টাইগার নেস্টের পথে সোলো সফর
তমশ্রী ধর
মুসাফির বা পর্যটক।
আরবি এক শব্দ। আমাদের সকলের মধ্যেই কম–বেশি লুকিয়ে রয়েছে যে সত্তা।
অনেক দিন ধরে পরিকল্পনার পরে কয়েক দিনের জন্য সেই জীবনযাপনের লক্ষ্যে ভুটান সোলো ট্রিপের পথে পা বাড়ানো। দেশের বাইরে পা রাখার প্রথম অভিজ্ঞতা, তাও আবার একা। তবে পুরোপুরি একা নয়। খোঁজখবর নেওয়ার পরে এক ট্যুরিস্ট গ্রুপের সঙ্গে। কারণ, একা ভুটান ঘোরার প্ল্যান করা কিছুটা ঝক্কির। সে দেশে ঢোকার জন্য পারমিট, প্রতিদিনের মাথা পিছু ১২০০ টাকা, সঙ্গে যেখানেই যাবেন, থাকতে হবে ভুটানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত গাইড, এতগুলো শর্ত সামলাতে সাহায্য নেওয়াই ভালো বলে মনে হয়েছিল।

প্রথমে বাগডোগরা থেকে সোজা চলে গিয়েছিলাম জয়গাঁও। গাড়িতে ঘণ্টা চারেক। দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য কাঞ্চনকন্যা ধরে সোজা হাসিমারা পৌঁছনো ভালো বিকল্প। কারণ, হাসিমারা থেকে জয়গাঁওয়ের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। ইমিগ্রেশনের জন্য ভোটার কার্ডই যথেষ্ট, চাইলে পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে পারেন। বর্ডারের এপারে জয়গাঁও, আর ওপারে ফুয়েন্টশলিং। ঝকঝকে রাস্তাঘাট ধরে গন্তব্য ছিল পারো। আরও চার ঘণ্টার সড়কপথ। রাতের অন্ধকারে পারো নদীকে সঙ্গী করে সেই সফর এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।

অন্ধকার ভেদ করে আলোয় ভাসা ‘পারো জং’ (কেল্লা) চোখে পড়ল। যা পুরোনো কেল্লা ও মনাস্ট্রি। পরের দিন সকালে লোকাল সাইট সিইংয়ের অঙ্গও ছিল যে জায়গা। পাশাপাশি ছিল মিউজ়িয়াম, লোকাল মার্কেট। বহিরাগতদের আক্রমণ ঠেকাতে ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি কেল্লাটি বানানো হয়েছিল। পরবর্তীকালে প্রশাসনিক কাজে এবং বৌদ্ধ মনাস্ট্রি হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়। পারো জং থেকে হাঁটা রাস্তা চলে গিয়েছে নিচে পারো নদীর ধারে। খরস্রোতা পাহাড়ি নদী বয়ে চলেছে অজানা গন্তব্যের দিকে, তার যেন কোনও বিরাম নেই।

পরের দিন টাইগার নেস্ট মনাস্ট্রির পথে ট্রেক। তিন কিলোমিটার মতো পথ হলেও হেঁটে উঠতে ঘণ্টা চারেক সময় লাগে। এই পথের মাঝেই রয়েছে এক ক্যাফে। অনেকের কাছে সেটাই যেন মুসাফির–ক্যাফে। সেখানে বসে দূরের পাহাড়ের টাইগার নেস্টের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। যাঁরা পুরো ট্রেক করতে পারেন না, তাঁরা এখান পর্যন্ত এসে প্রকৃতি অপরূপ শোভা উপভোগ করে ফিরে যান। শারীরিক সক্ষমতা না থাকলে শেষ পর্যন্ত পৌঁছনো মুশকিল। বিশেষ করে একদম শেষের কিছুটা সিঁড়িপথ। ফেরার পরে যে ক্লান্তি ঘিরে ধরেছিল তা নিমেষে উধাও হয়ে যায় হট স্টোন বাথ নেওয়াতে। স্থানীয়দের মতে, রোগ নিরাময়ের সেরা উপায় এই স্নান। মুসাফির জীবনে সারাদিনের ক্লান্তি শেষে এই স্বস্তির খোঁজ করতেই তো অজানার পতে পা বাড়ানো।

খেয়াল রাখতে হবে
-
ইমিগ্রেশনের জন্য ভোটার কার্ডই যথেষ্ট, চাইলে পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে পারেন
-
ভুটানে ঢোকার জন্য পারমিট এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত গাইড সঙ্গে থাকতে হবে
-
পারো নদীর পাশে চোখ ধাঁধানো পারো জং অবশ্যই ঘুরে দেখবেন
-
টাইগার নেস্টে যাওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা একান্ত প্রয়োজন
-
তিন কিলোমিটার পাহাড়ি খাড়া রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছতে হয়