‘আপনিই বাংলার ইতিহাস লিখবেন’, TV9 বাংলার মেগা কনক্লেভে মুখ্যমন্ত্রীকে বললেন MD-CEO বরুণ দাস | West Bengal’s History Will Be Written by You: TV9 Network MD CEO Barun Das Tells CM Suvendu Adhikari at TV9 Bangla Mega Conclave
TV9 নেটওয়ার্কের MD-CEO বরুণ দাস।Image Credit: TV9 বাংলা
কলকাতা: রাজ বদলের ১০০ দিন। কোন পথে এগোচ্ছে বাংলা, রাজ্যের ভবিষ্যৎ কী? -সেই নিয়ে আলোচনার জন্য মেগা কনক্লেভের আয়োজন টিভি৯ বাংলার। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও রাজ্যের প্রায় সকল মন্ত্রীরাই উপস্থিত রয়েছেন। মেগা কনক্লেভের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন টিভি৯ নেটওয়ার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর-সিইও বরুণ দাস।
এ দিন বক্তব্য রাখতে উঠেই টিভি৯ নেটওয়ার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর-সিইও বরুণ দাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও উপস্থিত সকল অতিথিদের টিভি৯ বাংলার তরফে স্বাগত জানান। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ব্যস্ত সময়ের মধ্যে থেকে সময় বের করে আসার জন্য। সরকারের একশো দিন পূর্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, কোনও সরকারের ১০০ দিনের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আলোচনা করতে আসিনি। আমার মনে হয়, যে সময়টার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, সেটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের নতুন একটা অধ্যায় লেখা হচ্ছে। ইতিহাস লেখা হয়নি, কিন্তু কলম কাগজ ছুঁয়েছে। এর আগেও বাংলা এমন একটা সঙ্কটময় মুহূর্ত দিয়ে গিয়েছে। সেটা অবশ্য ছিল অবিভক্ত বাংলা, উনিশ শতক। পরাধীন সমাজে বাল্য বিবাহ, সতীদাহ, একদিকে কুসংস্কার, অন্যদিকে আধুনিক শিক্ষা ও বিজ্ঞান নতুন জানালা খুলে দিচ্ছে। এরকমই একটা টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলার নবজাগরণ। রামমোহন আমাদের কুসংস্কারকে প্রশ্ন ও প্রত্যাখান করতে শেখালেন। সতীদাহের বিরুদ্ধে লড়লেন। বিদ্যাসাগর শেখালেন, সমাজের আগে কিন্তু মানুষ। নারী শিক্ষা ও বিধবা বিবাহের জন্য সমাজের সঙ্গে লড়লেন। এর পর বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জগদীশ চন্দ্র বসু, প্রফুল্ল চন্দ্র রায় সাহিত্য থেকে বিজ্ঞান- বাংলা শুধু নিজে বদলায়নি, গোটা ভারতকে পথ দেখিয়েছিল। কিন্তু আজকের পশ্চিমবঙ্গের চ্যালেঞ্জটা আরও বড়। কারণ পৃথিবী অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। আর বাংলা বোধ হয় দিনের পর দিন পিছিয়ে পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৬১ সালে বাংলা থেকে দেশের জিডিপি-তে কন্ট্রিবিউশন ছিল সাড়ে ১০ শতাংশ। ২০২৩-২৪-এ তা নেমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশের মতো। যদি পার ক্যাপিটা আয় ধরেন, তাহলে বাংলার অনুদান বাকিদের থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ছিল। ২০২৩-২৪ সালে সেটা ১৫ শতাংশের নীচে এসে গিয়েছে। আমাদের প্রায় ৭ শতাংশ জনসংখ্যা, কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলায় বিদেশি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ০.৪ শতাংশ। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির গড়ের হিসাব যদি করা হয়, তবে জাতীয় স্তরে অবদান ছিল ২৭ শতাংশ আর বাংলার গড় ছিল ২১ শতাংশ। এরকম অনেক তথ্য আছে।”
বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার আগে অতীতের কথা তুলে MD-CEO বরুণ দাস বলেন, “গত দেড় দশকে বাংলা সবথেকে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। বিনিয়োগ, শিল্প, স্বাস্থ্যক্ষেত্র, শিক্ষা, প্রশাসনিক এবং সর্বোপরি প্রশাসনের উপরে মানুষের ভরসা, প্রতিটি জায়গায় সমস্যা জমতে জমতে পাহাড় প্রমাণ হয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে ট্য়ালেন্টের অভাব ছিল না। সংস্কৃতির অভাব ছিল না। আমাদের ভৌগলিক সুবিধা কিন্তু বদলায়নি। কিন্তু বদলেছিল গভর্নেন্স। দুর্নীতি আর অরাজকতা পশ্চিমবঙ্গকে অধঃপতনের শেষ ধাপে নিয়ে গিয়েছে। এটা কোনও ব্যক্তিবিশেষের মতামত নয়, ২০২৬ সালের জনাদেশ ২০৮টি সিটে জয় এই জনাদেশকেই পরিষ্কার করে দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “কর্পোরেট জগতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে টার্ন অ্যারাউন্ড পরিস্থিতি বলা হয়।”
বিস্তারিত আসছে…