Yamaha YZF R2-এর কোন ভ্যারিয়েন্টে কী রয়েছে? জানুন দামের পার্থক্য
গুরুগাঁও: ভারতের ২০০ সিসি মোটরসাইকেল সেগমেন্টে নতুন বিকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ-আর২ (Yamaha YZF R2)। সদ্য লঞ্চ হওয়া এই স্পোর্টস বাইকের দাম শুরু হয়েছে ২,৩০,৫০০ টাকা, এক্স-শোরুম, দিল্লি থেকে। জনপ্রিয় ইয়ামাহা আর১৫ ভি৪-এর উপরে জায়গা করে নিয়েছে নতুন আর২।
ইয়ামাহা মোটরসাইকেলটি তিনটি ভ্যারিয়েন্টে বাজারে এনেছে। এগুলি হল ওয়াইজেডএফ-আর২ বেস, ওয়াইজেডএফ-আর২ উইথ কুইক শিফটার এবং ওয়াইজেডএফ-আর২ এম। তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই একই ইঞ্জিন এবং একই চ্যাসিস ব্যবহার করা হয়েছে। মূল পার্থক্য তৈরি হয়েছে ফিচার, রঙ এবং কিছু হার্ডওয়্যার সরঞ্জামে।
১৯.৪৯ লক্ষ টাকায় MG Hector Tomahawk EV, বাড়িতেও বিদ্যুৎ দেবে এই SUV
তিন ভ্যারিয়েন্টের দাম এক নজরে
ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ-আর২-এর বেস ভ্যারিয়েন্টের দাম ২,৩০,৫০০ টাকা। এর পরের কুইক শিফটার ভ্যারিয়েন্টের দাম ২,৩৯,৫০০ টাকা। আর সবচেয়ে দামি ওয়াইজেডএফ-আর২ এম ভ্যারিয়েন্টের দাম ২,৫৩,০০০ টাকা। সব দামই এক্স-শোরুম, দিল্লি। ইয়ামাহার কৌশল এখানে বেশ সহজ। তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই মূল পারফরম্যান্স হার্ডওয়্যার একই রাখা হয়েছে। ফলে বেশি টাকা খরচ করলে মূলত অতিরিক্ত সুবিধা, দ্রুত গিয়ার বদলের প্রযুক্তি এবং আরও প্রিমিয়াম হার্ডওয়্যার পাওয়া যাবে।
ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ-আর২ বেস ভ্যারিয়েন্ট
এন্ট্রি-লেভেল বেস ভ্যারিয়েন্টের দাম ২,৩০,৫০০ টাকা। এই মডেলটি অপেক্ষাকৃত গাঢ় রঙে পাওয়া যাবে। এর সঙ্গে থাকছে কালো রঙের অ্যালয় হুইল। বেস মডেলটি তাঁদের জন্য তৈরি, যাঁরা আর২-এর সম্পূর্ণ পারফরম্যান্স চান কিন্তু অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য বেশি টাকা খরচ করতে চান না। এই ভ্যারিয়েন্টে ডার্ক ব্লুইশ গ্রে এবং মেটালিক ব্ল্যাক রঙের বিকল্প রয়েছে।
কুইক শিফটার ভ্যারিয়েন্টে কী বাড়তি?
মিড-স্পেক ওয়াইজেডএফ-আর২-এর দাম ২,৩৯,৫০০ টাকা। অর্থাৎ বেস মডেলের তুলনায় ৯,০০০ টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত দামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল বাই-ডিরেকশনাল কুইক শিফটার। এর সাহায্যে ক্লাচ ব্যবহার না করেই দ্রুত গিয়ার আপশিফট এবং ডাউনশিফট করা যায়। বিশেষ করে স্পোর্টি রাইডিংয়ের সময় এই প্রযুক্তি বেশি কাজে আসতে পারে। এই ভ্যারিয়েন্টে রঙও কিছুটা বেশি উজ্জ্বল। রেসিং ব্লু এবং ম্যাট হোয়াইট পার্ল রঙে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যাবে।
নতুন Renault Duster: ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা, কোন দেশের গাড়িতে বেশি সুবিধা?
সবচেয়ে প্রিমিয়াম ওয়াইজেডএফ-আর২ এম
রেঞ্জের সবচেয়ে দামি মডেল হল ওয়াইজেডএফ-আর২ এম। এর দাম ২,৫৩,০০০ টাকা। বেস ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় এর দাম ২২,৫০০ টাকা বেশি। এই ভ্যারিয়েন্টে ইয়ামাহা আরও বেশি প্রিমিয়াম হার্ডওয়্যার দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন এবং অ্যাডজাস্টেবল লিভার। ফলে রাইডার নিজের পছন্দ ও রাইডিং পরিস্থিতি অনুযায়ী বাইকের সেটআপ বদলাতে পারবেন। এছাড়াও রয়েছে স্মার্ট কি এবং বিশেষ রঙ ও প্রিমিয়াম ফিনিশ। ওয়াইজেডএফ-আর২ এম শুধুমাত্র মেটালিক গ্রে রঙে পাওয়া যাবে।
তিন ভ্যারিয়েন্টেই একই ইঞ্জিন
ভ্যারিয়েন্ট বদলালেও পারফরম্যান্সে কোনও পার্থক্য নেই। তিনটি মডেলেই একই নতুন ২০০ সিসি লিকুইড-কুলড সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন রয়েছে। এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ২৬.৫ পিএস শক্তি এবং ১৯.১ এনএম টর্ক তৈরি করে। ইয়ামাহার দাবি অনুযায়ী, এটি এই সেগমেন্টের অন্যতম শক্তিশালী ইঞ্জিন। ইঞ্জিনের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স এবং অ্যাসিস্ট অ্যান্ড স্লিপার ক্লাচ। ফলে তিনটি ভ্যারিয়েন্টের যেকোনও একটি কিনলেও ইঞ্জিন পারফরম্যান্সে কোনও আপস করতে হবে না।
চ্যাসিস ও সাসপেনশনেও মিল
তিনটি ভ্যারিয়েন্টই স্টিল টিউব ডায়মন্ড ফ্রেমের উপর তৈরি। সামনে রয়েছে ৩৭ মিলিমিটারের ইউএসডি ফর্ক এবং পিছনে লিঙ্কড-টাইপ মনোক্রস রিয়ার শক। তবে ওয়াইজেডএফ-আর২ এম ভ্যারিয়েন্টে অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন থাকায় রাইডার সেটআপ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবেন। বেস এবং মিড ভ্যারিয়েন্টে সেই সুবিধা নেই। ব্রেকিংয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছে সামনে ২৮২ মিলিমিটারের ডিস্ক এবং পিছনে ২২০ মিলিমিটারের ডিস্ক। তিনটি মডেলেই ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রয়েছে।
সব ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে একাধিক ইলেকট্রনিক ফিচার
আর২-এর ক্ষেত্রে ইয়ামাহা গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ফিচারগুলিকে শুধু টপ ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। তিনটি মডেলেই রয়েছে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং রাইড-বাই-ওয়্যার থ্রটল। রাইডিং মোডের ক্ষেত্রেও একাধিক বিকল্প রয়েছে। স্ট্রিট, স্পোর্ট এবং রেন মোডের পাশাপাশি কাস্টম মোডও পাওয়া যায়। ফলে রাস্তার পরিস্থিতি বা রাইডারের পছন্দ অনুযায়ী বাইকের চরিত্র বদলানো সম্ভব।
৫ ইঞ্চির টিএফটি ডিসপ্লে সব মডেলেই
আর২-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ৫ ইঞ্চির ফুল-কালার টিএফটি ডিসপ্লে। এটি শুধু এম ভ্যারিয়েন্টে নয়, তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ডিসপ্লেতে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি এবং টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশনের সুবিধা রয়েছে। ফলে বেস ভ্যারিয়েন্ট কিনলেও রাইডার আধুনিক ইলেকট্রনিক ফিচারের বড় অংশই পাবেন।
কোন ভ্যারিয়েন্ট আপনার জন্য?
যাঁরা সবচেয়ে কম দামে ওয়াইজেডএফ-আর২-এর পারফরম্যান্স পেতে চান, তাঁদের জন্য বেস ভ্যারিয়েন্ট যথেষ্ট। ২,৩০,৫০০ টাকার মডেলেই একই ২০০ সিসি ইঞ্জিন, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, রাইডিং মোড এবং ৫ ইঞ্চির টিএফটি ডিসপ্লে রয়েছে।
আর একটু বেশি টাকা খরচ করে বাই-ডিরেকশনাল কুইক শিফটার চাইলে ২,৩৯,৫০০ টাকার মিড ভ্যারিয়েন্টটি বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে। অন্যদিকে যাঁরা সাসপেনশন ও লিভার অ্যাডজাস্টমেন্ট, স্মার্ট কি এবং বিশেষ প্রিমিয়াম ফিনিশ চান, তাঁদের জন্য ২,৫৩,০০০ টাকার ওয়াইজেডএফ-আর২ এম সবচেয়ে উপযুক্ত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই ইঞ্জিন, চ্যাসিস এবং মূল ইলেকট্রনিক প্যাকেজ একই। তাই অতিরিক্ত টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত মূলত নির্ভর করবে কুইক শিফটার এবং এম ভ্যারিয়েন্টের অতিরিক্ত হার্ডওয়্যার ও সুবিধাগুলি আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার উপর।