কৃষি প্রকল্পে ১০০% লক্ষ্যমাত্রা পূরণের নির্দেশ, রাজ্যগুলিকে বার্তা শিবরাজের - 24 Ghanta Bangla News
Home

কৃষি প্রকল্পে ১০০% লক্ষ্যমাত্রা পূরণের নির্দেশ, রাজ্যগুলিকে বার্তা শিবরাজের

Spread the love

নয়াদিল্লি: কৃষি সংক্রান্ত সরকারি প্রকল্পগুলির (Agriculture Schemes) সুবিধা যেন কেবল সরকারি রিপোর্টে সীমাবদ্ধ না থাকে, সরাসরি কৃষকের জমি এবং হাতে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যগুলিকে…

নয়াদিল্লি: কৃষি সংক্রান্ত সরকারি প্রকল্পগুলির (Agriculture Schemes) সুবিধা যেন কেবল সরকারি রিপোর্টে সীমাবদ্ধ না থাকে, সরাসরি কৃষকের জমি এবং হাতে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।

শনিবার পুসায় আয়োজিত একটি জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি রাজ্যগুলিকে ডিজিটাল কৃষি মিশন এবং ডাল স্বনির্ভরতা মিশনের আওতায় ১০০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আহ্বান জানান। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সরকারি প্রকল্পের সাফল্য কাগজে-কলমে নয়, কৃষকের মাঠ এবং কৃষকের আয়ে প্রতিফলিত হতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ

শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, যে রাজ্যগুলি গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করেছে, তারা নিজেদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশেরও বেশি অর্জন করেছে। অন্যদিকে কিছু রাজ্য এখনও লক্ষ্যমাত্রার পিছনে রয়েছে। তিনি সমস্ত রাজ্যকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন কৃষিমন্ত্রী। তাঁর মতে, কৃষকদের কাছে প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা পৌঁছলে তবেই এই উদ্যোগগুলির উদ্দেশ্য সফল হবে।

Also Read | কৃষিখাতে বিশাল ভর্তুকি মোদী সরকারের! ৩০০০ র ইউরিয়ার বস্তা এখন মোটে ৩০০ টাকা

কৃষক পরিচয়পত্রে সরাসরি ব্যাঙ্কে টাকা

ডিজিটাল কৃষি মিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কৃষক পরিচয়পত্র বা ফার্মার আইডির কথা তুলে ধরেন শিবরাজ সিং চৌহান। এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো সম্ভব হবে। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থা সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মহারাষ্ট্র এবং ছত্তীসগঢ়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, কৃষক পরিচয়পত্র তৈরির জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই অর্থ বরাদ্দ করেছে। পরিচয়পত্র তৈরির জন্য শিবির আয়োজনের ক্ষেত্রেও অর্থ দেওয়া হয়েছে। তবে এক মাসের মধ্যে পরিচয়পত্র তৈরির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে নির্দিষ্ট কাজে বরাদ্দ অর্থ অন্যত্র ব্যবহার না করে শিবিরগুলি নিয়মিত চালাতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

Also Read | ইউরিয়ার দাম কমল ১২%, ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কাটতেই বড় স্বস্তি ভারতে

২৬ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১০.৪১ কোটি কৃষক পরিচয়পত্র

সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ১০.৪১ কোটি কৃষক পরিচয়পত্র তৈরি হয়েছে। এই পরিচয়পত্র ৮৪.৬৮ শতাংশ পিএম-কিষান সুবিধাভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি দেশের প্রায় ৭৭ শতাংশ কার্যকর কৃষিজমির মালিকানা বা জমি ব্যবহারের হিসাবও এর আওতায় এসেছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য হল ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের যোগাযোগ আরও সরাসরি এবং স্বচ্ছ করা।

ডিজিটাল জমির নথিতে জোর মানচিত্র ও তথ্য যাচাইয়ে

ডিজিটাল জমির নথির ক্ষেত্রেও শিবরাজ সিং চৌহান মানচিত্রের সংযুক্তিকরণ এবং তথ্য যাচাইকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হল সঠিক জমির তথ্য। তবে জমি এবং ফসলের স্থানীয় বৈচিত্র্যের কারণে কিছু এলাকায় তথ্যের নির্ভুলতার ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। কৃষি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৫.৯ লাখ গ্রামের মানচিত্রের ভূ-অবস্থান নির্ধারণ বা জিও-রেফারেন্সিং সম্পন্ন হয়েছে। এটি চিহ্নিত গ্রামের ৯৩.০৫ শতাংশ।

Also Read | এই দুই রাজ্যের কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে ৬০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের

ডিজিটাল ফসল সমীক্ষার পরিধি বাড়ছে

ডিজিটাল ফসল সমীক্ষার আওতাও দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৪-২৫ সালে যেখানে ২৯০টি জেলায় এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ সালের রবি মরসুমে তা বেড়ে ৬৫০টি জেলায় পৌঁছেছে। ২০২৬-২৭ সালের খরিফ মরসুমে ৬৯২টি জেলায় ডিজিটাল ফসল সমীক্ষা চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সমীক্ষার আওতায় থাকা জমির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০২৪-২৫ সালে ৩.৮৭ কোটি হেক্টর জমি এর আওতায় ছিল। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ৯.১৮ কোটি হেক্টরে পৌঁছেছে। আসন্ন খরিফ মরসুমে এই পরিমাণ আরও বেড়ে ১৩.৪ কোটি হেক্টর করার লক্ষ্য রয়েছে।

বাড়ছে ডাল উৎপাদন, কমছে আমদানি

ডাল উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপরও জোর দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে দেশে ডাল উৎপাদন হয়েছিল ২৫৬.৮৩ লাখ টন। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ২৭৪.০৯ লাখ টনে পৌঁছেছে। উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি ডাল আমদানির পরিমাণও কমেছে। ২০২৪-২৫ সালে আমদানি ছিল ৭২.৫৬ লাখ টন। ২০২৫-২৬ সালে তা কমে ৫৯.৬৪ লাখ টনে নেমেছে। ডাল চাষের জমির পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ সালে ২৭৭.২০ লাখ হেক্টর জমিতে ডাল চাষ হয়েছিল। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ২৮৬.৪৬ লাখ হেক্টরে পৌঁছেছে। একই সময়ে উৎপাদনশীলতা ৯২৬ কেজি প্রতি হেক্টর থেকে বেড়ে ৯৫৭ কেজি প্রতি হেক্টর হয়েছে।

শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না

শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ডাল উৎপাদন বাড়ালেই কৃষকদের আয় বাড়বে না। উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করাও জরুরি। এই লক্ষ্যেই ডাল স্বনির্ভরতা মিশনের অধীনে ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে ৫২৮টি প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট এবং ঠান্ডা সংরক্ষণাগার তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সংযোগও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বীজ থেকে বিক্রি, প্রতিটি পর্যায়ে সময়মতো সহায়তা

কৃষকদের ক্ষতি কমাতে চাষের শুরু থেকে ফসল বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সময়মতো সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সময়মতো সরবরাহ এবং কৃষকদের পাওনা দ্রুত মেটানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বপন, ফসল কাটার এবং বিক্রির সময় দেরি হলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তাই সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজার সংযোগকে একই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কৃষকের আয় ও খাদ্য স্বনির্ভরতার ওপর জোর

জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রী ভাগীরথ চৌধুরী, হরিয়ানার কৃষিমন্ত্রী শ্যাম সিং রানা, অসমের মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা, অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল ডেনওয়াং ওয়াংসু, নাগাল্যান্ডের মন্ত্রী মঠুং ইয়ানথান এবং কেন্দ্রীয় কৃষি সচিব অতীশ চন্দ্র-সহ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে। কৃষকদের আয় বাড়ানো এবং দেশের খাদ্য স্বনির্ভরতা আরও শক্তিশালী করতে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, জবাবদিহি এবং সময়নিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর বার্তার মূল বিষয় হল, কৃষি প্রকল্পের সাফল্য শুধু সরকারি নথিতে দেখা গেলে হবে না। ডিজিটাল পরিচয়পত্র, জমির তথ্য, ফসল সমীক্ষা, ডাল উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজার সংযোগের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধা কৃষকের জমি ও আয়ে পৌঁছনোই হতে হবে চূড়ান্ত লক্ষ্য।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *