অপারেশন সিঁদুরে এস-৪০০ খুঁজতে পাকিস্তানের গুপ্তচর-স্লিপার সেল সক্রিয় ছিল
নয়াদিল্লি: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন ভারতের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোথায় মোতায়েন রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে পাকিস্তান একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল৷ এমনই দাবি করেছেন এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। তাঁর দাবি, ভারতের ভিতরে গুপ্তচর মোতায়েন করা থেকে শুরু করে স্লিপার সেল সক্রিয় করা, উপগ্রহের সাহায্য নেওয়া এবং আকাশ ও ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা ব্যবস্থা ব্যবহার করে এস-৪০০-এর অবস্থান জানার চেষ্টা করেছিল ইসলামাবাদ।
অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই দাবি করেন মিশ্র। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পাকিস্তান এস-৪০০-কে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখেছিল।
Read More: মক্কা চুক্তিতে সায় বাংলাদেশের? ‘কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়’, ভারতকে তোপ জামাতের
এস-৪০০-কে খুঁজতে ‘সব কৌশল’ ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান
এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ভারতের এস-৪০০ ব্যবস্থার অবস্থান জানতে একাধিক গোয়েন্দা পদ্ধতি কাজে লাগিয়েছিল। বারবার পাকিস্তানি আকাশযানকে এই ব্যবস্থা বাধা দেওয়ার পর ইসলামাবাদ এস-৪০০-কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করে বলে তাঁর দাবি। মিশ্র বলেন, পাকিস্তান ভারতের ভিতরে গুপ্তচর মোতায়েন করেছিল এবং তাদের স্লিপার সেল সক্রিয় করেছিল। লক্ষ্য ছিল ভারতের এস-৪০০ ব্যবস্থা কোথায় রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা।
তিনি বলেন, এস-৪০০-এর অবস্থান শনাক্ত করার জন্য পাকিস্তান ‘সব ধরনের কৌশল’ ব্যবহার করেছিল। এর মধ্যে আকাশ গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মতো সক্ষমতাও ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
অন্য দেশের উপগ্রহের সাহায্য নেওয়ার ইঙ্গিত
পাকিস্তানকে অন্য কোনও দেশের কাছ থেকে উপগ্রহ-ভিত্তিক সাহায্য দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন মিশ্র। তাঁর দাবি, পাকিস্তান অন্য দেশের উপগ্রহের সাহায্য ব্যবহার করেছিল। তবে কোন দেশ এই সহায়তা দিয়েছিল, তা প্রকাশ করেননি তিনি। মিশ্র স্পষ্ট করে জানান, তিনি সেই দেশের নাম বলতে চান না।
উপগ্রহের সাহায্য পেলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় সামরিক সরঞ্জাম বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য পাকিস্তান পেয়েছিল বা কোন দেশ এই সহায়তা দিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি এয়ার মার্শাল মিশ্র।
Read More: ৩০ মিনিটে ৩০ ফুট জলোচ্ছ্বাস! নেপালে হড়পা বানে মৃত ১৫৭, নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয়
আদমপুর বিমানঘাঁটি কেন পাকিস্তানের নিশানায়?
মিশ্র আরও জানান, অপারেশন সিঁদুরের সময় আদমপুর এয়ার ফোর্স স্টেশন পাকিস্তানের বিশেষ নজরে ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান মনে করেছিল ভারতের এস-৪০০ ব্যবস্থার মোতায়েনের সঙ্গে এই বিমানঘাঁটির সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণেই আদমপুর এয়ার ফোর্স স্টেশনে পাকিস্তান বিশেষভাবে ভারী আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামোর মধ্যে আদমপুর বিমানঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে সেখানে থাকা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা পাকিস্তানের সামরিক পরিকল্পনার অংশ ছিল বলে মিশ্রের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি
অপারেশন সিঁদুরে এস-৪০০-এর কার্যকারিতা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি সামনে এসেছে। ভারতীয় বায়ুসেনার বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় এস-৪০০ ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে একটি বড় পাকিস্তানি বিমানকে ধ্বংস করেছিল।
এটি এস-৪০০-এর দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। শুধু একটি লক্ষ্যবস্তু নয়, সংঘর্ষের সময় একাধিক আকাশপথের হুমকির বিরুদ্ধেও এই ব্যবস্থা কাজ করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এস-৪০০-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল দীর্ঘ দূরত্ব থেকে আকাশপথের লক্ষ্য শনাক্ত করার ক্ষমতা। বিভিন্ন ধরনের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে একাধিক শ্রেণির আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা করার ক্ষমতাও রয়েছে এই ব্যবস্থায়।
চতুর্থ এস-৪০০ আসায় আরও বাড়ল ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
ভারত এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চতুর্থ ইউনিট পাওয়ার পর দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতা আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলিকে সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এস-৪০০-কে ভারতের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ-পাল্লার শনাক্তকরণ, বিভিন্ন ধরনের ইন্টারসেপ্টর এবং একাধিক ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলার ক্ষমতা এই ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান যে এস-৪০০-এর অবস্থান জানতে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়েছিল, এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রের বক্তব্য সেই ব্যবস্থার কৌশলগত গুরুত্বের দিকটিই সামনে আনছে।
তবে পাকিস্তান ঠিক কতগুলি গুপ্তচর বা স্লিপার সেল ব্যবহার করেছিল, কিংবা অন্য কোনও দেশ থেকে কী ধরনের উপগ্রহ সহায়তা পেয়েছিল, সে বিষয়ে মিশ্র নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসা দাবিগুলির এই অংশগুলি নিয়ে আরও সরকারি তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা থাকবে।