৩ মাসেও মেলেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা, স্বামীর সঙ্গে বচসার জেরে আত্মঘাতী বধূ
একবারও পাননি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। পরপর তিন মাস খালি হাতে থাকতে হয়েছে তাঁকে। ফর্ম ফিলআপ করার পরেও কেন এক বারও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেলেন না তা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বচসা হতো তাঁর, এমনটাই দাবি পড়শিদের। সেই বচসার জেরেই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন ওই তরুণী বধূ। শুক্রবার মালদার গাজোল থানার করকচ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাচাহার এলাকার ঘটনা। নিহত তরুণীর নাম অনিমা খাতুন (৩২)।
স্থানীয়দের দাবি, বাইরে থেকে ১০০ টাকা দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ করিয়েছিলেন অনিমার স্বামী। তার ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে স্বামীর উপরেই ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন অনিমা। তিন মাস ধরে বার বার ব্যাঙ্কে যাতায়াত করেও কোনও সুরাহা হয়নি। ব্লক প্রশাসনে আবেদন পত্র জমা দেওয়ার পরেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। ১৭ অগস্ট পড়শি অনেক মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকেছিল, কিন্তু অনিমা টাকা পাননি। তা নিয়ে ফের স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয় তাঁর। তারপরেই শুক্রবার ভোরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন ওই গৃহবধূ। ঘটনার খবর পাওয়ার পরে এলাকায় যায় পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।
পড়শি ও আত্মীয়রা জানাচ্ছেন, এর আগে নিয়মিত লক্ষ্মী ভাণ্ডারের টাকা পেতেন ওই মহিলা। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু হওয়ার পরে আর টাকা মেলেনি বলে অভিযোগ। মৃত অনিমা খাতুনের (৩২) স্বামী ইনজামামুল হক পেশায় দিনমজুর। ১০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পরিবারে তাদের দুই নাবালক ছেলে, মেয়ে রয়েছে। মৃতের এক আত্মীয় সামিরুল রহমান জানিয়েছেন, আগে বৌদি লক্ষ্মী ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা পেত। কিন্তু অন্নপূর্ণা চালু হওয়ার পরে গত তিন মাস ধরে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছিল না। পরিবারটি অভাবের মধ্যেই ছিল বলে জানাচ্ছেন পড়শিরা। পড়শিদের দাবি, আবেদনপত্রে ভুল হয়েছে বলে সন্দেহ করে দম্পতির মধ্যে অশান্তি হচ্ছিল বার বার। সামিরুল রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরে যখন দাদা কাজে বেরিয়ে যায়, তখন ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে ছিল। সেই সময়ে ঘরের সিলিংয়ে কাপড় ঝুলিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন অনিমা।
বিষয়টি জানতে পেরে করকচ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল দলের নির্বাচিত সদস্য মোসারেকুল আনোয়ার মৃতের বাড়িতে এসে পৌঁছন। ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের টাকা না পেয়ে ওই মহিলা আত্মঘাতী হয়েছে। এটা আমাদের কাছে খুবই খারাপ লাগছে। প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখুক, এই দাবি করা হচ্ছে।’
বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তবে এই প্রকল্প সাধারণ গরিব ও মধ্যবিত্তদের জন্য। সবাই এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’