চিনির দাম বাড়ার কারণ ইথানল নয়, জানাল কেন্দ্র সরকার - 24 Ghanta Bangla News
Home

চিনির দাম বাড়ার কারণ ইথানল নয়, জানাল কেন্দ্র সরকার

Spread the love

নয়াদিল্লি: দেশে সাম্প্রতিক সময়ে চিনির দাম (Sugar Price) বৃদ্ধির জন্য ইথানল উৎপাদনে চিনি সরিয়ে নেওয়াকে দায়ী করার দাবি খারিজ করল কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে,…

নয়াদিল্লি: দেশে সাম্প্রতিক সময়ে চিনির দাম (Sugar Price) বৃদ্ধির জন্য ইথানল উৎপাদনে চিনি সরিয়ে নেওয়াকে দায়ী করার দাবি খারিজ করল কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, চিনির দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হল প্রত্যাশার তুলনায় কম উৎপাদন, উৎসবের মরসুমে চাহিদা বৃদ্ধি, আখের ক্ষতি এবং কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারি।

২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা। ২০ আগস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। দাম আরও বাড়া ঠেকাতে সরকার ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীদের মজুতের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করেছে, কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমোদন দিয়েছে এবং চিনিকলগুলিতে মজুতের পরিমাণ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক জানিয়েছে, চিনির দাম বৃদ্ধিকে ইথানল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করা “ভুল”।

ইথানলের জন্য চিনি সরানোর পরিমাণ কমেছে

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ চিনি মরসুমে ইথানল উৎপাদনের জন্য সরিয়ে নেওয়া চিনির পরিমাণ কমে প্রায় ৯ শতাংশ হয়েছে। ২০২২-২৩ সালে এই হার ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। সরকার আরও জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের মোট ইথানল উৎপাদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে শস্য থেকে। এর মধ্যে ভুট্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, দেশে চিনির দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম দেশীয় উৎপাদন, উৎসবের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার কারণে আখের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং কিছু শিল্প সংস্থার মজুতদারি।

Also Read | আগামী ৪-৫ বছরে পূর্ব রেলওয়েতে ১২ হাজার কোটির প্রকল্প অনুমোদন কেন্দ্রের

প্রত্যাশার তুলনায় কমেছে চিনি উৎপাদন

চলতি মরসুমে দেশে চিনি উৎপাদন প্রায় ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অথচ আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির প্রাথমিক অনুমান ছিল ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন। আখের ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে রেড রট এবং টপ বোরার রোগ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জল জমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। তবে উৎপাদন কমলেও দেশে থাকা বর্তমান চিনির মজুত নতুন আখ মাড়াইয়ের মরসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছে সরকার। নতুন মাড়াইয়ের মরসুম অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা।

বিশ্ববাজারেও চিনির দাম বাড়ছে

কেন্দ্র জানিয়েছে, শুধু ভারতেই নয়, বিশ্ববাজারেও চিনির সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালে বিশ্ব চিনির বাজারে প্রায় ৩৩ লক্ষ মেট্রিক টন ঘাটতি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারেও চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ৩০ জুন প্রতি টন চিনির দাম ছিল ৪৭৪ ডলার। ২০ আগস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৫৫২ ডলার, অর্থাৎ ১৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে।

Also Read | ২৪ সেপ্টেম্বরেই নিউ টাউনে শিলান্যাস হতে পারে ২০০০ বেডের আদানি আরোগ্য মন্দিরের

দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের একাধিক পদক্ষেপ

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে ব্যবসায়ীদের জন্য ৪০০ টন মজুতের সীমা নির্ধারণ করেছে। এই নিয়ম ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে বড় পরিমাণে চিনি ব্যবহারকারী সংস্থাগুলি ১৫ দিনের ব্যবহারের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবে না।

মজুতদারি এবং কৃত্রিমভাবে বাজারে ঘাটতি তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের যৌথ দল চিনিকলগুলিতে গিয়ে মজুত পরীক্ষা করছে। এর পাশাপাশি দেশীয় বাজারে সরবরাহ বাড়াতে কেন্দ্র ১০ লক্ষ মেট্রিক টন বা ১০ এলএমটি কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

উৎসবের মরসুমে সরবরাহ বাড়াতে রাজ্য এবং চিনিকলগুলিকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে মাড়াইয়ের মরসুম শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অক্টোবর মাসে চিনি উৎপাদন ১০ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি হতে পারে বলে আশা করছে সরকার। সাধারণত এই সময়ে উৎপাদন হয় ৩-৫ লক্ষ মেট্রিক টন।

ইথানল কর্মসূচির পক্ষেই সওয়াল কেন্দ্রের

ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির পক্ষেও সওয়াল করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির ফলে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত চিনি মজুতের সমস্যা কমেছে এবং চিনিকলগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ভারতে সাধারণত বছরে ৩২০-৩৪০ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ২৮০-২৯০ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে অতিরিক্ত চিনি মজুত থাকলে চিনিকলগুলির কার্যকরী মূলধন আটকে যায় এবং আখচাষিদের পাওনা মেটাতেও দেরি হতে পারে।

কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০ আগস্ট পর্যন্ত ২০২৫-২৬ মরসুমের ৯৭ শতাংশ আখচাষির পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, চিনিশিল্পের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সরকারি সহায়তার উপর নির্ভরতাও কমেছে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে চিনিকলগুলিকে প্রায় ১৪,৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও ২০২১-২২ সালের পর নতুন করে এই ধরনের কোনও ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়নি।

কেন্দ্রের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ গ্রাহকের জন্য চিনির দামও মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৩ শতাংশ হারে দাম বেড়েছে।

চিনির মজুত, দাম এবং বাজারের গতিবিধির উপর নজরদারি চলবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। মজুতদারি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানোর পাশাপাশি আখচাষিদের পাওনা সময়মতো মেটানো নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *