১৫ বছর পর Lamborghini ফেরাল ট্রিকোলোর, নজর কাড়ল নতুন তেমেরারিও
চেন্নাই: দীর্ঘ ১৫ বছর পর ল্যাম্বরগিনির (Lamborghini) গাড়িতে ফিরল ‘ট্রিকোলোরে’ নাম। ২০২৬ মন্টেরি কার উইকে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে নতুন ল্যাম্বরগিনি তেমেরারিও ট্রিকোলোরে। ইতালীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক…
চেন্নাই: দীর্ঘ ১৫ বছর পর ল্যাম্বরগিনির (Lamborghini) গাড়িতে ফিরল ‘ট্রিকোলোরে’ নাম। ২০২৬ মন্টেরি কার উইকে বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে নতুন ল্যাম্বরগিনি তেমেরারিও ট্রিকোলোরে। ইতালীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার নিজস্ব নকশা স্টুডিও সেন্ট্রো স্তিলে এবং বিশেষ কাস্টমাইজেশন কর্মসূচি ‘আদ পার্সোনাম’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ গাড়ি। একই সঙ্গে এই বিশেষ সংস্করণটি ল্যাম্বরগিনির ‘আদ পার্সোনাম’ কাস্টমাইজেশন কর্মসূচির ২০ বছর পূর্তিও উদযাপন করছে।
তেমেরারিও ট্রিকোলোরের সবচেয়ে নজরকাড়া বৈশিষ্ট্য হল গাড়ির বনেটে থাকা সবুজ, সাদা এবং লাল রঙের নকশা, যা ইতালির জাতীয় পতাকার প্রতীকী রঙকে তুলে ধরে। গাড়িটির বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ দুই-রঙা রঙের সংমিশ্রণ। উপরের অংশ, যার মধ্যে দরজা এবং ফেন্ডার রয়েছে, সেখানে রয়েছে হালকা ‘বিয়াঙ্কো মোনোসেরুস’ রঙ। নিচের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে গাঢ় ‘ব্লু মারিনাস শাইনি’ রঙ।
Also Read | চার-দরজার Ford Mustang আসছে? ৪ সেকেন্ডের কমে ১০০ কিমি গতি!
গাড়ির বাইরের আয়না, চাকা এবং ইঞ্জিন কভারে রয়েছে চকচকে কালো ‘নেরো নোক্টিস’ রঙের ফিনিশ। এর সঙ্গে লাল ব্রেক ক্যালিপার গাড়িটির চেহারায় আরও বৈপরীত্য তৈরি করেছে। সাধারণ তেমেরারিও-র মতোই এই বিশেষ সংস্করণেও রয়েছে সরু এলইডি হেডল্যাম্প, ষড়ভুজাকৃতির ডিআরএল এবং একাধিক অ্যারোডায়নামিক নকশা।
গাড়ির ভিতরেও রাখা হয়েছে বিশেষ ট্রিকোলোরে থিম। স্টিয়ারিং হুইলে ইতালীয় পতাকার রঙের ছোঁয়া রয়েছে এবং দরজার প্যাডে দেখা যায় ‘ট্রিকোলোরে’ লেখা। কেবিনে ব্যবহার করা হয়েছে ‘নেরো আদে’ রঙের আসন এবং বিভিন্ন অংশে ‘রোসো আলালা’ লাল রঙের কনট্রাস্ট স্টিচিং। পিছনের অংশে তেমেরারিও-র একটি বিশেষ নকশাও যুক্ত করা হয়েছে। এলইডি ডিআরএলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেবিনে ষড়ভুজাকৃতির নকশাও ব্যবহার করা হয়েছে।

ল্যাম্বরগিনির দাবি, এই বিশেষ কেবিনের প্রতিটি উপাদান, রঙ, উপকরণ এবং গ্রাফিক নকশা একটি নির্দিষ্ট সৃজনশীল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু বাইরের রঙ বদল নয়, পুরো গাড়িটিকেই একটি সমন্বিত বিশেষ নকশার প্রকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
Also Read | বিমানে কার্বন নির্গমন কমাতে হাইড্রোজেন ইঞ্জিন! দেশে ইতিহাস গড়ছে TCS-রোলস রয়েস
তবে নকশায় বিশেষত্ব থাকলেও ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে তেমেরারিও ট্রিকোলোরে-তে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। সাধারণ তেমেরারিও-র মতোই এতে রয়েছে ৪.০ লিটারের টুইন-টার্বো ভি৮ ইঞ্জিন। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তিনটি বৈদ্যুতিক মোটর, যার মধ্যে দুটি পিছনে এবং একটি সামনে রয়েছে। এই হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন থেকে সর্বোচ্চ ৯২০ হর্সপাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়। গাড়িতে রয়েছে ৮-গতির ডুয়াল-ক্লাচ স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স। ল্যাম্বরগিনির দাবি অনুযায়ী, তেমেরারিও-র সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৪০ কিলোমিটারের বেশি। ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ২.৭ সেকেন্ড।
বর্তমানে তেমেরারিও ট্রিকোলোরের মাত্র একটি গাড়ি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ল্যাম্বরগিনি। সংস্থার বক্তব্য, এই বিশেষ সংস্করণে রঙ, উপকরণ এবং প্রতিটি সূক্ষ্ম নকশার উপাদানকে একসঙ্গে মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ নকশা তৈরি করা হয়েছে। ১৫ বছর পর ‘ট্রিকোলোরে’ নামের প্রত্যাবর্তন তাই ল্যাম্বরগিনির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।