Garden Tips: এটা করলেই গাছ ভরে যাবে ফুলে, সহজ টিপসগুলো আগে জানতেন? | How to get flowers to bloom gardening tips
অনেক যত্ন করছেন, দামি দামি সার এনে নিয়ম করে টবে ঢালছেন, তাও সাধের গাছটায় কুঁড়ির দেখাই নেই? এই সমস্যা আমাদের মতো ছাদবাগান বা ব্যালকনি বাগানপ্রেমীদের খুব চেনা এক মাথাব্যথার কারণ। অনেক সময় আমরা ভাবি, বেশি সার দিলেই বুঝি গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠবে। কিন্তু সত্যি বলতে, অতিরিক্ত সার দেওয়াটাই অনেক সময় গাছের ফুল না ফোটার আসল কারণ হয়ে দাঁড়ায়!
আমরা যখন বাজার থেকে সাধারণ সার এনে গাছে দিই, তাতে প্রায়ই নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। নাইট্রোজেন গাছের পাতা আর ডালপালা সবুজ ও ঝাঁকড়া করতে সাহায্য করে, কিন্তু ফুল ফোটাতে বাধা দেয়। গাছ যদি খুব সবুজ আর বড় হয়ে ওঠে অথচ ফুল না আসে, তবে বুঝবেন নাইট্রোজেনের দাপট বেশি হয়েছে।
কী করবেন?
নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার দেওয়া সাময়িক বন্ধ রাখুন। তার বদলে পটাশিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ সার (যেমন- হাড়ের গুঁড়ো বা কলার খোসা ভেজানো জল) দিন। এগুলোই কুঁড়ি আসতে আসল সাহায্য করে।
গাছের ফুল না ফোটার অন্যতম বড় কারণ হল পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাব। জবা, অপরাজিতা, গোলাপ বা যেকোনও মরশুমি ফুলের গাছের দিনে অন্তত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা কড়া রোদের প্রয়োজন হয়। ব্যালকনির হালকা ছায়ায় গাছ বেঁচে তো থাকবে, কিন্তু ফুল দেবে না।
টবের জায়গা পরিবর্তন করুন। আপনার বাড়ির যে অংশে সবচেয়ে বেশি রোদ আসে, গাছটিকে সেখানে সরিয়ে নিয়ে যান। গাছে রোজ নিয়ম করে জল দেওয়া ভালো অভ্যাস, তবে ফুল আনার জন্য মাঝে মাঝে একটু কড়া হতে হয়। টবের মাটি সারাক্ষণ প্যাচপ্যাচে ভেজা থাকলে গাছ অলস হয়ে পড়ে এবং ফুল ফোটানোর চেয়ে পাতায় জোর বাড়ায়।
গাছে জল দেওয়া ১-২ দিনের জন্য একটু কমিয়ে দিন। যখন দেখবেন টবের ওপরের মাটি শুকিয়ে গিয়েছে এবং গাছের পাতা সামান্য নুয়ে পড়ছে (একে বলে ‘Water Stress’), তখন জল দিন। এই মৃদু ধাক্কা বা স্ট্রেস গাছকে দ্রুত ফুল ফোটাতে বাধ্য করে।
পুরনো আর বুড়ো হয়ে যাওয়া ডালে সহজে ফুল আসতে চায় না। গাছকে নতুন করে চাঙ্গা করতে ছাঁটাই বা প্রুনিং করা খুব জরুরি।
ধারালো কাঁচি দিয়ে গাছের শুকনো, মরা বা অতিরিক্ত ঘন ডালপালা হালকা করে ছেঁটে দিন। ডাল ছাঁটার কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন কচি ডাল বেরোবে এবং সেই নতুন ডালেই আসবে একঝাঁক নতুন কুঁড়ি। দামি রাসায়নিক সার বাদ দিয়ে আপনার রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়েই তৈরি করে নিতে পারেন চমৎকার বুস্টার।
কলার খোসায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। কলার খোসা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিন অথবা খোসা ৩-৪ দিন জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল গাছের গোড়ায় দিন। ব্যবহৃত চায়ের পাতা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে টবের মাটিতে দিন। এটি মাটির অম্লতা (acidity) বাড়ায়, যা জবা বা গোলাপের মতো গাছের ফুল ফোটাতে দারুণ কাজ করে।
গাছেরও একটা নিজস্ব সময় থাকে। তাই অতিরিক্ত সার খাইয়ে তাকে ক্লান্ত না করে, সঠিক রোদ, পরিমিত জল আর একটু ভালোবাসার যত্ন দিন। দেখবেন, খুব শিগগিরই আপনার বাগান আলো করে হাসবে প্রথম কুঁড়িটি!