এসআইআর-এ নাম নেই? নাগরিকত্ব নিয়ে বড় স্বস্তি সুপ্রিম কোর্টের
নয়াদিল্লি: বাংলার এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী…
নয়াদিল্লি: বাংলার এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে কমিশনে জমা পড়া লক্ষাধিক আবেদনের নিষ্পত্তি নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কমিশন কী কী পদক্ষেপ করছে, তা হলফনামা দিয়ে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন শুনানিপর্বে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছে-
- ট্রাইব্যুনালে এখনও ঠিক কত মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং কতগুলি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে?
- মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী সেগুলিকে পৃথক করা হয়েছে কি না?
- যে ৭ লক্ষ মানুষ নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে কত জনের নাম চূড়ান্ত
- বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল গঠনের ক্ষেত্রে কমিশনের ভাবনাচিন্তা কী?
এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে যাঁরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালত এদিন নিজেদের পুরোনো অবস্থানই ফের স্পষ্ট করেছে। বিশেষ বেঞ্চের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, ‘‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ার অর্থ, নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়। এর অর্থ সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়াও নয়।’’
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা কীভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, সেই বিষয় নিয়েই আমরা উদ্বিগ্ন। এই মুহূর্তে নির্বাচনের মার্জিন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমরা ভাবছি না।’’
আরটিআই-এর তথ্যে চাঞ্চল্য
সুপ্রিম কোর্টে এদিন কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর একটি আরটিআই (RTI) থেকে পাওয়া তথ্য তুলে ধরা হয়। সেই তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কমিশনের কাছে মোট ৩৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর মধ্যে মাত্র ৮২ হাজার মানুষের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। এই ৮২ হাজারের মধ্যে ৭৫ হাজারের নাম নতুন করে ভোটার তালিকায় সংযুক্ত হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই ৩৮ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ৭ লক্ষ মানুষ নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এবং বাকি ৩১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
প্রধান বিচারপতি এদিন স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, কমিশনকে হলফনামা জমা দিয়ে জানাতে হবে ঠিক কত নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এবং কত নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
জট কাটাতে হাইকোর্টের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন
আদালতের প্রশ্নের মুখে এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি. এস. নাইডু জানান, অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা চূড়ান্ত করতে এর মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে বৈঠকে বসছে কমিশন। আগামী সোমবারের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রস্তাবিত AI ডেটাসেন্টারের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে উঠে এল দিঘা
বিদায়বেলায় বর্ষার ভয়ঙ্কর রূপ! ইসরোর স্যাটেলাইট চিত্রে চোখ রাঙাচ্ছে মেঘ