চলে গেল সুন্দর, পর্যটনে ধাক্কার চিন্তা ঝড়খালিতে
এই সময়, ঝড়খালি: সুন্দরবনের গর্ব ঝড়খালি ওয়াইল্ড অ্যানিম্যাল পার্কের সবচেয়ে পুরোনো বাসিন্দা বাঘ সুন্দর আর নেই! শনিবার ভোরে পার্কের খাঁচাতেই মৃত্যু হয় ১৬ বছরের পুরুষ বাঘটির। গত ১২ দিন ধরে তীব্র সংক্রমণ ও বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সুন্দর।
বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সুন্দরের খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তার চিকিৎসা। কিন্তু বয়সের ভারে তার দুর্বল শরীর আর সাড়া দেয়নি। শনিবার
ভোরে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মারা যায় সুন্দর। এই নিয়ে বাসন্তীর ঝড়খালির পার্কে চারটি বাঘের মৃত্যু হলো গত কয়েক বছরে। এর আগে পর পর মৃত্যু হয়েছিল ওখানে থাকা বাঘ ও বাঘিনীগুলির। সুন্দরের মৃত্যুর ফলে এই মুহূর্তে পার্কে বাঘের সংখ্যা শূন্য।
সুন্দরবন ভ্রমণ মানেই বাঘ দেখার রোমাঞ্চ। কিন্তু গভীর জঙ্গলে বাঘের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। বহু পর্যটকই হতাশ হয়ে ফেরেন বাঘ না দেখতে পেয়ে। সেই হতাশা দূর করতেই ২০১২ সালে বন দপ্তর সুন্দরবন এলাকার ঝড়খালিতে গড়ে তোলে এই ওয়াইল্ড অ্যানিম্যাল পার্ক ও টাইগার রেসকিউ সেন্টার। এখানে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসুস্থ, আহত কিংবা লোকালয়ে ঢুকে পড়া বাঘদের উদ্ধার করে এনে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন দেওয়া হতো। পর্যটকদের জন্য খাঁচায় বাঘ দেখার ব্যবস্থাও ছিল। ফলে সুন্দরবনে বাঘ না দেখতে পেলেও ঝড়খালিতে এসে বাঘ দেখা নিশ্চিত ছিল। দ্রুতই এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
সুন্দরের মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই মন খারাপ পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। ঝড়খালির এক নৌকা ব্যবসায়ী দীপঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘বাঘ আছে শুনেই লোকে এখানে আসত। সামনের মরসুমে ব্যবসার হাল কী হবে আমরা তা নিয়েই চিন্তিত হয়ে পড়েছি।’ বিভাগীয় বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী বলেন, ‘সুন্দরের বয়স হয়েছিল অনেক। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’ তবে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীদের একাংশের প্রশ্ন তুলেছেন পার্কের চিকিৎসা পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে।