অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! কারুয়ানাকে হারিয়ে গ্র্যান্ড চেস ট্যুরে ইতিহাস প্রজ্ঞানন্দর
কল: অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন ভারতের রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa)। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসেবে গ্র্যান্ড চেস ট্যুর (Grand Chess Tour)…
কল: অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন ভারতের রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa)। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসেবে গ্র্যান্ড চেস ট্যুর (Grand Chess Tour) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য নজির গড়লেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেন্ট লুইসে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফাবিয়ানো কারুয়ানাকে (Fabiano Caruana) হারিয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ খেতাব নিজের নামে করলেন চেন্নাইয়ের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার। ২০২৬ সালটা যে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা বছর হতে চলেছে, এই জয় যেন তারই সিলমোহর।
লড়াইটা একেবারেই সহজ ছিল না। ক্লাসিক্যাল গেমসের পর কারুয়ানার থেকে ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। স্কোরবোর্ড তখন ৩-৯। সেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কার্যত অসম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু র্যাপিড গেমসে পরপর দু’টি জয় ছিনিয়ে নিয়ে স্কোর ১১-৯ করে ফেলেন প্রজ্ঞানন্দ। এরপর ব্লিটজ গেমসের প্রথমটি ড্র হলেও, দ্বিতীয়টিতে জিতে ১২-১২ সমতায় ফেরেন কারুয়ানা। তবে স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে তৃতীয় ব্লিটজ জিতে ফের লিড নেন ভারতীয় তারকা। শেষ গেমে তাঁর প্রয়োজন ছিল একটি মাত্র ড্র। জেতার সুযোগ থাকলেও ‘থ্রি-ফোল্ড রিপিটেশন’-এর মাধ্যমে ড্র করেই খেতাব নিশ্চিত করেন তিনি। সব মিলিয়ে ফাইনালে ৬টি গেমের মধ্যে প্রজ্ঞানন্দ জেতেন তিনটি, ড্র করেন দু’টি এবং হারেন মাত্র একটিতে।
কী বলছেন চ্যাম্পিয়ন?
এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর প্রজ্ঞানন্দ নিজেই যেন কিছুটা অবাক। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে কী, আজ আমার জেতার খুব একটা সুযোগ আছে বলে আমি ভাবিনি। ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকাটা অনেক বড় একটা ব্যবধান। এই অবস্থায় জিততে গেলে ঠিক যেটা করা দরকার ছিল, আমি সেটাই করেছি।”
এরপর তিনি যোগ করেন, “ফাবির (কারুয়ানা) বিরুদ্ধে একটা জয় পাওয়াই কঠিন, সেখানে র্যাপিডে পরপর দুটো জয় খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গত বছরের তুলনায় আমার র্যাপিড ও ব্লিটজ গেমে অনেকটা উন্নতি হয়েছে, আর এই ফরম্যাটে সেটাই তফাত গড়ে দিয়েছে।”
সোনালি বছর ২০২৬
২০২৬ সালে একের পর এক টুর্নামেন্টে তাবড় তাবড় প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করেছেন প্রজ্ঞানন্দ। বছরের শুরুতে ক্যান্ডিডেটসে (Candidates) সেভাবে দাগ কাটতে না পারলেও, নরওয়ে চেসে বিশ্বজয়ী ম্যাগনাস কার্লসেনকে দু’বার হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর সেন্ট লুইসে র্যাপিড ও ব্লিটজে খেতাব জেতেন এবং সিঙ্কফিল্ড কাপে যুগ্মভাবে প্রথম হন। প্রজ্ঞানন্দ বলেন, “ক্যান্ডিডেটস জিততে পারলে আরও ভালো লাগত ঠিকই, তবে এমন একটা টুর্নামেন্ট জেতাটাও বিরাট ব্যাপার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরেই ঐতিহ্য ও মর্যাদার দিক থেকে গ্র্যান্ড চেস ট্যুরের স্থান।”
পুরস্কার ও পরবর্তী লক্ষ্য
এই টুর্নামেন্ট জিতে ২ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা) আর্থিক পুরস্কার ঘরে তুললেন প্রজ্ঞানন্দ। সেই সঙ্গে ২০২৭ সালের ট্যুরে নিজের জায়গাও পাকা করে নিলেন। ২০২৬ সালের সার্কিটে সব মিলিয়ে তাঁর মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৪ লক্ষ ৪ হাজার ৩৫৪ ডলার।
সেন্ট লুইসে প্রায় এক মাস টানা দাবা খেলার পর, প্রজ্ঞানন্দর পরবর্তী লক্ষ্য এখন দাবা অলিম্পিয়াড। আগামী ১৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের সমরকন্দে আয়োজিত হতে চলা এই প্রতিযোগিতায় খেতাব ধরে রাখতে নামবে ভারতীয় দল, আর সেই দলের অন্যতম প্রধান সেনাপতি এখন গ্র্যান্ড চেস ট্যুর জয়ী প্রজ্ঞানন্দই।
রাজনাথের অস্ত্র উৎপাদনের বেসরকারিকরণে এবার তৈরী হবে ১৫০০ কিলোমিটার পাল্লার মিসাইল