনও রয়েছে

তবে প্যানিগালে ভি২ এস-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্ভবত এখানেই। শক্তি কমলেও ডুকাটি বাইকটির আবেগ বা চরিত্রকে নষ্ট করেনি। বাইকটি এখনও দেখতে একটি এক্সোটিক ইতালিয়ান স্পোর্টস বাইকের মতো। এর ডিজাইন, উপস্থিতি এবং সামগ্রিক চরিত্র এমন যে পার্ক করে রেখে চলে যাওয়ার পরও একবার পিছনে ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করবে। কারণ কেউ শুধুমাত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য প্যানিগালে ভি২ এস কেনেন না।

কোথায় আরও ভালো হতে পারত?

সবচেয়ে বড় সমালোচনার জায়গা হল পিক পাওয়ার কমে যাওয়া। আগের প্রজন্মের ১৫৫ পিএসের জায়গায় নতুন মডেলে শক্তি কমে হয়েছে ১২০ পিএস। যাঁরা পুরনো সুপারকোয়াড্রো ইঞ্জিনের বিস্ফোরক পারফরম্যান্স এবং উচ্চ আরপিএম-এর চরিত্র পছন্দ করতেন, তাঁদের কাছে এই পরিবর্তন যথেষ্ট বড় মনে হতে পারে। অনেক উৎসাহী রাইডার স্পেসিফিকেশন দেখে প্রশ্ন করতেই পারেন, এত টাকা খরচ করে এমন একটি প্যানিগালে কেন কিনবেন যার শক্তি আগের মডেলের তুলনায় অনেক কম? সেখানেই চলে আসে ভি৪। যদি আপনার প্রধান লক্ষ্য হয় সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স, দ্রুততম অ্যাক্সিলারেশন এবং যত বেশি সম্ভব শক্তি, তাহলে প্যানিগালে ভি৪ এখনও বেশি স্বাভাবিক পছন্দ। কিন্তু নতুন ভি২ এস অন্য রাস্তা বেছে নিয়েছে। এখানে বড় সংখ্যার পরিবর্তে পারফরম্যান্সকে আরও ব্যবহারযোগ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে।

কার জন্য এই বাইক?

এটি কোনও নতুন রাইডারের জন্য প্রথম বড় মোটরসাইকেল হওয়ার মতো বাইক নয়। ১২০ পিএস শক্তি কম মনে হলেও ১৭৯ কেজি ওজনের একটি মোটরসাইকেলের জন্য এই শক্তি যথেষ্টের থেকেও বেশি। ভুল হাতে এটি খুব দ্রুত বিপজ্জনক গতিতে পৌঁছে যেতে পারে। তাই প্যানিগালে ভি২ এস বেশি উপযুক্ত এমন অভিজ্ঞ রাইডারের জন্য, যিনি ইতিমধ্যেই উচ্চক্ষমতার স্পোর্টস বাইক নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করেছেন।

এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল, এই বাইকটি তাঁদের জন্য, যাঁরা শুধুমাত্র স্পেসিফিকেশন নয়, রাইডিংয়ের সঙ্গে সংযোগ এবং অনুভূতিকে বেশি গুরুত্ব দেন। উইকএন্ডে বাইক নিয়ে বের হওয়া, কয়েকটি কর্নার উপভোগ করা, প্রয়োজনে ট্র্যাকে সময় কাটানো এবং প্রতিবার থ্রটল ঘোরানোর সময় বাইকের পারফরম্যান্স অনুভব করাই যাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের কাছে নতুন ভি২ এস যথেষ্ট আকর্ষণীয় হতে পারে।

রায়

নতুন ডুকাটি প্যানিগালে ভি২ এস আকর্ষণীয় কারণ ডুকাটি পারফরম্যান্স বাইকের দুনিয়ায় চলতে থাকা ‘বড় সংখ্যাই ভালো’ প্রবণতার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্য পথ বেছে নিয়েছে। এর শক্তি আগের মডেলের তুলনায় কমেছে। কিন্তু একইসঙ্গে বাইকটি হালকা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়েছে এবং পারফরম্যান্সকে আরও ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়েছে। এটি দ্রুততম ডুকাটি নয়। সবচেয়ে শক্তিশালীও নয়। এমনকি সবচেয়ে ব্যবহারিক মোটরসাইকেলও নয়। কিন্তু প্যানিগালে কেনার কারণও তো সেটি নয়।

এই বাইক কেনা হয় ইঞ্জিন স্টার্ট করার মুহূর্তে কিছু অনুভব করার জন্য, কর্নারে বাইক হেলানোর সময় উত্তেজনা পাওয়ার জন্য এবং বাইক পার্ক করার পরও একবার ফিরে তাকানোর জন্য। ১২০ পিএস শক্তি এবং ১৭৯ কেজি ওজন কখনও কখনও ১৫৫ পিএসের থেকেও বেশি আনন্দ দিতে পারে, নতুন প্যানিগালে ভি২ এস সেই যুক্তিটাই বেশ জোরালোভাবে তুলে ধরে।

আর যেখানে পারফরম্যান্স বাইকগুলি প্রতিনিয়ত আরও বেশি শক্তি এবং আরও বড় সংখ্যার দিকে ছুটছে, সেখানে নতুন প্যানিগালে ভি২ এস-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এটাই।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *