লক্ষ্য সীমান্ত জট কাটানো! উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বেজিংয়ে অজিত দোভাল
নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার জন্য মঙ্গলবার বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত দোভাল। সেখানে চিনের বিদেশমন্ত্রী…
নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার জন্য মঙ্গলবার বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত দোভাল। সেখানে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে স্পেশ্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস (SR) পর্যায়ের ২৫তম বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন৷ সেখানে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যোগ দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। হাই-প্রোফাইল সেই সফরের ঠিক আগেই দোভালের এই বেজিং যাত্রা কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LAC) স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং সামরিক উত্তেজনা কমানোই এই বৈঠকের মূল ফোকাস। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি এলাকায় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) আগ্রাসী মনোভাবের খবর সামনে এসেছে। এই আবহে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত জুড়ে শান্তি বজায় রাখা এবং নতুন করে যাতে কোনও উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়, তা নিয়ে একটি সর্বসম্মত কাঠামো তৈরির চেষ্টা করবেন দোভাল ও ওয়াং ই।
পাশাপাশি, ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার যে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা আরও মজবুত করা এবং টহলদারির অধিকার (Patrolling rights) ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
পুরনো চুক্তির পর্যালোচনা ও নজরদারি বৃদ্ধি
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সেনা প্রত্যাহারের (Disengagement) বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে যে বোঝাপড়া হয়েছিল, তার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখবেন দুই প্রতিনিধি। ওয়েস্টার্ন সেক্টরের পাশাপাশি ইস্টার্ন এবং মিডল সেক্টরেও সীমান্ত পরিচালন ব্যবস্থাকে (Border management) আরও শক্তিশালী করার রূপরেখা তৈরি হবে। এছাড়া, ২০০৫ সালের রাজনৈতিক পর্যায় ও নীতি-নির্দেশিকা চুক্তির ওপর ভিত্তি করে সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কও খতিয়ে দেখা হবে এই বৈঠকে।
শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সামিট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বেজিং বা নয়াদিল্লির তরফে জিনপিংয়ের উপস্থিতি নিয়ে এখনও সরকারিভাবে সিলমোহর না দেওয়া হলেও, দু’দেশের আধিকারিকরাই তাঁর যোগদানের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। কূটনৈতিক মহলের মতে, দোভাল ও ওয়াং ইয়ের এই বৈঠক মূলত জিনপিংয়ের সফরের আগে সীমান্ত উত্তেজনা কমিয়ে একটি ইতিবাচক ও আস্থাশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা। সম্মেলনে যোগ দিতে জিনপিং ভারতে এলে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর একটি পার্শ্ববৈঠক হওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের অগাস্টে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) সম্মেলনে মোদী ও জিনপিংয়ের শেষবার মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা