জ্বালানি ফুরিয়ে পাকিস্তানের কিরানা হিলসের পরমাণু ঘাঁটিতে আঘাত ভারতীয় ড্রোনের
নয়াদিল্লি: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু সামরিক কেন্দ্র কিরানা হিলস-এ একটি ভারতীয় ড্রোন আঘাত করেছিল। তবে ওই হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল না। প্রাক্তন…
নয়াদিল্লি: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু সামরিক কেন্দ্র কিরানা হিলস-এ একটি ভারতীয় ড্রোন আঘাত করেছিল। তবে ওই হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল না। প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বা সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে কিরানা হিলসে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যের অবসান হয়েছে।
নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ সেন্টারে বক্তব্য রাখার সময় জেনারেল অনিল চৌহান জানান, ভারতীয় একটি লোইটারিং মিউনিশন, অর্থাৎ নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় ঘোরাফেরা করে লক্ষ্য খোঁজা এবং পরে আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোন, পাকিস্তানের সারগোধা এবং কিরানা হিলসের আশপাশে রাডার খুঁজছিল। সম্ভবত ইজরায়েলি নকশার হারোপ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল।
জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ড্রোনের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আকাশে ঘোরাফেরা করার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য খুঁজে না পেলে সেটি অন্য কোনও স্থানে আঘাত হানতে পারে। কিরানা হিলসের কাছে ড্রোনটির জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি ওই এলাকাতেই আঘাত করে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।
Also Read | একাধিক হিংসার অপরাধ অস্ত্র আইনে মোদী রাজ্যের ATS র হাতে গ্রেফতার পলাতক সুখপিন্দর
তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় সারগোধা এবং কিরানা হিলসের দিকে বেশ কিছু লোইটারিং মিউনিশন পাঠানো হয়েছিল। কিরানা হিলস সারগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। ওই ড্রোনগুলি মূলত সারগোধা এবং তার আশপাশে থাকা রাডার শনাক্ত করে ধ্বংস করার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

জেনারেল চৌহান আরও জানান, ভারতীয় বিমানবাহিনীর তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে কিরানা হিলসকে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করেনি। জেনারেল চৌহান বলেন, ভারতীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে কিরানা হিলসকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়নি।
অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের স্কারদু-তেও হামলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন সিডিএস। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেই অভিযান শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়।
Also Read |রাজনাথের বড় সিদ্ধান্তে DRDO র ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবার ভারতীয় সংস্থার হাতে
জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, সারগোধায় হামলার পরিকল্পনার সময় আরও দুটি লক্ষ্য বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে একটি ছিল স্কারদু। ওই লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে স্কারদুর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় ভারতীয় বিমানবাহিনী বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে ভোলারি বেছে নেয়।
১০ মে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ভোলারি হামলা অপারেশন সিঁদুরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অভিযান হিসেবে উঠে আসে। গান্ধীনগরভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ড এই হামলা চালায়।

পরে উপগ্রহচিত্রে ভোলারির একটি হ্যাঙ্গারে হামলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে আসে। এনডিটিভি প্রথম সেই উপগ্রহচিত্র প্রকাশ করেছিল। ছবিতে হ্যাঙ্গারের ছাদে বড় এবং অসম আকৃতির একটি গর্ত দেখা যায়। তার নিচে ধসে পড়া অংশ এবং হ্যাঙ্গারের সামনে রানওয়ের সঙ্গে সংযোগকারী এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষও দেখা গিয়েছিল।
ক্ষয়ক্ষতির ধরন দেখে হামলাটি নির্দিষ্ট একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চালানো হয়েছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিরানা হিলসের ঘটনাটি অবশ্য আলাদা। সেখানে ভারতীয় ড্রোনটি মূল লক্ষ্য খুঁজে না পেয়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানে বলে জানিয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান।