দরজা খোলা পেলেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, পথকুকুরদের জন্য মিলছে না ভিক্ষা!
শীতল চক্রবর্তী, বালুরঘাট
যত্রতত্র মলত্যাগ করছে পথকুকুর। গেরস্ত বাড়ির গেট খোলা পেলেই সেখানেও ঢুকে মলত্যাগ করছে সারমেয়রা। দুর্গন্ধে টেকা দায়। পরিস্থিতি এমনই, পথকুকুরদের মলত্যাগের আতঙ্কে অধিকাংশ সময় গেট বন্ধ রাখতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তিন পুরসভা এলাকার ভিক্ষুকরা। শহরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাঁরা ভিক্ষে করে যাঁরা পেট চালাতেন, তাঁরা এখন লোকের বাড়ি গিয়ে দেখছেন দরজা বন্ধ! ফলে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে তাঁদের।
মূলত বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর এবং বুনিয়াদপুর পুরসভা এলাকায় এই ছবি ধরা পড়েছে। জানা গিয়েছে, গোটা জেলায় ছ’হাজারের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে ভিক্ষাবৃত্তির উপরে নির্ভরশীল। শহরগুলির বিভিন্ন দোকান, রাস্তার মোড়, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড কিংবা শপিং মলের বাইরে এঁদের দেখা যায়। তবে শহরের বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরেও বহু মানুষ ভিক্ষা করেন। শুধু নগদ টাকা নয়, চাল, ডাল, আনাজও পেয়ে থাকেন তাঁরা। এঁদের মধ্যে অনেকেই বিশেষ ভাবে সক্ষম। রয়েছেন বহু প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষও।
মূলত ভিক্ষা করেই তাঁরা পেট চালান। কেউ কেউ ভিক্ষা করে সংসারও চালান বলে খবর। তাঁরা জানাচ্ছেন, অজান্তেই অবলা পথকুকুররা তাঁদের ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বালুরঘাটের কার্তিক রায়, দীনবন্ধু সরকার, বিনোদিনী কীর্তনীয়া একসুরে বলছেন, ‘বাড়ি বাড়ি ঘুরে যা পাই, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। পথকুকুরদের জন্য এখন অনেক বাড়ির গেট বন্ধ থাকে। খুব প্রয়োজন ছাড়া দরজা খোলেন না গেরোস্তরা। ভিতরে ঢুকতেই পারছি না। ডাকাডাকি করেও অনেক সময়ে সাড়া মিলছে না। ফলে খালি হাতেই ফিরে যেতে হচ্ছে।’
এ দিকে বালুরঘাট শহরের বাসিন্দা কাবেরী দে, রক্তিম সরকার, গঙ্গারামপুরের অনামিকা দে, শ্রীকৃষ্ণ সরকারের বক্তব্য, ‘গেট খুলে রাখলেই পথকুকুররা ঢুকে মলত্যাগ করছে। সেসব পরিষ্কার করা কম ঝক্কির কাজ! বহুদিন ধরেই এই সমস্যা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে গেট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সমস্যার সমাধান হলে আমরাও স্বাভাবিক ভাবে গেট খুলে রাখতে পারব।’ একই বক্তব্য বুনিয়াদপুরের আশিস দেবনাথের।
বিষয়টি নিয়ে বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা, গঙ্গারামপুরের প্রশাসক মোস্তাক আলম এবং বুনিয়াদপুরের প্রশাসক সমীর সরকারকে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘শহর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কুকুরের মলত্যাগজনিত সমস্যা কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’ ভিক্ষুকদের সমস্যাটিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।