UPA জমানার ‘Oil Bonds’-এর বোঝা মিটল ২০২৬-এ! BJP-র ভিডিও ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক
নয়াদিল্লি: পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আগের সরকারের তৈরি করা ‘Oil Bonds’-এর আর্থিক বোঝা নিয়ে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ…
নয়াদিল্লি: পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আগের সরকারের তৈরি করা ‘Oil Bonds’-এর আর্থিক বোঝা নিয়ে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, UPA জমানায় তেল সংস্থাগুলির ক্ষতিপূরণ দিতে যে বিশেষ বন্ড ইস্যু করা হয়েছিল, তার প্রভাব প্রায় দুই দশক ধরে দেশের অর্থনীতির উপর ছিল এবং শেষ বড় অঙ্কের মূলধনও ২০২৬ সালে পরিশোধ করতে হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, এই গোটা পর্বে মূলধন ও সুদ মিলিয়ে সরকারের উপর প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক দায় তৈরি হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৫ সালের দিকে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক দামের তুলনায় কম দামে জ্বালানি বিক্রি করছিল। ফলে তাদের বিপুল ‘under-recovery’ বা রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়। সেই ঘাটতি সরাসরি নগদে মেটানোর পরিবর্তে সরকার ‘Oil Bonds’ ইস্যু করে তেল সংস্থাগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
আরও দেখুনঃ ২০,০০০ ফুট উচ্চতায় কমব্যাট প্যারাশুট সিস্টেমের সফল পরীক্ষায় যুগান্তকারী সাফল্য DRDO র
সরকারি পরিকাঠামো প্রকল্পের মান নিয়ে রাজ্য সরকারদের কড়া বার্তা মোদীর
কেনিয়াতেও এবার সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে উঠছে ভারত
বিজেপির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে UPA সরকার ৬.৩৫ শতাংশ থেকে ৮.৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদের হারে মোট ১.৪৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি Oil Bonds ইস্যু করেছিল। এই বন্ডগুলির মেয়াদ ছিল প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর।
অর্থাৎ সেই সময়ের জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণের আর্থিক চাপ ভবিষ্যতের সরকারের ঘাড়ে চলে যায়। ২০০৪ সালে অপরিশোধিত তেলের দাম যেখানে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৪০ ডলারের কাছাকাছি ছিল, ২০০৭ সালে তা প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছয়। ২০০৮ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম প্রায় ১৪৪ ডলার প্রতি ব্যারেলে উঠে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সময় দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর ছিল। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বাড়ানো নিয়ে সরকারের উপর চাপ ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের উপর তাৎক্ষণিক মূল্যবৃদ্ধির বোঝা কম রাখতে Oil Bonds-এর মাধ্যমে দায় ভবিষ্যতের জন্য সরিয়ে দেওয়ার পথ নেওয়া হয় বলে বিজেপির দাবি।
তবে UPA আমলে বন্ডের মূলধনের পুরোটা পরিশোধ করা হয়নি। বিজেপির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মাত্র প্রায় ১৩,৭৬৪ কোটি টাকার মূলধন ফেরত দেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সেই বকেয়া দায়ের একটি বড় অংশ সামলাতে হয়। বিজেপির দাবি, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যেই Oil Bonds-এর সুদ বাবদ প্রায় ৪০,২২৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।
এরপর ধীরে ধীরে জ্বালানি মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়। ২০১৪ সালের অক্টোবরে ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হয়। LPG ভর্তুকিও ধীরে ধীরে Direct Benefit Transfer বা DBT ব্যবস্থার দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের জুন থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের ক্ষেত্রে দৈনিক বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ চালু হয়।
সবশেষে ২০২৬ সালে এসে Oil Bonds-এর বকেয়া মূলধন পরিশোধের বড় পর্ব শেষ হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪ ফেব্রুয়ারি ২২ হাজার কোটি টাকা, ২৩ মার্চ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং ২৯ মার্চ আরও ৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। ফলে ২৯ মার্চ ২০২৬-এ মূলধনের দায় পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে বলে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে।