নীতি আয়োগের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য! দেশের ৮.৭ কোটি যুবক-যুবতী সম্পূর্ণ বেকার
নয়াদিল্লি: ভারতের তরুণ প্রজন্মের এক বিশাল অংশ এখন শিক্ষা, (NITI Aayog)কর্ম বা প্রশিক্ষণের কোনো জায়গাতেই নেই। নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য…
নয়াদিল্লি: ভারতের তরুণ প্রজন্মের এক বিশাল অংশ এখন শিক্ষা, (NITI Aayog)কর্ম বা প্রশিক্ষণের কোনো জায়গাতেই নেই। নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেশের ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ৮.৭ কোটি যুবক-যুবতী না পড়াশোনা করছেন, না কোনো কাজে যুক্ত, না কোনো প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
২০২১ সালের জাতীয় নমুনা সমীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদন (NITI Aayog)‘রিইম্যাজিনিং স্কিলিং ফর ভিক্সিত ভারত ২০৪৭’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।এই বিশাল সংখ্যা ভারতের জনসংখ্যাগত লভ্যাংশকে এক বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। দেশের তরুণ শক্তি যদি সঠিকভাবে কাজে না লাগে, তাহলে এই লভ্যাংশ বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হল, স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে মাত্র ৮.২৫ শতাংশই তাদের যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে কাজ পাচ্ছেন।
আরও দেখুনঃ ২০২৯ এই ২২ বিধানসভা ভেঙে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেক্শনের’ বাস্তবায়ন করতে পারে NDA
অর্থাৎ, বেশিরভাগ শিক্ষিত যুবক এমন কাজে নিযুক্ত যা তাদের পড়াশোনার সঙ্গে মিলছে না। (NITI Aayog)ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব এবং শিল্পের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে প্রশিক্ষণের ঘাটতি এখানে বড় ভূমিকা রাখছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তরুণদের অনেকেই আগে শিক্ষায় খরচ করেছেন কিন্তু এখন আয়ের কোনো উৎস নেই। ফলে নতুন করে প্রশিক্ষণ নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্যও অনেকের নেই।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ঘরের কাজের চাপ আরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। (NITI Aayog)এই গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত থাকায় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।ভারতের জনসংখ্যার এই তরুণ অংশকে কাজে লাগাতে হলে শুধু ডিগ্রি দিয়ে চলবে না। প্রয়োজন দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের লভ্যাংশে রূপান্তর। নীতি আয়োগ সুপারিশ করেছে সস্তা বা ভর্তুকিযুক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে হবে, যাতে স্বনিয়োগ বাড়ে এবং স্থানীয় চাহিদা ও নতুন খাতের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষতা গড়ে ওঠে।
আরও দেখুনঃ ভারতকে শায়েস্তা করতে বাংলাদেশে ISI র ভীত শক্ত করার বিতর্কিত বিবৃতি BNP পন্থী বিশ্লেষকের
স্কুল থেকেই কর্মমুখী শিক্ষা শুরু করা, (NITI Aayog)শিল্পের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।পাঠ্যক্রমের আমূল সংস্কার ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সাধারণ ডিগ্রি কোর্সগুলো অনেক সময় বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। শিক্ষার্থীরা যখন স্নাতক হয়ে বেরোন, তখন তারা দেখেন যে নিয়োগকর্তারা অতিরিক্ত দক্ষতা চাইছেন।
এই ফাঁক দূর করতে স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমে ব্যবহারিক দক্ষতা, (NITI Aayog)উদ্যোক্তা শিক্ষা এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।সরকার ইতিমধ্যে দক্ষতা উন্নয়নে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিয়েছে এবং কোটি কোটি মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। কিন্তু এখন প্রয়োজন ফলাফলমুখী ব্যবস্থা। শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, সেই প্রশিক্ষণ যেন বাস্তব চাকরি বা স্বনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে।
আরও দেখুনঃ বদলে গেল নিয়ম! এবার মাত্র ১ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়েও কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে সুপ্রিমকোর্টে
তরুণদের আয়ের সঙ্গে শেখার সুযোগ দিতে হবে, (NITI Aayog)যাতে তারা একসঙ্গে কাজ ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে।ভারত যদি ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে চায়, তাহলে এই ৮.৭ কোটি তরুণকে মূলধারার কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনতেই হবে। জনসংখ্যাগত লভ্যাংশকে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের লভ্যাংশে রূপান্তর করার এখনই সময়।