ভারতের আদমশুমারিতে আলাদা শ্রেণীতে গণনা হবে না ভিক্ষুক-যাযাবরদের
নয়াদিল্লি: ভারতের আদমশুমারি ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে (Census)। ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে আর আলাদা করে ভিক্ষুক বা যাযাবরদের সংখ্যা গণনা করা হবে না। প্রশ্নপত্র থেকে…
নয়াদিল্লি: ভারতের আদমশুমারি ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে (Census)। ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে আর আলাদা করে ভিক্ষুক বা যাযাবরদের সংখ্যা গণনা করা হবে না। প্রশ্নপত্র থেকে ‘ভিক্ষুক ও যাযাবর ইত্যাদি’ শ্রেণিটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের ‘অন্যান্য’ বিভাগের আওতায় রাখা হবে। ফলে ভবিষ্যতের আদমশুমারির টেবিলে আর আলাদা করে এই মানুষদের সংখ্যা দেখা যাবে না।
এটি এমন একটি পরিবর্তন, যা প্রথমবারের মতো একটি জনসংখ্যাগত বিভাগকে (Census)আদমশুমারির তথ্য থেকে কার্যত মুছে দিচ্ছে।এতদিন ধরে আদমশুমারিতে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের বাইরে থাকা মানুষদের মধ্যে ভিক্ষুক ও যাযাবরদের আলাদা করে উল্লেখ করা হত। এই তথ্য সমাজের একটি বিশেষ অংশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরত। কতজন মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন, তাদের ভৌগোলিক বিতরণ কেমন, বয়স বা লিঙ্গভেদে সংখ্যা কত এসব তথ্য পাওয়া যেত।
আরও দেখুনঃ বিদায়বেলায় বর্ষার ভয়ঙ্কর রূপ! ইসরোর স্যাটেলাইট চিত্রে চোখ রাঙাচ্ছে মেঘ
নীতিনির্ধারকরা, গবেষকরা এবং সমাজকর্মীরা এই তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি তৈরি করতেন। কিন্তু এখন থেকে সেই আলাদা হিসাব আর থাকবে না।সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রশ্নপত্রে অ-অর্থনৈতিক কার্যকলাপের বিভাগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভিক্ষুক ও যাযাবরদের ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে তারা অন্যান্য বিভিন্ন শ্রেণির সঙ্গে মিশে যাবেন।
আলাদা কোনো সারণি বা পরিসংখ্যানে তাদের সংখ্যা উঠে আসবে না। (Census)এটি একটি বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত। অনেকে বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক একটি অংশের বাস্তব চিত্র আর স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে না।ভিক্ষাবৃত্তি ভারতের একটি জটিল সামাজিক সমস্যা। অনেকেই দারিদ্র্য, অসুস্থতা, পারিবারিক ভাঙন বা অন্য কোনো কারণে এই পথে চলে আসেন। কিছু মানুষ সাময়িকভাবে, আবার কেউবা দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করে জীবনধারণ করেন।
আরও দেখুনঃ লক্ষ্য সীমান্ত জট কাটানো! উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বেজিংয়ে অজিত দোভাল
আদমশুমারির পুরনো তথ্য থেকে জানা যেত কোন কোন রাজ্যে বা শহরে তাদের সংখ্যা বেশি। (Census)সেই তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন বা বেসরকারি সংস্থাগুলো পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করতে পারত। এখন সেই তথ্যের উৎসই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনকে দুইভাবে দেখা যেতে পারে। একদিকে কেউ কেউ মনে করেন, ভিক্ষুকদের আলাদা করে গণনা করা তাদের সামাজিক মর্যাদাকে আরও কমিয়ে দেয়।
তাদের ‘অন্যান্য’ বিভাগে রাখলে হয়তো একধরনের সম্মান রক্ষা হয়। অন্যদিকে অনেকেই উদ্বিগ্ন যে, তথ্যের অভাবে এই মানুষদের সমস্যা আরও অদৃশ্য হয়ে যাবে। নীতিনির্ধারণের সময় তাদের কথা আলাদা করে উঠে আসবে না। ফলে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগগুলোতেও অগ্রাধিকার কমতে পারে।