পুজোর আগে চিনি নিয়ে হাহাকার, সত্যিই কি ঘাটতি? আসল কারণ জানাল ISMA - 24 Ghanta Bangla News
Home

পুজোর আগে চিনি নিয়ে হাহাকার, সত্যিই কি ঘাটতি? আসল কারণ জানাল ISMA

Spread the love

কলকাতা: সামনেই দুর্গাপুজো? তার আগে বাজারেই চিনির দাম (Sugar Price) এবং সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে৷ একে প্রকৃত চিনি-ঘাটতি বলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান…

কলকাতা: সামনেই দুর্গাপুজো? তার আগে বাজারেই চিনির দাম (Sugar Price) এবং সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে৷ একে প্রকৃত চিনি-ঘাটতি বলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ISMA। এই সংগঠনের মতে, উৎসবের মরসুমকে সামনে রেখে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়াই সাম্প্রতিক বাজার-চাপের প্রধান কারণ।

আইএসএমএ-র প্রেসিডেন্ট নীরজ শিরগাঁওকর জানিয়েছেন, উৎসবের মরসুম এগিয়ে আসায় বাজারে চিনির সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে যে সমস্ত বড় ক্রেতা সাধারণত প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে চিনি কেনেন, তাদের একটি অংশ আগেভাগেই বেশি পরিমাণে মজুত করতে শুরু করেছেন।

শিরগাঁওকর স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারতে চিনির ঘাটতি নেই। চলতি মরসুমে দেশে প্রায় ২৭৯ লাখ টন নেট চিনি উৎপাদন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মরসুম শেষে প্রায় ৩৫ লাখ টন চিনি মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থাৎ দেশের মোট উৎপাদন এবং সম্ভাব্য মজুতের হিসাবে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। তবে উৎসবের আগে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে চিনি কেনার প্রবণতা বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের ছবিও যুক্ত হয়েছে। বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক দামও বেড়েছে। ব্রাজিলে প্রত্যাশার তুলনায় কম চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

আইএসএমএ-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম জুন মাসে প্রতি টনে প্রায় ৪৭৪ ডলার ছিল। আগস্টে সেই দাম বেড়ে প্রায় ৫৫২ ডলার প্রতি টন হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবও ভারতীয় বাজারে পড়ছে।

তবে আইএসএমএ মনে করছে, দেশে সাম্প্রতিক বাজার-চাপের পুরোটা প্রকৃত চাহিদা বা সরবরাহ ঘাটতির কারণে তৈরি হয়নি। কিছু বড় ক্রেতা ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখে প্রয়োজনের তুলনায় আগে থেকেই বেশি চিনি কিনে রাখছেন। এর ফলে বাজারে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাকে সংগঠনটি ‘কৃত্রিম চাপ’ বা ‘আর্টিফিশিয়াল টাইটনেস’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

উৎসবের মরসুমে চিনির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। বিশেষ করে দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং পরবর্তী উৎসবগুলিতে মিষ্টি ও অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাবারের উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে মিষ্টি প্রস্তুতকারক এবং খাদ্য শিল্পে চিনির প্রয়োজনও বাড়ে। এই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে বড় ক্রেতারা আগেভাগে মজুত করলে বাজারে সরবরাহের চাপ আরও বেশি বলে মনে হতে পারে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চিনিকলগুলির নতুন মরসুমের উৎপাদন কিছুটা এগিয়ে আনার চেষ্টা করছে আইএসএমএ। সংগঠনটি ২০২৬-২৭ সালের আখ মাড়াইয়ের মরসুম ১০ থেকে ১৫ দিন এগিয়ে শুরু করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটকে বিশেষভাবে আখ মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে বাজারে নতুন করে চিনি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

আইএসএমএ আশা করছে, অক্টোবরে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চিনির সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরে প্রায় ১০ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। সাধারণ সময়ে এক মাসে উৎপাদন হয় প্রায় ৪ লাখ টন। অর্থাৎ অক্টোবরের সম্ভাব্য উৎপাদন স্বাভাবিক মাসিক উৎপাদনের দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

আইএসএমএ-র মতে, নতুন মরসুমের উৎপাদন এবং বর্তমানে থাকা মজুত একসঙ্গে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করবে। ফলে উৎসবের মরসুমে চাহিদা বাড়লেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থাৎ পুজোর আগে বাজারে চিনির দামের চাপ থাকলেও দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ও মজুতের হিসাবে এখনই বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা করছে না শিল্পমহল। বরং উৎসবের আগে অতিরিক্ত মজুত, বাড়তি চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবেই বর্তমানে চিনির বাজারে টান তৈরি হয়েছে বলে আইএসএমএ-র ব্যাখ্যা। অক্টোবর থেকে নতুন উৎপাদন বাজারে আসতে শুরু করলে এই চাপ অনেকটাই কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *