মক্কা চুক্তিতে এবার ইরান? পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন ‘ইসলামিক ন্যাটো’!
দুবাই: সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত নতুন কৌশলগত জোট বা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Mecca Joint Defence Agreement)-তে ইরানকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে…
দুবাই: সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত নতুন কৌশলগত জোট বা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Mecca Joint Defence Agreement)-তে ইরানকে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই আমন্ত্রণের বিষয়টি এখনো সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও তেহরান যদি এই জোটে যোগ দেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্য তথা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
মূল নীতি: গত ৭ আগস্ট সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মূল কথা হলো জোটের যেকোনো একটি দেশের ওপর সামরিক আক্রমণ হলে, তা বাকি সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে।
“ইসলামিক ন্যাটো” বিতর্ক: ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 5) মতো যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা থাকায় অনেকেই একে “ইসলামিক ন্যাটো” বলছেন। তবে ন্যাটোর মতো স্থায়ী সমন্বিত সামরিক কমান্ড বা বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এই চুক্তিতে নেই। মূলত পশ্চিমা শক্তির ওপর সামরিক নির্ভরতা কমিয়ে মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।
ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ও প্রেক্ষাপট
কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি: ২০২৩ সালে চিনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপনের পর দুই দেশই সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইছে।
মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা: পাকিস্তান ও তুরস্ক উভয় দেশই তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আগেই জানিয়েছিলেন যে এই চুক্তি কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত।
সুন্নি-শিয়া মেরুকরণ ভাঙা: ইরান যোগ দিলে এটি কেবল একটি ‘সুন্নি সামরিক জোট’ হিসেবে চিহ্নিত হবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম শিয়া ও সুন্নি শক্তিগুলো একসাথে আলোচনা ও সংকট মোকাবিলার একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম পাবে।
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: কাগজে-কলমে যৌথ প্রতিরক্ষা সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন। কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে জোটের সদস্যরা কাকে “আক্রমণকারী” হিসেবে চিহ্নিত করবে, তা নিয়ে ইয়েমেন, ইসরায়েল বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়ে রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে?
ভারতের সঙ্গে সৌদি আরব ও ইরান, উভয় দেশেরই গভীর ও বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে। এই জোট ভারতের বিদেশনীতিতে মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে৷ পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত লাখ লাখ ভারতীয়র সুরক্ষা বাড়বে।
ভারত ২০২৪ সালে ইরানের চাবাহার বন্দর পরিচালনার জন্য ১০ বছরের চুক্তি করেছে, যা পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর পথ তৈরি করে। ইরান এই আঞ্চলিক জোটে যুক্ত হয়ে স্থিতিশীল থাকলে চাবাহার ও INSTC (আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর) প্রকল্পগুলো গতি পাবে।
জোটে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামাবাদের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে, যা নয়াদিল্লির জন্য একটি নজরদারির বিষয়।
ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তাকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে হচ্ছে না। সৌদি আরবের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং ইরানের সাথে কৌশলগত ট্রানজিট সংযোগ রক্ষা করে ভারত নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পারছে।
ভারত-চিন সীমান্ত আলোচনায় সোমবারেই চিন সফরে অজিত দোভাল
পাকিস্তান সরকারের অর্থায়নে রেকর্ড সময়ে পুনর্নির্মাণ হল সিঁদুরে মাটিতে মিশে যাওয়া জৈশ র সদর দফতর