চিনির জোগান নিয়ে আশ্বাস ইস্মা–র
এই সময়: সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে চিনির দাম ধাপে ধাপে অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় নাভিঃশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। চিনির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মিষ্টির দাম-ও। কোথাও বা মিষ্টির দাম এক রাখলেও তা আকারে ছোট করে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় মানুষকে কিছুটা আশ্বস্ত করলেন ভারতের চিনিকলগুলির সংগঠন ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ) কর্তৃপক্ষ। দেশের বাজারে চিনির জোগান নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলে তাদের দাবি। খুচরো ও পাইকারি বাজারে চিনির দাম দ্রুত বেড়ে গেলেও দেশে প্রকৃত অর্থে চিনির ঘাটতি তৈরি হয়নি বলেই জানিয়েছে তারা। সোমবার সংগঠনের সভাপতি নীরজ শিরগাঁওকর জানিয়েছেন, আবহাওয়াজনিত কারণে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়া এবং চিনির ঘাটতি তৈরি হতে পারে এই জল্পনায় মজুতদারির জেরেই মূলত চিনির দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দাম কিছুটা কমে আসবে বলেও আশাবাদী সংগঠনটি।
শিরগাঁওকর বলেন, ‘দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি মজুত রয়েছে এবং উৎসবের মরশুমে বর্ধিত চাহিদা মেটানোর মতো জোগানও রয়েছে। ফলে বাজারে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকে সরবরাহ ব্যবস্থার গভীর সঙ্কট হিসেবে মনে করার কোনও কারণ নেই।’
উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২০ অগস্ট কেন্দ্র সর্বাধিক ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি বা র’সুগার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমদানিকারীদের কোনও শুল্ক দিতে হবে না।
গত এক মাসে দেশের খুচরো ও পাইকারি বাজারে চিনির দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে কেজি পিছু ৫৬ টাকা থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পৌঁছেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য এক দিকে বাজারে অতিরিক্ত জোগান নিশ্চিত করা, অন্য দিকে উৎসবের আগে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। একই সময়ে ২০ অগস্ট পর্যন্ত অ্যাডভান্স অথরাইজ়েশন স্কিমের আওতায় আমদানি করা অপরিশোধিত চিনিকে এককালীন ট্যারিফ রেট কোটা বা টিআরকিউ ব্যবস্থায় আনার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত রাখা হয়েছে, ওই আমদানি করা অপরিশোধিত চিনি পরিশোধন করে চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে দেশের বাজারেই বিক্রি করতে হবে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সংশ্লিষ্ট এইচএস কোড-এর অধীনে প্রায় ৪ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছিল।
দেশে চিনির পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজও। সংগঠনের সভাপতি প্রকাশ নায়েকনাভারে জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ কৃষি মরশুমে দেশের মোট চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস ২৭৯ লক্ষ টনেই রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ টন চিনি ইথানল উৎপাদনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হবে বলে হিসেব করা হয়েছে। তাঁর মতে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা ২০২৬-২৭ চিনির মরশুমের গোড়ায় দেশের হাতে প্রায় ৩৫ লক্ষ টন উদ্বৃত্ত চিনি মজুত থাকবে।