রংপুরে তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে শিক্ষক-সহ একই পরিবারের ৪ জনের দেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
বাংলাদেশের রংপুরে হুলস্থূল। রংংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক-সহ একই পরিবারের চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে পুলিশ মরদেহগুলি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, চারজনকেই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি বাড়িতে ডাকাতির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)। প্রার্থী গত বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। প্রীয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাছুয়াপাড়া মন্দিরের পাশে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি। প্রায় তিন দিন ধরে বাড়ির গেটে তালা ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। শনিবার রাতে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। সেখানেই চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মৃত্যুর সময় তিন থেকে চার দিন আগে। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মরদেহগুলিতে পচন ধরেছিল। রংপুর সিআইডির ইনচার্জ সুমির চৌধুরী জানিয়েছেন, বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় টাকা-পয়সা ও গয়না রাখার জায়গার তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ডাকাতির সঙ্গে চারজনের মৃত্যুর সম্পর্ক কী, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগছে। পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন দল বাড়িটি ঘিরে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তাঁদের ধারণা, চারজনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কী ভাবে ও কেন খুন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ।