TVS Apache RTR 160 4V সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS-এ কী কী ফিচার মিলছে?
গুরুগাঁও: TVS Apache RTR 160 4V-এর সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্টটি রেঞ্জের দ্বিতীয় সস্তার মডেল। এর ঠিক নিচে রয়েছে আরএম ডিস্ক ভ্যারিয়েন্ট এবং এর উপরে রয়েছে ইউএসডি ফর্ক-যুক্ত…
গুরুগাঁও: TVS Apache RTR 160 4V-এর সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্টটি রেঞ্জের দ্বিতীয় সস্তার মডেল। এর ঠিক নিচে রয়েছে আরএম ডিস্ক ভ্যারিয়েন্ট এবং এর উপরে রয়েছে ইউএসডি ফর্ক-যুক্ত মডেলগুলি। দিল্লিতে এর এক্স-শোরুম দাম ১,২৬,৮৯০ টাকা। আরএম ডিস্কের তুলনায় প্রায় ৭,০০০ টাকা বেশি খরচ করে এই ভ্যারিয়েন্টে কী পাওয়া যায়, দেখে নেওয়া যাক।
ডিজাইন ও লুক
এই ভ্যারিয়েন্টে সামনের দিকে সাধারণ টেলিস্কোপিক ফর্ক রয়েছে। বেশি দামি মডেলগুলিতে থাকা ইউএসডি বা আপসাইড-ডাউন ফর্ক এখানে নেই। ফলে সামনের অংশের ডিজাইন তুলনামূলকভাবে সাধারণ। তবে হেডল্যাম্প, ডিআরএল, টেলল্যাম্প এবং ইন্ডিকেটর সবই এলইডি। এই ভ্যারিয়েন্টে তিনটি রঙ পাওয়া যায়:
- রেসিং রেড
- নাইট ব্ল্যাক
- মেটালিক ব্লু
মেরিন ব্লু, ম্যাট ব্ল্যাক এবং পার্ল হোয়াইটের মতো কিছু প্রিমিয়াম রঙ বেশি দামি ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস ও স্পেশাল এডিশনের জন্য রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চার-দরজার Ford Mustang আসছে? ৪ সেকেন্ডের কমে ১০০ কিমি গতি!
এলসিডি ডিসপ্লে ও স্মার্ট কানেক্ট
এই মডেলে টপ-এন্ড ভ্যারিয়েন্টের রঙিন টিএফটি ডিসপ্লের বদলে এলসিডি ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার রয়েছে। তবে ফিচারের দিক থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই। এতে রয়েছে টিভিএস স্মার্টএক্সকানেক্ট ব্যবস্থা। স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত করলে পাওয়া যায়:
- টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন
- কল অ্যালার্ট
- রাইড টেলিমেট্রি
তবে এই ভ্যারিয়েন্টে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল নেই। এই ফিচারটি রেঞ্জের সবচেয়ে দামি ভ্যারিয়েন্টের জন্য রাখা হয়েছে।
সাসপেনশন ও ব্রেক
সাধারণ টেলিস্কোপিক ফর্ক থাকলেও সেটি যথেষ্ট ভালোভাবে টিউন করা হয়েছে। ফলে ইউএসডি ফর্ক না থাকার কারণে দৈনন্দিন ব্যবহারে খুব বড় আপস করতে হবে না। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস। সামনে ২৭০ মিমি এবং পিছনে ২৪০ মিমি পেটাল ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। সাসপেনশনের পিছনের অংশে রয়েছে মনোশক, যা অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ ৪ভি-এর সব ভ্যারিয়েন্টেই একই।
আরও পড়ুন: মেক ইন ইন্ডিয়ায় ফের বড় ঘোষণা! দেশীয় যুদ্ধ বিমান তৈরিতে রিলায়েন্সের সঙ্গে হাত মেলাল রোলস রয়েস
চাকা ও ওজন
বাইকটিতে রয়েছে ১৭ ইঞ্চির চাকা। সামনের টায়ারের মাপ ৯০ এবং পিছনের টায়ারের মাপ ১৩০। এর কার্ব ওজন ১৪৩ কেজি, যা ইউএসডি ফর্ক-যুক্ত উপরের ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় কিছুটা কম।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে একই ১৫৯.৭ সিসি, এয়ার-অয়েল-কুলড, সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, যা পুরো আরটিআর ১৬০ ৪ভি রেঞ্জেই ব্যবহার করা হয়েছে। রাইডিং মোড অনুযায়ী ইঞ্জিনের শক্তি ও টর্কের পরিমাণ বদলে যায়।
স্পোর্ট মোড
- সর্বোচ্চ শক্তি: ১৭.৫৫ পিএস @ ৯,২৫০ আরপিএম
- সর্বোচ্চ টর্ক: ১৪.৭৩ এনএম @ ৭,৫০০ আরপিএম
- সর্বোচ্চ গতি: ১১৪ কিমি/ঘণ্টা
আরবান ও রেন মোড
- সর্বোচ্চ শক্তি: ১৫.৬৪ পিএস @ ৮,৬৫০ আরপিএম
- সর্বোচ্চ টর্ক: ১৪.১৪ এনএম @ ৭,২৫০ আরপিএম
- সর্বোচ্চ গতি: ১০৩ কিমি/ঘণ্টা
ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স এবং অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ।
মাইলেজ ও রেঞ্জ
বাস্তব ব্যবহারের পরীক্ষায় বাইকটি শহর ও হাইওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪২-৪৫ কিমি/লিটার মাইলেজ দিয়েছে। ১২ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্কের সঙ্গে হিসাব করলে বাস্তব ব্যবহারে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি রেঞ্জ পাওয়া সম্ভব।
তাহলে এই ভ্যারিয়েন্টটি কার জন্য?
TVS Apache RTR 160 4V সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা পারফরম্যান্স, ভালো ব্রেকিং এবং কানেক্টেড ফিচার চান, কিন্তু ইউএসডি ফর্ক বা টপ-এন্ড প্রযুক্তির জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে চান না। ১.২৬ লাখ টাকার কাছাকাছি দামে ১৭.৫৫ পিএস শক্তিশালী ইঞ্জিন, সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস, এলইডি লাইটিং, স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি এবং স্পোর্টি ডিজাইন মিলিয়ে এটি আরটিআর ১৬০ ৪ভি রেঞ্জের একটি যুক্তিসঙ্গত ভ্যারিয়েন্ট।