একুশের পর ২৮ অগস্ট! ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে হাইকোর্টে মমতা-ঋতব্রত তরজা
কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের পর এবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্যাপন। আগামী ২৮ অগস্ট মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস…
কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের পর এবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্যাপন। আগামী ২৮ অগস্ট মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনকে কেন্দ্র করে ফের সংঘাতে জড়াল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। একই দিনে, একই সময়ে এবং একই জায়গায় কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে যুযুধান দুই পক্ষ।
সোমবার এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের (মমতা শিবির) আইনজীবী। দ্রুত শুনানির সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি। মঙ্গলবার আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
দলের রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর মেয়ো রোডেই ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকাকালীন এই বিষয়ে কখনও কোনও সমস্যা বা জটিলতা তৈরি হয়নি। কিন্তু এ বারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন এবং দলের অন্দরেও বড়সড় ভাঙন ধরেছে। দলের জয়ী বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে নিয়ে আলাদা শিবির তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরাই বর্তমানে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন।
এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতে চেয়ে গত ২৭ জুলাই প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল কালীঘাট বা মমতা শিবির। সেই আবেদনের সাপেক্ষেই সোমবার দ্রুত শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
একুশে জুলাইয়ের ছায়া
অন্যদিকে, ঋতব্রতের শিবিরও ওই একই দিনে, একই সময়ে মেয়ো রোডেই দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতে অনড়। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে তীব্র আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর আগে ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন নিয়েও ঠিক একই রকম টানাপোড়েনের মুখে পড়েছিল রাজ্য রাজনীতি। ধর্মতলায় শহিদ দিবসের চিরাচরিত জমায়েত নিয়ে দুই শিবির পৃথক ভাবে অনুমতি চেয়েছিল।
সেবার আদালত ঋতব্রত শিবিরকে মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে এবং মমতার শিবিরকে ক্যাথিড্রাল রোডে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিয়েছিল। তবে দু’পক্ষকেই বেশ কিছু কড়া শর্ত বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারপতি। এখন রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল, ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসেও আদালত দুই শিবিরকে আলাদা করে অনুমতি দেয় কি না এবং আগের মতো জমায়েতের লোকসংখ্যা বা সময় বেঁধে দেওয়া হয় কি না। মঙ্গলবারের শুনানির ওপরই নির্ভর করছে দুই শিবিরের উদ্যাপনের ভবিষ্যৎ।
৩৪০০ কোটির প্রকল্পে রাজ্যেই তৈরী হবে যুদ্ধজাহাজ! শুভেন্দু-রাজনাথের নজরে খিদিরপুর-গার্ডেনরিচ, ইছাপুর
একটি নয়! ৩ টি IIT র গর্ব তৈরির লক্ষে কেন্দ্রকে প্রস্তাব পাঠাল বাংলার ডবল ইঞ্জিন সরকার