মন্ত্রী ধমকেছিলেন, সেই ফুটপাথবাসীর পাশে দাঁড়ালেন কুণাল, কী বললেন অগ্নিমিত্রা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

মন্ত্রী ধমকেছিলেন, সেই ফুটপাথবাসীর পাশে দাঁড়ালেন কুণাল, কী বললেন অগ্নিমিত্রা?

Spread the love

কলকাতার ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে ও বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। এর মাঝেই শনিবার পার্ক স্ট্রিট এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাস্তার ধারেই এক মহিলাকে উনুনের উপরে দুধ ফোটাতে দেখে অগ্নিশর্মা হয়ে যান মন্ত্রী। তাঁকে ফুটপাথ থেকে সরে যেতে বলা হয়। রবিবার সেই মহিলা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ফুটপাথবাসীর জন্য যাতে নির্দিষ্ট হোম বা আশ্রয়স্থলের ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে পার্ক স্ট্রিট থানার সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক।

এ দিন প্রথমে ফুটপাথে সেই মহিলা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কুণাল। তাঁদের পরিচয় ও পরিস্থিতি জানার জন্য বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। এর পরে পার্ক স্ট্রিট থানায় যান কুণাল। সেখানে পুলিশকে অনুরোধ জানানো হয়, আশ্রয়হীন ওই পরিবারকে যাতে কোনও হোমে বা আশ্রয়স্থলে পাঠানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল লিখেছেন, ‘গরিবতম মা, মেয়ে, নাতনিকে রাষ্ট্রশক্তির উচ্ছেদশাসনে বলি দেওয়া অমানবিক হবে।’ পুলিশ এ ব্যাপারে বিধায়ককে আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন কুণাল।

কলকাতার ফুটপাথ দখলমুক্ত করার বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে করার দাবি তুলেছেন তিনি। বেলেঘাটার বিধায়কের কথায়, ‘মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শনিবার পার্ক স্ট্রিট/ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় গিয়েছিলেন। দেখলাম বাচ্চার জন্য দুধ গরম করা এক ফুটপাথবাসিনীকে ধমকে বলছেন এসব থামিয়ে সরে যেতে। আমার বক্তব্য, ফুটপাথ পরিষ্কার হোক। কিন্তু সব অভিযানের একটা মানবিক মুখ থাকুক। আমাদের আর্থসামাজিক কাঠামোয় সবটা পুলিশ, বুলডোজ়ার দিয়ে হয় না।’

এই বিষয়টি নিয়ে রানিগঞ্জ থানার নারায়ণকুড়ি এলাকায় একটি অনুষ্ঠান থেকে অগ্নিমিত্রা রবিবার বলেন, ‘ফুটপাতে স্টোভ জ্বালিয়ে দুধ গরম করা বা ছ’ মাসের বাচ্চাকে ব্যস্ত রাস্তার পাশে ছেড়ে রাখা চরম বিপজ্জনক। আজ দুর্ঘটনা ঘটলে এই বিরোধীরাই সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাতো। বাচ্চার দুধ ফুটুক বা খিচুড়ি কিংবা পকোড়া ভাজা হোক, ব্যস্ত রাস্তায় পথচারীদের হাঁটার জায়গায় এই সব বরদাস্ত করা হবে না।’ বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

যদিও শনিবারের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়ার পরে অনেকেই সমালোচনা শুরু করেছিলেন। অসহায় পরিবারকে ধমক না দিয়ে তাঁদের অনত্র সরে যাওয়ার আবেদন করা যেত বলে দাবি করেছেন অনেকেই। বিষয়টি নিয়ে এ দিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি এই বিষয়টা পুরোপুরি জানি না। পুরো বিষয়টা জানব। এর পরে অগ্নিমিত্রার সঙ্গে কথা বলব।’

জানা গিয়েছে, ওই মহিলা পাঞ্জাবের বাসিন্দা। মেয়ে মেয়ে আর ছোট বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তায় ধারেই থাকেন। আশেপাশে কোনও ঝুপড়ি নেই বলে ফুটপাথে থাকতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *