ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় তৈরী হল নতুন প্রকল্প সমুদ্র মন্থনের বছর ভিত্তিক রোডম্যাপ
নয়াদিল্লি: ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা মজবুত করতে এবং (Samudra Manthan)তেল-গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে মোদী সরকার এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে। ‘সমুদ্র মন্থন’ নামের এই জাতীয় অফশোর…
নয়াদিল্লি: ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা মজবুত করতে এবং (Samudra Manthan)তেল-গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে মোদী সরকার এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে। ‘সমুদ্র মন্থন’ নামের এই জাতীয় অফশোর এক্সপ্লোরেশন স্কিমের জন্য বছরভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অফশোর ড্রিলিং, সিসমিক সার্ভে এবং রিগ মোতায়েনের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের তেল-গ্যাস ভাণ্ডার উন্মোচনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জন্য প্রায় ৮৪ হাজার (Samudra Manthan)কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করেছে। এই অর্থ ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি এবং অয়েল ইন্ডিয়া। কৃষ্ণা-গোদাবরী (কেজি), মহানদী, আন্দামান এবং কাবেরী অববাহিকায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
আরও দেখুনঃ ১৫ সেকেন্ডেই গুঁড়িয়ে যাবে শত্রুর ট্যাঙ্ক! ভারতের হাতে আসছে আমেরিকার মারণাস্ত্র ‘জ্যাভলিন’
নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিমান ৩০০ গিগাওয়াট ছাড়াল! রেকর্ড গড়ল ভারত
‘মাদ্রাসা বন্ধ হলে মুসলমানরা তান্ডব চালাবে!’ ধামি রাজ্যের ত্রিশূল চকে হুমকি মৌলানার
এসব এলাকায় গভীর ও অতি-গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।সরকারের লক্ষ্য হলো বছরে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন টন অয়েল ইকুইভ্যালেন্ট (এমটিওই) উৎপাদন বাড়ানো। এতে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে। ভারত বর্তমানে তার ক্রুড অয়েলের প্রায় ৮৮ শতাংশ আমদানি করে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় দেশীয় উৎপাদন স্থবির থাকায় এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।
সমুদ্র মন্থন প্রকল্পে শুধু ড্রিলিং নয়, উচ্চমানের সিসমিক ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ (Samudra Manthan)এবং ব্যাখ্যার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। আগে যেসব এলাকা ‘নো-গো জোন’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল, সেগুলোও এখন অনুসন্ধানের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় এক মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার এলাকা অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। সীসমিক ডেটা সংগ্রহে প্রণোদনা এবং যৌথ অবকাঠামো গড়ে তোলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে আবিষ্কৃত সম্পদ দ্রুত উৎপাদনে আনা যায়।গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
তাই সরকার ড্রিলিং খরচের একটি অংশ বহন করবে। (Samudra Manthan)এছাড়া সাধারণ অফশোর প্রোডাকশন ও ইভ্যাকুয়েশন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে যাতে একাধিক অপারেটর একসঙ্গে সুবিধা নিতে পারে। দেশীয় উৎপাদন ও পরিষেবা খাতকে উৎসাহিত করতে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড সার্ভিসেস জোন স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের হাইড্রোকার্বন রিজার্ভ বেস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
বর্তমানে যেখানে দেশীয় উৎপাদন প্রায় ৬২ এমটিওই, সেখানে তা ৮০ এমটিওই পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা মজবুত হবে।ওএনজিসি ইতিমধ্যেই কিছু এলাকায় কাজ শুরু করেছে। মহানদী অববাহিকায় গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ চলছে। আন্দামান ও অন্যান্য সীমান্ত অববাহিকায়ও বৈজ্ঞানিক ড্রিলিংয়ের পরিকল্প।