কলকাতায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ২৪ ক্যারেট ১.৬৩ লক্ষ
কলকাতা: উৎসবের মরশুমের আগে সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকলে পকেটে চাপ আরও বাড়তে পারে। মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, দেশের বাজারে সোনার দাম (Gold Rate) ফের ঊর্ধ্বমুখী। ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬৩,৮৭০ টাকা হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ৬৮০ টাকা বা ০.৪২ শতাংশ। ২২ ক্যারেট সোনার দামও বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫০,২১৪ টাকা হয়েছে। কলকাতার ক্রেতাদের জন্যও আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশের সোনার দামের এই ঊর্ধ্বগতি গুরুত্বপূর্ণ।
২৫ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট সোনার দাম আগের দিন প্রতি ১০ গ্রামে ছিল ১,৬৩,১৯০ টাকা। একদিনে তা ৬৮০ টাকা বেড়েছে। ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৯,৫৯১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১,৫০,২১৪ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ১০ গ্রামে বৃদ্ধি প্রায় ৬২৩ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১,২২,৩৯৩ টাকা থেকে ৫১০ টাকা বেড়ে ১,২২,৯০৩ টাকা হয়েছে।
কলকাতায় গয়না কেনার ক্ষেত্রে অবশ্য এই দামকেই চূড়ান্ত মূল্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। সোনার বিশুদ্ধতা, জিএসটি, মেকিং চার্জ এবং সংশ্লিষ্ট জুয়েলারির অন্যান্য চার্জ যোগ হওয়ার পর গয়নার চূড়ান্ত দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট দোকানের সর্বশেষ দর যাচাই করা জরুরি।
Also Read | পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ STF থানা এবং আদালত বন্ধ নয়! কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে নস্যাৎ করল সুপ্রিমকোর্ট
ভারতের তুলনায় দুবাইয়ে এখনও সোনার দাম অনেকটাই কম। ২৫ আগস্ট ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬৩,৮৭০ টাকা হলেও দুবাইয়ে সমপরিমাণ সোনার দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,৩৭,৪০৫ টাকা। অর্থাৎ দুই বাজারের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ২৬,৪৬৫ টাকা বা ১৯.২৬ শতাংশ। ২২ এবং ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রেও প্রায় একই হারে দামের পার্থক্য রয়েছে। তবে এই তুলনায় বিভিন্ন ফি, শুল্ক এবং কর অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ভারতে সোনার দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের দাম, মার্কিন ডলারের ওঠানামা এবং আমদানি শুল্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় দিনের লেনদেনে সোনার উপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণত ডলারের দাম বাড়লে অন্যান্য মুদ্রায় সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক চাহিদায় চাপ তৈরি হতে পারে।
তা সত্ত্বেও সোনা বর্তমানে গত তিন মাসের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি লেনদেন করছে। মার্কিন ট্রেজারির বন্ড বাইব্যাক পরিকল্পনা সোনার দামকে সমর্থন করছে। গত এক মাসেই সোনার দাম ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের বাইব্যাক দ্বিগুণ করার মার্কিন ট্রেজারির পরিকল্পনার পর বন্ডের ফলন, ডলার এবং মার্কিন আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Also Read | দাম নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারি বাফার স্টক থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের
ইন্ডাসইন্ড সিকিউরিটিজের সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট জিগার ত্রিবেদীর মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে গোল্ড-ব্যাকড ইটিএফে বিনিয়োগও বেড়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং সোনার প্রতি বিনিয়োগের চাহিদা শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সোনার দামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে অনিশ্চয়তা বজায় থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উঁচু স্তরে থাকায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তে দেখা যায়।
আগামী দিনে সোনার দিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার বা পিসিই সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের। বুধবার এই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পরিসংখ্যান প্রকাশ হওয়ার কথা।
এমসিএক্সে সোনার ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে এনরিচ মানির সিইও পোনমুদি আর জানিয়েছেন, দাম ১,৬২,০০০ টাকার নিচে নেমে গেলে ১,৬০,৬০০ থেকে ১,৬০,০০০ টাকার স্তরের দিকে যেতে পারে। তার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট থাকতে পারে ১,৫৮,৫০০ থেকে ১,৫৮,০০০ টাকার মধ্যে।
কলকাতায় সামনে উৎসব ও বিয়ের মরশুমের কেনাকাটার কথা মাথায় রেখে সোনার এই ঊর্ধ্বমুখী দাম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতাদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও দেশের বাজারের দামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সোনার বাজার, ডলারের গতিবিধি এবং মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।