বড় পদক্ষেপ মহারাষ্ট্র সরকারের! ১১ টি পুকুরে হানা দিয়ে নষ্ট করা হল ৩৬ টন থাই মাগুর
নাগপুর: নিষিদ্ধ থাই মাগুর বা থাই ক্যাটফিশের চাষ অবৈধ। (Thai Magur)এই অবৈধ মাগুরের ব্যবসার বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল মহারাষ্ট্রের নাগপুর মৎস্য দফতর। নাগপুর জেলার পারশিবনি…
নাগপুর: নিষিদ্ধ থাই মাগুর বা থাই ক্যাটফিশের চাষ অবৈধ। (Thai Magur)এই অবৈধ মাগুরের ব্যবসার বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল মহারাষ্ট্রের নাগপুর মৎস্য দফতর। নাগপুর জেলার পারশিবনি তালুকের চিকোলি-মহাদুলা এলাকায় ১১টি বড় পুকুরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৬ টনেরও বেশি নিষিদ্ধ মাছ। পরে সেই মাছ গর্ত করে পুঁতে নষ্ট করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই অভিযানে এলাকায় অবৈধ মাছ চাষের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।
মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু পুকুরে বেআইনিভাবে থাই মাগুর চাষ করা (Thai Magur)হচ্ছে বলে খবর পেয়েছিলেন আধিকারিকরা। খবর পাওয়ার পর সরাসরি অভিযানে না গিয়ে প্রথমে তথ্য যাচাই করা হয়। কোন কোন পুকুরে এই মাছ চাষ হচ্ছে, সেগুলি চিহ্নিত করতে গুগল ম্যাপিংয়ের সাহায্য নেন আধিকারিকরা। এরপর সাধারণ ক্রেতা সেজে বা ‘ডামি কাস্টমার’ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কোথায় এই মাছ চাষ হচ্ছে এবং কীভাবে তা বিক্রি করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় দফতর।
আরও দেখুনঃ জনসমক্ষে নয় এমন পরিস্থিতিতে জাত তুলে গালি দেওয়া অপরাধ নয়! নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের
এরপর সহকারী কমিশনার শুভম কোমরেওয়ারের (Thai Magur)নেতৃত্বে মৎস্য দফতরের একটি দল নির্দিষ্ট পুকুরগুলিতে হানা দেয়। অভিযানে সহযোগিতা করেন স্থানীয় ২৫ জন মৎস্যজীবী। পুকুরে জাল ফেলে একের পর এক মাছ তুলে আনা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সেই অভিযানে ১১টি পুকুর থেকে মোট ৩৬ টনেরও বেশি থাই মাগুর উদ্ধার করা হয়। বিপুল পরিমাণ মাছ এক জায়গায় জড়ো করার পর সেগুলিকে গর্ত করে পুঁতে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
অভিযানের পর এই অবৈধ মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। মৎস্য দফতরের পক্ষ থেকে শাকিল খান আবদুল সালাম খানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আবেদন জানিয়ে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই পুকুরগুলিতে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ মাছের চাষ চলছিল এবং এর পিছনে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ হোমওয়ার্ক না করার ‘শাস্তি’! শিক্ষিকার চড়ে শ্রেণিকক্ষেই মৃত্যু ৬ বছরের খুদে পড়ুয়ার
প্রশাসনের বক্তব্য, এই অভিযান শুধুমাত্র একটি অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করার জন্য নয়। (Thai Magur)এর পিছনে রয়েছে জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত উদ্বেগও। থাই মাগুর দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে এবং স্থানীয় জলজ পরিবেশের উপর এর প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফলে নিষিদ্ধ এই প্রজাতির চাষ বন্ধ করতে নজরদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মৎস্য দফতর।
নাগপুরে অবশ্য এই প্রথম এত বড় অভিযান নয়। গত তিন মাসে বিভিন্ন অভিযানে মোট প্রায় ৫১ টন থাই মাগুর নষ্ট করা হয়েছে বলে মৎস্য দফতরের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে একবারে ৩৬ টনেরও বেশি মাছ উদ্ধার হওয়ায় এটিকে ওই অঞ্চলের অন্যতম বড় অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে।