১০ বছরে মশাবাহিত রোগে লক্ষাধিক আক্রান্ত, কলকাতায়ও বাড়ছে উদ্বেগ - 24 Ghanta Bangla News
Home

১০ বছরে মশাবাহিত রোগে লক্ষাধিক আক্রান্ত, কলকাতায়ও বাড়ছে উদ্বেগ

Spread the love

কলকাতা: মশাবাহিত রোগ (Mosquito Borne Diseases) এখনও কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে চিকিৎসক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, গত এক দশকে রাজ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪০০-র বেশি মৃত্যুর খবর রয়েছে। এর মধ্যে কলকাতার মৃত্যু রাজ্যের মোট মৃত্যুর প্রায় ২০-৩০ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ তুলনামূলক কম। নিয়মিত ও বেশি বৃষ্টি, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুরসভার একাধিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে কলকাতার আবহাওয়া ও নাগরিক পরিকাঠামোর কারণে মশাবাহিত রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও যথেষ্ট রয়েছে।

চ্যারনক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান নিশান্ত আগরওয়াল জানিয়েছেন, চলতি বছরে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার রোগীর সংখ্যা কম রয়েছে। তবে ফোর্টিস হাসপাতাল আনন্দপুরের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জয়দীপ ঘোষের মতে, ডেঙ্গু এখনও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কলকাতায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া নিয়ে কেন উদ্বেগ?

কলকাতার উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকার পরিস্থিতি মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ফলে বর্ষার সময় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সায়ন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ডেঙ্গু হলে সাধারণত হঠাৎ উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং কখনও ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে মূলত সহায়ক চিকিৎসা, পর্যাপ্ত জলপান এবং নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

মশার কামড় কেমন হতে পারে?

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা জিকার মতো রোগ ছড়াতে পারে এমন এডিস মশার কামড় অনেক সময় ত্বকে ছোট লাল দাগের মতো দেখা যায়। সেখানে চুলকানি বা সামান্য ফোলাভাব থাকতে পারে।  তবে মশার কামড়ের দাগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পরবর্তী উপসর্গ। জ্বর, দুর্বলতা বা ফ্লু-র মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে কী ছবি?

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মশাবাহিত রোগের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গু

পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বিভিন্ন বছরে ব্যাপকভাবে ওঠানামা করেছে। সরকারি হিসাবে বিভিন্ন বছরে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক দশক থেকে শুরু করে তারও বেশি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০১৭ সালে ৪৬ জন এবং ২০২২ সালে ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্যের মোট মৃত্যুর মধ্যে কলকাতার অংশ আনুমানিক ২০-৩০ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যালেরিয়া

রাজ্যে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর হার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কলকাতায় প্রতি বছর প্লাজমোডিয়াম ভিভ্যাক্স ও প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপ্যারামের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেলেও প্রাণঘাতী ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।

চিকুনগুনিয়া

কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে চিকুনগুনিয়ার বিচ্ছিন্ন সংক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির ব্যথার মতো সমস্যা দেখা গেলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি রেকর্ডে চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য।

২০২৩ সালে কলকাতায় বড় ডেঙ্গু প্রকোপ

কলকাতায় সাম্প্রতিক বড় ডেঙ্গু প্রকোপগুলির মধ্যে ২০২৩ সালের পরিস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর ২০২২ সালের বড় প্রকোপকেও ছাপিয়ে যায় সংক্রমণ। পশ্চিমবঙ্গে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষেরও বেশি হয়েছিল বলে স্বাস্থ্য দফতরের সরকারি ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের উল্লেখ রয়েছে। কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছিল। শহর ও সংলগ্ন মহানগর এলাকায় ডেঙ্গুতে ২৫ থেকে ৪০ জনের মতো মৃত্যুর খবরও উল্লেখ করা হয়েছে।

কীভাবে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচবেন?

বিশ্ব মশা দিবসের বার্তা হল, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, পাড়া, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

  • বাড়ি ও আশপাশে জল জমতে না দেওয়া
  • ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম বা অন্যান্য পাত্রে জমা জল নিয়মিত পরিষ্কার করা
  • মশার বংশবিস্তারের জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া
  • মশারি ব্যবহার করা
  • প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা
  • জ্বর বা ফ্লু-র মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করা
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া

বিশ্ব মশা দিবসের এবারের বার্তা

‘টেকিং অ্যাকশন টুগেদার: বিল্ডিং মশকুইটো-রেজিলিয়েন্ট কমিউনিটিজ’ বা একসঙ্গে উদ্যোগ নিয়ে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সক্ষম সমাজ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে বর্ষার সময় মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই জল জমা বন্ধ করা, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *