Kia Sorento-এর দাম কি কোডিয়াকের থেকেও কম? ৩০ লক্ষের নিচে শুরু হতে পারে
গুরুগাঁও: ভারতের বাজারে বহু প্রতীক্ষিত কিয়া সোরেন্টো (Kia Sorento) অবশেষে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। আগামী সপ্তাহেই নতুন এই প্রিমিয়াম এসইউভি ভারতে লঞ্চ করবে কিয়া। সংস্থা ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটির দাম ঘোষণা করবে। তবে তার আগেই সূত্রের দাবি, প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় আরও আগ্রাসী দামে বাজারে আসতে পারে সোরেন্টো।
এর আগে মনে করা হয়েছিল, কিয়া সোরেন্টোকে কমপ্লিটলি নকড ডাউন বা সিকেডি পদ্ধতিতে ভারতে আনবে। সেই ক্ষেত্রে গাড়িটির দাম ৩৫ লক্ষ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা, এক্স-শোরুমের মধ্যে হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন তথ্য অনুযায়ী, কিয়া গাড়িটিতে উল্লেখযোগ্যভাবে স্থানীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে পারে। ফলে সোরেন্টোর দাম অনেকটাই কমে যেতে পারে।

৩০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি শুরু হতে পারে দাম
সূত্রের দাবি সত্যি হলে কিয়া সোরেন্টোর প্রাথমিক দাম ২৮ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা, এক্স-শোরুমের মধ্যে হতে পারে। যদিও কিয়া এখনও এই দাম নিশ্চিত করেনি, এমন দাম হলে ভারতীয় বাজারে সোরেন্টোর অবস্থান অনেকটাই বদলে যাবে।
Read More: ১৯.৪৯ লক্ষ টাকায় MG Hector Tomahawk EV, বাড়িতেও বিদ্যুৎ দেবে এই SUV
এই দামে গাড়িটি শুধুমাত্র স্কোডা কোডিয়াক, ভক্সওয়াগেন টায়রন বা হোন্ডা জেডআর-ভি-এর মতো প্রিমিয়াম এসইউভির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। বরং এর নিচের দামের মহিন্দ্রা এক্সইউভি ৭এক্সও, জিপ মেরিডিয়ান এবং টাটা সাফারির মতো মডেলগুলিও সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে কিয়ার বর্তমান সেলটোস এবং সনেট মালিকদের কাছেও সোরেন্টো একটি সম্ভাব্য আপগ্রেড হিসেবে উঠে আসতে পারে।
বিদেশের মডেলের মতোই দেখতে সোরেন্টো
কিয়া ইতিমধ্যেই একাধিক টিজার এবং ছবি প্রকাশ করেছে। সেই ছবি ও ভিডিও থেকে স্পষ্ট, ভারতে আসতে চলা সোরেন্টোর ডিজাইন আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হওয়া মডেলের সঙ্গে অনেকটাই মিলবে। সামনে রয়েছে কিয়ার পরিচিত ‘টাইগার-নোজ’ গ্রিল। এর দু’পাশে এলইডি হেডল্যাম্প এবং ডিআরএল রয়েছে। নিচের দিকে দেওয়া হয়েছে সিলভার স্কিড প্লেট, যা এসইউভিটির সামনের অংশকে আরও শক্তপোক্ত চেহারা দিয়েছে। পাশ থেকে গাড়িটিতে বড় ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল, প্রচলিত পুল-টাইপ দরজার হ্যান্ডল, কালো রুফ রেল এবং সামনের দরজায় ক্রোম ইনসার্ট দেখা যায়।
পিছনের অংশে রয়েছে স্প্লিট এলইডি টেলল্যাম্প, নিচের বাম্পারে ক্রোম ইনসার্ট এবং বড় রুফ স্পয়লার। টিজারে ম্যাট ব্ল্যাক রঙের গাড়িও দেখা গিয়েছে। ফলে লঞ্চের সময় এক্স-লাইন ভ্যারিয়েন্ট আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
Read More: নতুন Renault Duster: ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা, কোন দেশের গাড়িতে বেশি সুবিধা?
১২.৩ ইঞ্চির দু’টি ডিসপ্লে
ইন্টেরিয়রের ক্ষেত্রে কিয়া সোরেন্টোতে একাধিক প্রিমিয়াম ফিচার দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গাড়িতে টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম এবং ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লের জন্য দু’টি ১২.৩ ইঞ্চির স্ক্রিন থাকতে পারে। এর সঙ্গে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে, বোস প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম, প্যানোরামিক সানরুফ, পাওয়ারড ও ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট এবং ওয়্যারলেস চার্জারের মতো সুবিধাও থাকতে পারে।
সোরেন্টোর আরও একটি আকর্ষণীয় ফিচার হতে পারে রুফ-মাউন্টেড ক্যামেরা। এই ক্যামেরার লাইভ ফিড ইন্টেরিয়র রিয়ার ভিউ মিররে দেখা যেতে পারে। টাটা সাফারিতেও একই ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা প্রথমে ল্যান্ড রোভার-এর মতো বিলাসবহুল এসইউভিতে দেখা গিয়েছিল।
৬ ও ৭ আসনের বিকল্প
কিয়া সোরেন্টো একাধিক সিটিং কনফিগারেশনে আসতে পারে। টিজার থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভারতে গাড়িটি ৬ এবং ৭ আসনের বিকল্পে পাওয়া যাবে। ৬ আসনের সংস্করণে দ্বিতীয় সারিতে ক্যাপ্টেন সিট থাকবে। ফলে এই সংস্করণে পিছনের যাত্রীদের জন্য আরও বেশি ব্যক্তিগত জায়গা এবং আরাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ৭ আসনের সংস্করণে তিনটি সারিতে মোট সাতজন বসতে পারবেন।
লেভেল ২ এডিএএস-সহ একাধিক সেফটি ফিচার
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কিয়া সোরেন্টোতে একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি থাকতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল লেভেল ২ এডিএএস বা অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম। এছাড়াও একাধিক এয়ারব্যাগ, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল, সামনে ও পিছনে পার্কিং সেন্সর এবং ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরার মতো ফিচার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
টার্বো-পেট্রল হাইব্রিড ও ডিজেল ইঞ্জিন
পাওয়ারট্রেনের ক্ষেত্রে কিয়া আন্তর্জাতিক মডেলের মতো টার্বো-পেট্রল হাইব্রিড এবং ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প দিতে পারে।

হাইব্রিড সংস্করণে অল-হুইল ড্রাইভ বা এডব্লিউডি থাকতে পারে। অন্যদিকে ডিজেল সংস্করণে ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ বা এফডব্লিউডি দেওয়া হতে পারে।
একসঙ্গে একাধিক সেগমেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
কিয়া সোরেন্টোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হতে পারে এর সম্ভাব্য দাম। ২৮ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা, এক্স-শোরুমের মধ্যে দাম শুরু হলে এটি একই সঙ্গে একাধিক সেগমেন্টের ক্রেতাকে আকর্ষণ করতে পারে।
উপরের দিকে এর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে স্কোডা কোডিয়াক, ভক্সওয়াগেন টায়রন, জিপ মেরিডিয়ান এবং হোন্ডা জেডআর-ভি। আবার দাম যদি সত্যিই ৩০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি থেকে শুরু হয়, তাহলে মহিন্দ্রা এক্সইউভি ৭এক্সও এবং টাটা সাফারির মতো মডেলের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হবে।
তবে আপাতত এগুলি অনুমাননির্ভর হিসাব। কিয়া ৪ সেপ্টেম্বর সোরেন্টোর আনুষ্ঠানিক দাম ঘোষণা করবে। তখনই পরিষ্কার হবে, ভারতে এই বড় এসইউভিটি সত্যিই ৩০ লক্ষ টাকার নিচে শুরু হচ্ছে কি না। যদি এমনটা হয়, তাহলে প্রিমিয়াম ফিচার, ৬ ও ৭ আসনের বিকল্প এবং হাইব্রিড ও ডিজেল পাওয়ারট্রেনের কারণে ভারতীয় এসইউভি বাজারে সোরেন্টো যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।