নতুন Volkswagen Taigun-এ DSG গিয়ারবক্স কেন উৎসাহীদের পছন্দ, জানুন কারণ
কলকাতা: গাড়ি কেনার সময় বেশিরভাগ ক্রেতাই ইঞ্জিন, পাওয়ার, টর্ক কিংবা মাইলেজ নিয়ে বেশি আলোচনা করেন। গিয়ারবক্সের ক্ষেত্রে অবশ্য আলোচনা অনেকটাই সীমাবদ্ধ থাকে ম্যানুয়াল নাকি অটোমেটিক,…
কলকাতা: গাড়ি কেনার সময় বেশিরভাগ ক্রেতাই ইঞ্জিন, পাওয়ার, টর্ক কিংবা মাইলেজ নিয়ে বেশি আলোচনা করেন। গিয়ারবক্সের ক্ষেত্রে অবশ্য আলোচনা অনেকটাই সীমাবদ্ধ থাকে ম্যানুয়াল নাকি অটোমেটিক, এই প্রশ্নে। কিন্তু একই ইঞ্জিনের সঙ্গে আলাদা গিয়ারবক্স ব্যবহার করা দুটি গাড়ি চালালে বোঝা যায়, গাড়ির ড্রাইভিং অভিজ্ঞতায় ট্রান্সমিশনের প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ভক্সওয়াগেন তাইগুনে (Volkswagen Taigun) এই বিষয়টি বেশ ভালোভাবে বোঝা যায়। গাড়িটিতে ৭-স্পিড ডিএসজি ডুয়াল-ক্লাচ গিয়ারবক্সের পাশাপাশি নতুন ৮-স্পিড অটোমেটিক ট্রান্সমিশনও রয়েছে।
ডিএসজি গিয়ারবক্স কীভাবে কাজ করে?
ডিএসজি-এর পুরো নাম ডাইরেক্ট-শিফট গিয়ারবক্স। এটি মূলত একটি ডুয়াল-ক্লাচ ট্রান্সমিশন। সাধারণ ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সে যেখানে একটি ক্লাচ থাকে, সেখানে ডিএসজি-তে দুটি আলাদা ক্লাচ ব্যবহার করা হয়। একটি ক্লাচ বিজোড় নম্বরের গিয়ার নিয়ন্ত্রণ করে, আর অন্যটি জোড় নম্বরের গিয়ার পরিচালনা করে।
ধরা যাক, গাড়ি তৃতীয় গিয়ারে চলছে। সেই সময়ই চতুর্থ গিয়ার দ্বিতীয় ক্লাচের মাধ্যমে আগে থেকে নির্বাচিত হয়ে থাকে। ফলে গিয়ার বদলের সময় পুরনো গিয়ার ছেড়ে নতুন গিয়ার নির্বাচন করে আবার যুক্ত করার প্রয়োজন হয় না। একটি ক্লাচ থেকে অন্য ক্লাচে দ্রুত পরিবর্তন করেই গিয়ারশিফট সম্পন্ন হয়। তাইগুনের ১.৫ লিটার টিএসআই ইভো ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকা ৭-স্পিড ডিএসজি এই প্রযুক্তির উপরই কাজ করে।

গিয়ার বদলের সময় প্রায় বোঝাই যায় না
ডিএসজি-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর গিয়ার পরিবর্তনের গতি। পরের গিয়ার আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার কারণে প্রচলিত টর্ক কনভার্টার অটোমেটিকের তুলনায় অনেক দ্রুত গিয়ার পরিবর্তন করা সম্ভব। তাইগুনে এর প্রভাব সরাসরি বোঝা যায়। গিয়ার পরিবর্তন আলাদা কোনও ঘটনা বলে মনে হয় না। বরং গাড়ির গতি যেন একটানা বাড়তে থাকে। এএমটি বা কিছু প্রচলিত অটোমেটিক গিয়ারবক্সে গিয়ার পরিবর্তনের সময় সামান্য বিরতি বা ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে। ডিএসজি-তে সেই অনুভূতি অনেকটাই কম। ফলে অ্যাক্সিলারেটর চাপলে দ্রুত এবং ধারাবাহিকভাবে গতি বাড়ে।
দ্রুত ওভারটেকিংয়ে বড় সুবিধা
ডিএসজি শুধু দ্রুত গিয়ার পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। চালকের ইনপুটের দ্রুত প্রতিক্রিয়াও এর অন্যতম বড় সুবিধা। হাইওয়েতে ওভারটেক করার সময় সামনে জায়গা দ্রুত কমে আসা, ট্র্যাফিকের মধ্যে দ্রুত ফাঁক তৈরি হওয়া কিংবা সিগন্যাল থেকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে গাড়ির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। ডিএসজি-তে পরের গিয়ার আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার কারণে হঠাৎ অ্যাক্সিলারেটর চাপলে গিয়ারবক্স দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
ম্যানুয়াল গাড়ির মতো নিয়ন্ত্রণও রয়েছে
যাঁরা ম্যানুয়াল গাড়ি চালাতে পছন্দ করেন এবং গাড়ির গিয়ারের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান, তাঁদের জন্যও ডিএসজি আকর্ষণীয়। তাইগুনে প্যাডল শিফটার রয়েছে। ফলে চালক চাইলে নিজে গিয়ার পরিবর্তন করতে পারেন। কর্নারের আগে গিয়ার ডাউনশিফট করা কিংবা ওভারটেকের সময় নির্দিষ্ট গিয়ারে গাড়ি ধরে রাখার মতো কাজ সহজেই করা যায়। এর ফলে স্পোর্টি ড্রাইভিংয়ের সময় গাড়ির প্রতিক্রিয়া আরও নিয়ন্ত্রিত মনে হয়।
১.৫ লিটার টিএসআই ইভো ও ডিএসজি জুটি কেন এত জনপ্রিয়?
তাইগুনের ১.৫ লিটার টিএসআই ইভো ইঞ্জিন এবং ৭-স্পিড ডিএসজি কম্বিনেশন এই সেগমেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় পাওয়ারট্রেন হিসেবে বিবেচিত হয়। ডিএসজি দ্রুত গিয়ার পরিবর্তন করার পাশাপাশি ইঞ্জিনের শক্তিকে মসৃণভাবে রাস্তায় পৌঁছে দেয়। ফলে গাড়িটি শুধু দ্রুত মনে হয় না, দীর্ঘ সময় হাইওয়ে চালানোর ক্ষেত্রেও আরামদায়ক থাকে। এর সঙ্গে তাইগুনের হ্যান্ডলিং এবং চ্যাসিসও স্পোর্টি ড্রাইভিংয়ের জন্য তৈরি। ফলে বাঁকানো রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় আরও বেশি আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়।
৮-স্পিড অটোমেটিকও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়
তবে প্রত্যেক ক্রেতার জন্য ডিএসজি সেরা পছন্দ নাও হতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই তাইগুনে ১.০ লিটার টিএসআই ইঞ্জিনের সঙ্গে ৮-স্পিড অটোমেটিক ট্রান্সমিশন দেওয়া হয়েছে। এই গিয়ারবক্সের প্রধান লক্ষ্য হল মসৃণ এবং সহজ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে শহরের যানজটে বারবার থামা এবং ধীরে এগোনোর সময় টর্ক কনভার্টার অটোমেটিকের মসৃণতা কাজে আসে। খুব কম গতিতে ডিএসজি মাঝে মাঝে সামান্য দ্বিধা বা ঝাঁকুনি দেখাতে পারে, কিন্তু ৮-স্পিড অটোমেটিক সেখানে তুলনামূলকভাবে মসৃণ।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
শহরের ট্র্যাফিকে ৮-স্পিড অটোমেটিকের সুবিধা
অফিস টাইমের ভারী ট্র্যাফিক কিংবা সরু জায়গায় পার্কিংয়ের সময় ৮-স্পিড অটোমেটিক আরও স্বচ্ছন্দ মনে হতে পারে। গাড়ি ধীরে ধীরে এগোনোর সময় পাওয়ার ডেলিভারি মসৃণ থাকে। পার্কিংয়ের মতো কম গতির পরিস্থিতিতেও অ্যাক্সিলারেটরের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে অনুমানযোগ্য। এছাড়া অতিরিক্ত গিয়ার থাকার কারণে হাইওয়েতে নির্দিষ্ট গতিতে চলার সময় ইঞ্জিনকে তুলনামূলক কম আরপিএম-এ রাখা সম্ভব। এর ফলে রিফাইনমেন্ট এবং জ্বালানি দক্ষতার ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
সিভিটি ও ম্যানুয়ালের তুলনায় তাইগুন কোথায় এগিয়ে?
অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী এসইউভিতে সিভিটি পাওয়া যায়। সিভিটি মূলত মসৃণতা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। কিন্তু দ্রুত অ্যাক্সিলারেট করার সময় অনেক সিভিটিতে তথাকথিত রাবার-ব্যান্ড এফেক্ট দেখা যায়। অর্থাৎ ইঞ্জিনের আরপিএম বেড়ে গেলেও গাড়ির গতি সেই অনুপাতে দ্রুত বাড়ছে বলে মনে হয় না।
অন্যদিকে ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স চালককে বেশি নিয়ন্ত্রণ দেয় ঠিকই, কিন্তু ভারতের ব্যস্ত শহরের ট্র্যাফিকে বারবার ক্লাচ ও গিয়ার ব্যবহার করা ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাইগুনের ডিএসজি এখানে দ্রুততা ও চালানোর আনন্দ দেয়, আর ৮-স্পিড অটোমেটিক দেয় কম পরিশ্রমে মসৃণ ড্রাইভিং।
কোন গিয়ারবক্স কার জন্য?
ডিএসজি: যাঁরা দ্রুত গিয়ারশিফট, স্পোর্টি ড্রাইভিং, দ্রুত ওভারটেক এবং চালকের ইনপুটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া চান, তাঁদের জন্য বেশি আকর্ষণীয়। ৮-স্পিড অটোমেটিক: যাঁদের দৈনন্দিন চালানোর বেশিরভাগটাই শহরের যানজটে এবং যাঁরা মসৃণ, সহজ ও কম পরিশ্রমের ড্রাইভিং চান, তাঁদের জন্য এটি বেশি উপযুক্ত।
ভক্সওয়াগেন তাইগুনের ট্রান্সমিশন লাইনআপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এখানে দুই ধরনের ক্রেতার প্রয়োজনই পূরণ করা হয়েছে। ডিএসজি গাড়িটিকে আরও মজাদার ও প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে, আর ৮-স্পিড অটোমেটিক শহরের দৈনন্দিন ব্যবহারে মসৃণতা ও আরামকে অগ্রাধিকার দেয়।