উদ্দাম, বল্গাহীন চরিত্রে ফের মঞ্চে সমরেশ বসু
বিপ্লবকুমার ঘোষ
‘জীবন, জীবন মোহ…ভাষা হারা বুকে স্বপ্নের বিদ্রোহ। …মেলাবেন, তিনি মেলাবেন।’ সরল-রৈখিকতার চরম বিপ্রতীক কৌণিক বিন্দুতে দাঁড়িয়ে সাহিত্যিক সমরেশ বসুর জীবন। বাংলার রঙ্গমঞ্চে সহজ সরল ও প্রথাগত নিয়মকে অগ্রাহ্য করে সেটা তুলে ধরতে পেরেছেন নাট্যকার হর ভট্টাচার্য। ‘অমৃতসন্ধান’ নাটকে। আরও আকর্ষণ বেড়েছে নির্দেশক অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদারের সঙ্গে জোট তৈরি হওয়ায়। এই ত্রয়ীর সম্মিলিত প্রয়াসে সমরেশের রূপ ও স্বরূপ নিঃসন্দেহে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। অভিনেতা দেবশঙ্করকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। এই নাটকে রূপে ও স্বরূপে তিনি সমরেশ বসুর এতটাই কাছাকাছি পৌঁছেছেন যে তা নিঃসন্দেহে বিস্ময় জাগায়। আর নাট্য নির্দেশনায় অনির্বাণ ভট্টাচার্যের দক্ষতা তুলনাহীন। তিনি নিজেই বলছেন, ‘এই নাটকে বর্তমান এবং অতীত কখনও কৌণিক দূরত্বে দাঁড়িয়ে একে অন্যকে নিরীক্ষণ করেছে, বিশ্লেষণ করেছে। আবার কখনও একই সময়ে বিন্দুতে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।’ নির্দেশকের সাফল্য যে, এই নাটকে সুরথ এবং সমরেশ হিসেবে দু’জন পৃথক অভিনেতাকে দেখতে পেলেও গৌরী বসু কিন্তু একজনই। এটাই অনির্বাণের মাস্টার স্ট্রোক।