গভীর সমুদ্রের নিচের রহস্য সমাধানে ভারতের মেড ইন ইন্ডিয়ার নয়া অস্ত্র ‘নিপুন’
নয়াদিল্লি: ভারতীয় নৌবাহিনী আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মুম্বইয়ের নেভাল (Indian Navy )ডকইয়ার্ডে ‘নিপুন’ নামের একটি বিশেষায়িত জাহাজ কমিশন করতে চলেছে। এটি নিস্তার শ্রেণির দ্বিতীয়…
নয়াদিল্লি: ভারতীয় নৌবাহিনী আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মুম্বইয়ের নেভাল (Indian Navy )ডকইয়ার্ডে ‘নিপুন’ নামের একটি বিশেষায়িত জাহাজ কমিশন করতে চলেছে। এটি নিস্তার শ্রেণির দ্বিতীয় ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল বা ডিএসভি। এই জাহাজের অন্তর্ভুক্তি নৌবাহিনীর গভীর সমুদ্রে ডাইভিং এবং জলের নিচের সহায়তা ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
একই সঙ্গে এটি প্রতিরক্ষা জাহাজ নির্মাণে ভারতের আত্মনির্ভরশীলতার পথে (Indian Navy )একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।নিপুন জাহাজটি আধুনিক ডাইভিং ব্যবস্থা এবং জলের নিচে হস্তক্ষেপের সক্ষমতায় সজ্জিত। এর মাধ্যমে সমুদ্রের কঠিন পরিস্থিতিতেও ডুবুরিদের দীর্ঘক্ষণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। গভীর সমুদ্রে তল্লাশি, উদ্ধার অভিযান বা জলের নিচের পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজে এই জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বারামুলার পর এবার শোপিয়ান! সেনা বাহিনীর তল্লাশিতে ধরা পড়ল ৬ জঙ্গি সহযোগী
রাফালের মুখোমুখি চিনা জে-১৬, কেন সতর্ক ভারত?
নৌবাহিনীর বহরে এ ধরনের বিশেষায়িত জাহাজ যোগ হওয়ায় অপারেশনাল সক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।নিস্তার শ্রেণির প্রথম জাহাজের পর এটি দ্বিতীয় সংযোজন। স্বদেশি শিপইয়ার্ডে তৈরি এই জাহাজ মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের সাফল্যেরই প্রমাণ। ভারত এখন নিজস্ব প্রযুক্তি এবং দক্ষতায় এ ধরনের জটিল জাহাজ নির্মাণ করতে সক্ষম। নিপুন সেই সক্ষমতারই প্রতীক।
দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণে তৈরি হওয়ায় প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং উৎপাদন অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রতিরক্ষা খাতে বৈদেশিক নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল মূলত ডুবুরিদের সহায়তার জন্যই ডিজাইন করা হয়। গভীর সমুদ্রে কাজ করার সময় ডুবুরিদের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘক্ষণ কাজ করার সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। নিপুন সেই প্রয়োজন মেটাতে আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত।
এর মাধ্যমে জলের নিচে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হবে। উদ্ধার অভিযান, তল্লাশি বা নৌবাহিনীর অন্যান্য বিশেষ অপারেশনে এই জাহাজ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।মুম্বইয়ের (Indian Navy)নেভাল ডকইয়ার্ডে কমিশনিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এটি নৌবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। নতুন জাহাজ কমিশন হওয়ার অর্থ শুধু বহরে আরও একটি জাহাজ যোগ হওয়া নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে নাবিকদের প্রশিক্ষণ, সিস্টেম পরীক্ষা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি।
নিপুন পুরোপুরি কার্যকর হলে নৌবাহিনীর গভীর সমুদ্রে কাজ করার সক্ষমতা নতুন মাত্রা পাবে।ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশলে জলের নিচের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে গভীর সমুদ্র পর্যন্ত নজরদারি এবং অপারেশনাল ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। নিপুনের মতো জাহাজ সেই লক্ষ্যে অবদান রাখবে। ডুবুরিদের সহায়তা ছাড়াও এটি জলের নিচের তথ্য সংগ্রহ এবং বিশেষ অভিযানেও ব্যবহার করা যেতে পারে।