নতুন R2 কেন এগিয়ে, জানুন ৫ বড় কারণ - 24 Ghanta Bangla News
Home

নতুন R2 কেন এগিয়ে, জানুন ৫ বড় কারণ

Spread the love

কলকাতা: ইয়ামাহা সম্প্রতি ভারতে নতুন ওয়াইএফজেড-আর২ লঞ্চ করেছে। সংস্থার আর-সিরিজে এটি এখন আর১৫ ভি৪-এর (Yamaha R2) উপরে অবস্থান করছে। জনপ্রিয় আর১৫ ভি৪-এর (Yamaha R15 V4)…

কলকাতা: ইয়ামাহা সম্প্রতি ভারতে নতুন ওয়াইএফজেড-আর২ লঞ্চ করেছে। সংস্থার আর-সিরিজে এটি এখন আর১৫ ভি৪-এর (Yamaha R2) উপরে অবস্থান করছে। জনপ্রিয় আর১৫ ভি৪-এর (Yamaha R15 V4) তুলনায় নতুন আর২-এ বেশি শক্তিশালী ইঞ্জিন, উন্নত সাসপেনশন, বড় ব্রেক এবং অতিরিক্ত কিছু ইলেকট্রনিক ফিচার রয়েছে। তবে দামও বেশি। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, আর১৫ ভি৪-এর তুলনায় আর২-তে অতিরিক্ত টাকা খরচ করার কারণ কী? দেখে নেওয়া যাক পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

১. বড় ইঞ্জিন, বেশি শক্তি, ওজনও খুব বেশি বাড়েনি

ইয়ামাহা আর২-তে রয়েছে নতুন ২০৪ সিসি লিকুইড-কুলড সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ২৬.৫ পিএস শক্তি এবং ১৯.১ এনএম টর্ক পাওয়া যায়। অন্যদিকে আর১৫ ভি৪-এর ইঞ্জিন থেকে পাওয়া যায় ১৮.৪ পিএস শক্তি এবং ১৪.২ এনএম টর্ক। অর্থাৎ আর২ প্রায় ৮.১ পিএস বেশি শক্তি এবং ৪.৯ এনএম বেশি টর্ক দিচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বড় ইঞ্জিন থাকা সত্ত্বেও ওজন খুব বেশি বাড়েনি। আর২-এর কার্ব ওজন ১৪৯ কেজি, যা আর১৫ ভি৪-এর তুলনায় প্রায় ৮ কেজি বেশি। ফলে পাওয়ার-টু-ওয়েট রেশিওর দিক থেকেও আর২ বেশ আকর্ষণীয়।

২. উন্নত এবং বেশি অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন

আর২-এর অন্যতম বড় সুবিধা হল এর সাসপেনশন সেটআপ। সামনে রয়েছে কেওয়াইবি ইউএসডি ফর্ক। টপ-স্পেক আর২ এম ভ্যারিয়েন্টে সামনে প্রিলোড অ্যাডজাস্টমেন্টের সুবিধাও পাওয়া যায়। পিছনে রয়েছে প্রিলোড-অ্যাডজাস্টেবল মনোশক। ফলে রাইডারের ওজন, রাইডিং স্টাইল কিংবা রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী সাসপেনশন সেটআপ করার সুযোগ থাকছে। আর১৫ ভি৪-এর তুলনায় এটি বিশেষ করে যারা স্পোর্টি রাইডিং বা ট্র্যাক রাইডিং পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

৩. অ্যাডজাস্টেবল ফুটপেগ ও লিভার

আর২-এ রাইডারের প্রয়োজন অনুযায়ী সেটআপ পরিবর্তনের আরও কিছু সুবিধা রয়েছে। টপ ভ্যারিয়েন্টে ব্রেক এবং ক্লাচ লিভার অ্যাডজাস্ট করা যায়৷ এছাড়া রাইডার ফুটপেগের জন্য একাধিক মাউন্টিং পজিশন রয়েছে। এর ফলে কর্নারিংয়ের সময় বাইকের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং রাইডিং পজিশন নিজের পছন্দ অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা সম্ভব। যাঁরা দ্রুত গতিতে কর্নার নেওয়া কিংবা ট্র্যাকে বাইক চালাতে পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এই ফিচারগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

৪. বড় ব্রেক এবং চার-পিস্টন ক্যালিপার

আর২-এর অতিরিক্ত শক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্রেকিং হার্ডওয়্যারেও আপগ্রেড করা হয়েছে। সামনে রয়েছে নিসিনের চার-পিস্টন ক্যালিপার। তুলনায় আর১৫ ভি৪-এ রয়েছে দুই-পিস্টন ক্যালিপার। বড় এবং শক্তিশালী ব্রেক সেটআপের ফলে আর২-এ আরও শক্তিশালী ব্রেকিং পারফরম্যান্স ও ভালো ফিডব্যাক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বেশি গতিতে রাইড করার সময় এটি বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে।

৫. বেশি রাইডিং মোড ও বাড়তি ফিচার

আর২-এ রয়েছে স্ট্রিট, স্পোর্ট এবং রেন, এই তিনটি রাইডিং মোড। নির্বাচিত মোড অনুযায়ী থ্রটল রেসপন্স এবং বাইকের পারফরম্যান্সের চরিত্র পরিবর্তিত হয়। টপ-স্পেক আর২ এম ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে কীলেস স্টার্ট সিস্টেম। ফলে প্রযুক্তি এবং সুবিধার দিক থেকেও আর২ আর১৫ ভি৪-এর তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে। আর১৫ ভি৪-এর ক্ষেত্রে কনসোল মোডের সুবিধা মূলত এম ভ্যারিয়েন্টের টিএফটি কনসোলের সঙ্গে যুক্ত।

তাহলে আর২ কি সত্যিই আর১৫ ভি৪-এর চেয়ে ভালো?

পারফরম্যান্স এবং হার্ডওয়্যারের দিকে দেখলে নতুন ইয়ামাহা আর২ স্পষ্টতই বেশি প্রিমিয়াম প্যাকেজ। বড় ইঞ্জিন, বেশি শক্তি ও টর্ক, ইউএসডি ফর্ক, অ্যাডজাস্টেবল রিয়ার মনোশক, চার-পিস্টন ফ্রন্ট ক্যালিপার এবং অতিরিক্ত রাইডিং ফিচার এটিকে আর১৫ ভি৪-এর উপরে অবস্থান করার যুক্তি দেয়। তবে আর১৫ ভি৪-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর তুলনামূলক কম দাম এবং ইতিমধ্যেই প্রমাণিত ১৫৫ সিসি প্ল্যাটফর্ম। তাই প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য কম বাজেটে স্পোর্টস বাইক চাইলে আর১৫ এখনও যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত পছন্দ। অন্যদিকে আরও বেশি পারফরম্যান্স, উন্নত হার্ডওয়্যার এবং স্পোর্টি রাইডিংয়ের জন্য বাড়তি টাকা খরচ করতে রাজি থাকলে আর২ বেশি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *